দিনাজপুরের বিরলে ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বখাটে তাপস চন্দ্র শীল গ্রেপ্তার.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

দিনাজপুরের বিরলে ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বখাটে তাপস চন্দ্র শীল গ্রেপ্তার..

Abu Rayhan avatar   
Abu Rayhan
দিনাজপুরের বিরলে ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বখাটে তাপস চন্দ্র শীল গ্রেপ্তার..
দিনাজপুরের বিরলে ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বখাটে তাপস চন্দ্র শীল গ্রেপ্তার..
ছবি: সংগৃহীত

দিনাজপুরের বিরলে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ১১ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে তাপস চন্দ্র শীল (৩২) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের পর..

দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় এক মর্মান্তিক ও ন্যক্কারজনক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে, যেখানে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ১১ বছরের এক শিশুকে একা পেয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালিয়েছে তাপস চন্দ্র শীল নামের এক বখাটে যুবক। গত সোমবার বিকেলে উপজেলার ১০ নম্বর রাণীপুকুর ইউনিয়নের রাঙ্গন সুসেনপাড়া এলাকায় এই পৈশাচিক ঘটনা ঘটে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি সেদিন স্কুল ছুটির পর যথারীতি নিজ বাড়িতে ফিরছিল। পথিমধ্যে অভিযুক্ত তাপস চন্দ্র শীল তার পথরোধ করে বিভিন্ন ধরনের কুরুচিপূর্ণ ও অনৈতিক প্রস্তাব দেয়। অবুঝ শিশুটি তার সেই প্রস্তাবে অস্বীকৃতি জানালে লম্পট তাপস জোরপূর্বক তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে পার্শ্ববর্তী একটি পরিত্যক্ত টিনের ঘরে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায় এবং সেখানে ধর্ষণের অপচেষ্টা চালায়। শিশুটির জীবন রক্ষার্থে দেওয়া তীব্র আর্তচিৎকার ও কান্নাকাটি একপর্যায়ে আশপাশের লোকজনের কানে পৌঁছায়, যার ফলে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে আসেন। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে এবং স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে লম্পট তাপস দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, তবে স্থানীয়দের সাহসিকতা ও তাৎক্ষণিক তৎপরতায় শেষ রক্ষা হয়নি। স্থানীয় এলাকাবাসী সম্মিলিতভাবে ধাওয়া করে অভিযুক্ত তাপসকে আটক করতে সক্ষম হন এবং পরবর্তীতে থানা পুলিশকে খবর দিয়ে তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে সঁপে দেন। এই আকস্মিক ও ন্যক্কারজনক ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অপরাধ সংঘটনের পরদিন মঙ্গলবার ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বিরল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এবং বিরল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল এমরান গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন যে, গ্রেপ্তারকৃত আসামiniকে যথাযথ পুলিশ প্রহরায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই ধরনের পৈশাচিক অপরাধ সমাজের ভিত্তিমূলে আঘাত হানে এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিদ্যমান ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই দ্রুত পদক্ষেপ প্রশংসনীয় হলেও, এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে কেবল গ্রেপ্তারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা দূর করা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সমাজ ও রাষ্ট্রে নারী এবং শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে না পারলে এই ধরনের অপরাধমূলক মানসিকতা আরও বিস্তার লাভ করবে, যা সমগ্র জাতির জন্যই এক অশনি সংকেত। শিশুদের মনস্তাত্ত্বিক ট্রমা এবং তাদের দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসনের বিষয়টিও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে, যাতে তারা এই বিভীষিকাময় স্মৃতি কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে। ভবিষ্যতে বিরলসহ দেশের প্রতিটি অঞ্চলে এমন জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রশাসনের সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা বজায় রাখার জোরালো দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল ও মানবাধিকার কর্মীরা।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator