ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে ২৬০ পিস ইয়াবাসহ তিন কারবারি গ্রেপ্তার, ডিবির অভিযানে চাঞ্চল্য.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে ২৬০ পিস ইয়াবাসহ তিন কারবারি গ্রেপ্তার, ডিবির অভিযানে চাঞ্চল্য..

হাসিনুজ্জামান মিন্টু avatar   
হাসিনুজ্জামান মিন্টু
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে ২৬০ পিস ইয়াবাসহ তিন কারবারি গ্রেপ্তার, ডিবির অভিযানে চাঞ্চল্য..
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে ২৬০ পিস ইয়াবাসহ তিন কারবারি গ্রেপ্তার, ডিবির অভিযানে চাঞ্চল্য..
ছবি: সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বিশেষ অভিযানে ২৬০ পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।..

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ২৬০ পিস ইয়াবাসহ তিন কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার বাচোঁর ইউনিয়নের কাতিহার বাজার এলাকার আনসারুল ইসলামের বাড়িতে এই অভিযান পরিচালিত হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির একটি চৌকস দল ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে লিলি আক্তার (৪২), নয়ন আলী (২৮) ও রওশন জামিল (২৬) নামের তিনজনকে আটক করে। পুলিশের প্রাথমিক তল্লাশিতে তাদের দখল থেকে ২৬০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়, যা এই অঞ্চলে মাদক চক্রের সক্রিয় উপস্থিতির বিষয়টি আবারও জোরালোভাবে সামনে এনেছে। গ্রেপ্তারকৃত তিনজনই উপজেলার রাজোর এলাকার বাসিন্দা বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এই ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষ মাদক কারবারিদের এমন বেপরোয়া কার্যকলাপে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অপরাধের এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযানে আটককৃতদের বিরুদ্ধে রাণীশংকৈল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তাদের কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা আরও বাড়াতে হবে, কারণ খোদ লোকালয়ের ভেতরে এ ধরনের মাদক কেনাবেচা প্রমাণ করে যে কারবারিরা যথেষ্ট বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ডিবির এই সফল অভিযান প্রশংসনীয় হলেও, এই চক্রের মূল হোতাদের আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত মাদকের এই অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, শুধু চুনোপুঁটি বা বাহকদের গ্রেপ্তার করলেই মাদকের মূল শেকড় উৎখাত করা সম্ভব নয়, এর পেছনে থাকা গডফাদারদের চিহ্নিত করে আইনের কঠোর থাবা বসাতে হবে। মাদক কারবারিরা কীভাবে স্থানীয় একটি আবাসিক বাড়িতে এত বড় মাদকের চালান মজুত করার সুযোগ পেল, তা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে তাদের এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কোনো মাদক কারবারিকে ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশ প্রশাসনের এমন কঠোর অবস্থানের পরও কেন স্থানীয় পর্যায়ে মাদকের বিস্তার ঠেকানো যাচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশাসনিক নজরদারির ঘাটতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার সময় এসেছে। সমাজ সচেতনমহল মনে করছেন, কেবল নিয়মিত মামলা ও গ্রেপ্তারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততায় একটি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। যুবসমাজকে রক্ষা করতে হলে মাদক সরবরাহের প্রতিটি রুট ও সিন্ডিকেট ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টায় যদি এই চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তার করা না যায়, তবে এই অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।

মাদকদ্রব্যের এই অবৈধ কারবারের কারণে রাণীশংকৈল উপজেলার যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পতিত হচ্ছে এবং এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সামগ্রিক সামাজিক শৃঙ্খলার ওপর। অপরাধ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পাশাপাশি পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক কার্যক্রমে এগিয়ে আসতে হবে, নতুবা এই ধরনের অভিযান সাময়িক স্বস্তি দিলেও স্থায়ী কোনো সমাধান আনবে না। অবিলম্বে এই ঘটনার নিরপেক্ষ ও গভীর তদন্তের মাধ্যমে নেপথ্যের নায়কদের মুখোশ উন্মোচন করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন ঘৃণ্য অপরাধ করার সাহস না পায়। ঠাকুরগাঁও জেলাজুড়ে মাদকের ছোবল থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে গোয়েন্দা নজরদারি আরও শাণিত করার কোনো বিকল্প নেই।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator