জনগণের মতামত উপেক্ষা করলে সরকার ও জনপ্রতিনিধিরা পথ হারাবেন: আইনমন্ত্রী.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

জনগণের মতামত উপেক্ষা করলে সরকার ও জনপ্রতিনিধিরা পথ হারাবেন: আইনমন্ত্রী..

রবি ডাকুয়া avatar   
রবি ডাকুয়া
জনগণের মতামত উপেক্ষা করলে সরকার ও জনপ্রতিনিধিরা পথ হারাবেন: আইনমন্ত্রী..
জনগণের মতামত উপেক্ষা করলে সরকার ও জনপ্রতিনিধিরা পথ হারাবেন: আইনমন্ত্রী..
ছবি: সংগৃহীত

বাগেরহাটে এক মতবিনিময় সভায় আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সতর্ক করে বলেছেন যে, জনগণের কথা না শুনলে সরকার পথ হারাবে এবং বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি রোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।..

মঙ্গলবার সকালে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জেলার উন্নয়ন বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, জনগণের মতামতকে গুরুত্ব না দিলে সরকার ও জনপ্রতিনিধিরা তাদের সঠিক রাজনৈতিক পথ থেকে বিচ্যুত হতে পারেন। নির্দিষ্ট তথ্যানুযায়ী, ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এই সভায় জেলার সার্বিক প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে মন্ত্রী রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক দায়িত্বশীলতার প্রসঙ্গটি অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরেন। তিনি তার বক্তব্যে স্মরণ করিয়ে দেন যে, দেশের জনগণ তাদের ভোটাধিকার ও সমর্থনের মাধ্যমে যে গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছে, তা যথাযথভাবে পালনের জন্য সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর শোনার কোনো বিকল্প নেই। প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে আসা এই মন্তব্য বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, বিশেষ করে যখন নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় জনগণের সম্পৃক্ততা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পরিচালনা করার তাগিদ থেকেই এই সভার মূল বক্তব্যের সূচনা ঘটেছিল, যা পুরো প্রশাসনিক কাঠামোকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে।

ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার সুদূরপ্রসারী ও ভয়াবহ পরিণতি তুলে ধরে আইনমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন যে, অতীতে যেভাবে দেশের মানুষকে স্বজন হারানোর বেদনা ও মায়েদের বুক খালি হওয়ার ট্র্যাজেডির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, ভবিষ্যতে সেই অন্ধকার ইতিহাসের যেন আর কোনো পুনরাবৃত্তি না ঘটে। তিনি গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন যে, মতপার্থক্য রাজনৈতিক দলের মধ্যে থাকতেই পারে, কিন্তু রাষ্ট্রের মৌলিক নিরাপত্তা, নাগরিক স্বাধীনতা এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের দীর্ঘমেয়াদী বঞ্চনা এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের যে সংস্কৃতি অতীতে গড়ে উঠেছিল, তার কঠোর সমালোচনা করে তিনি ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক মতবিরোধকে পাশ কাটিয়ে দেশের স্বার্থে এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে ফ্যাসিবাদের পথ চিরতরে রুদ্ধ করার জন্য তিনি সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। মন্ত্রী মনে করেন, জনগণের মৌলিক অধিকার খর্ব করে কিংবা তাদের মতামতকে অবমূল্যায়ন করে কোনো প্রশাসনই দীর্ঘমেয়াদে জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে পারে না, বরং তা সমাজে বিভাজন ও অস্থিরতা তৈরি করে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় কেবল রাজনৈতিক দর্শনই নয়, বরং জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং চলমান নানা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বাস্তব চিত্রও গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ তাদের স্ব স্ব অবস্থান থেকে জেলার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা মন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন এবং এর একটি কার্যকর প্রশাসনিক সমাধান কামনা করেন। আইনমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সকলের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শুনে এবং জেলার সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়ে বলেন যে, মাঠ পর্যায়ের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা প্রশাসনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। স্থানীয় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের সাথে এই ধরনের সরাসরি মতবিনিময় কেবল উন্নয়নমূলক কাজের গতিকেই ত্বরান্বিত করে না, বরং নীতিনির্ধারক ও সাধারণ মানুষের মধ্যকার দূরত্ব কমিয়ে একটি আস্থার পরিবেশ তৈরি করতেও বিশেষভাবে সহায়তা করে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হলে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে জনকল্যাণমুখী মানসিকতা বজায় রাখা এবং স্থানীয় জনগণের মৌলিক চাহিদাগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা জরুরি বলে সভায় ঐকমত্য প্রকাশ করা হয়।

পরিশেষে, আইনমন্ত্রীর এই হুশিয়ারি ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য কেবল বাগেরহাট জেলার জন্যই নয়, বরং জাতীয় রাজনীতির সামগ্রিক গতিপ্রকৃতির ওপর একটি গভীর প্রভাব ফেলতে বাধ্য। জনগণের অংশগ্রহণ ও মতামতের পূর্ণ মূল্যায়ন ব্যতিরেকে কোনো রাষ্ট্রযন্ত্র বা সরকার যে তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে না, এই সত্যটি বারবার প্রমাণিত হয়েছে এবং মন্ত্রী তা নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। সুশাসন, আইনের শাসন এবং একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখতে হলে ফ্যাসিবাদের যে কোনো উপদ্রবকে শুরুতেই প্রতিহত করতে হবে এবং জনপ্রতিনিধিদের সবসময় জনগণের কাছাকাছি থাকতে হবে। বাংলাদেশ তার কাঙ্ক্ষিত গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের দিকে কতটুক সফলভাবে এগোতে পারবে, তা মূলত নির্ভর করবে রাষ্ট্র পরিচালনা ও জনমতের মধ্যে কেমন সেতুবন্ধন রচিত হয় তার ওপর। দিনশেষে, জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং তাদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল একটি শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও প্রগতিশীল রাষ্ট্র বিনির্মাণ করা সম্ভব, যার কোনো বিকল্প নেই।

Hiçbir yorum bulunamadı


News Card Generator