মহাখালীতে ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকোর পরিত্যক্ত ভবনে আকস্মিক আগুন, তৎপর ফায়ার সার্ভিস.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

মহাখালীতে ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকোর পরিত্যক্ত ভবনে আকস্মিক আগুন, তৎপর ফায়ার সার্ভিস..

Abdullah Al Mamun avatar   
Abdullah Al Mamun
মহাখালীতে ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকোর পরিত্যক্ত ভবনে আকস্মিক আগুন, তৎপর ফায়ার সার্ভিস..
মহাখালীতে ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকোর পরিত্যক্ত ভবনে আকস্মিক আগুন, তৎপর ফায়ার সার্ভিস..
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মহাখালী রেলগেট সংলগ্ন এস কে টাওয়ারের পেছনে একটি পরিত্যক্ত বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট কাজ শুরু করেছে।..

রাজধানীর মহাখালী রেলগেট এলাকায় এস কে টাওয়ার তথা এস কে শপিং মলের পেছনের অংশে অবস্থিত ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো কোম্পানির একটি পরিত্যক্ত সাত তলা ভবনে হঠাৎ করেই আগুন লাগার মারাত্মক ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ১১টার দিকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ এই অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ প্রাপ্ত হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তেজগাঁও ফায়ার স্টেশন থেকে তিনটি অগ্নিনির্বাপক ইউনিট দ্রুততম সময়ের মধ্যে দুর্ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। জনবহুল এই এলাকায় অবস্থিত একটি পরিত্যক্ত ভবনে এমন আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ফলে চারপাশের সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও চরম উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে, যা রাজধানী ঢাকায় ক্রমবর্ধমান অগ্নিঝুঁকি এবং ভবন নিরাপত্তা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের অবহেলাকেই পুনরায় অত্যন্ত স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। ঘনবসতিপূর্ণ মহাখালীর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও আবাসিক মিশ্র এলাকায় এই ধরনের পরিত্যক্ত অবকাঠামোয় পর্যাপ্ত ফায়ার সেফটি ও তদারকির চরম অভাবের ফলেই মূলত এই ধরণের দুর্ঘটনা ঘটার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হচ্ছে বলে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন। তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ কিংবা হতাহতের কোনো প্রাথমিক খবর পাওয়া না গেলেও, ভবনটির ভেতরে বা আশপাশে কোনো দাহ্য পদার্থ বা ময়লা-আবর্জনা স্তূপীকৃত ছিল কি না, তা নিয়ে গভীর সন্দেহের অবকাশ থেকেই যায়। ঘনবসতিপূর্ণ এই মহানগরীতে একের পর এক পরিত্যক্ত ও অবহেলিত ভবন এভাবে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে পরিণত হওয়ায় সাধারণ নাগরিকদের জীবনযাত্রা চরম নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়ছে এবং দিনের পর দিন এই পরিস্থিতি আরও বেশি জটিল আকার ধারণ করছে।

এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মহাখালী এলাকার সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী এবং পথচারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে, কারণ এস কে শপিং মল ও সংলগ্ন এলাকায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, পরিত্যক্ত ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় সেখানে কোনো ধরনের রক্ষণাবেক্ষণের বা নিরাপত্তার বালাই ছিল না, যা এই ধরনের বিপদের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এ রকম অসংখ্য পরিত্যক্ত কিংবা অর্ধনির্মিত ভবন বছরের পর বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে, অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা ভবন মালিকরা কখনো সেগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেন না। এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাগুলো মাদকসেবীদের আড্ডাখানা বা ময়লার ডাস্টবিনে পরিণত হওয়ায় সেখান থেকে সহজেই শর্টসার্কিট কিংবা অন্য কোনো উপায়ে আগুন লাগার আশঙ্কা চিরকালই বিদ্যমান থাকে। একই দিনে ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে একটি বহুতল বাণিজ্যিক ভবনের অ্যাপেক্স শোরুমে এবং মহাখালীর এই ঘটনায় প্রমাণ হয় যে, রাজধানীজুড়ে ফায়ার সেফটি প্রোটোকল বাস্তবায়নে ব্যাপক ফাঁকফোকর রয়ে গেছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উদাসীনতাই এই ধরণের বারবার আগুন লাগার প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় জনতা অবিলম্বে এই সমস্ত পরিত্যক্ত ভবনের তালিকা তৈরি করে সেগুলোর মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের মারাত্মক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।

খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তেজগাঁও ফায়ার স্টেশনের ইউনিটগুলোর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করার বিষয়টি প্রশংসনীয় হলেও, এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে স্থায়ী ও কঠোর প্রশাসনিক নজরদারির কোনো বিকল্প নেই বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আগুন লাগার মূল সূত্রপাত কোথায় এবং কীভাবে হয়েছে তা তদন্ত সাপেক্ষে খুব শীঘ্রই উদঘাটন করা সম্ভব হবে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণেও কাজ চলছে। তবে কেবল আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসের কসরত দিয়ে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, বরং ভবন মালিক এবং রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাকে নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে এই ধরনের পরিত্যক্ত ভবনগুলোকে ঝুঁকিমুক্ত ঘোষণা করতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক বাণিজ্যিক ও পরিত্যক্ত ভবনে অগ্নিকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি রোধে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং সিটি কর্পোরেশনকে আরও বেশি কঠোর ও প্রো-অ্যাক্টিভ ভূমিকা পালন করতে হবে যাতে সাধারণ মানুষকে প্রতিমুহূর্তে অগ্নিকাণ্ডের আতঙ্কে দিন কাটাতে না হয়। অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার এই চরম ঘাটতি চলতে থাকলে তা অদূর ভবিষ্যতে আরও বড় কোনো মহাবিপর্যয়ের ডেকে আনতে পারে, যা রোধ করতে এখনই নীতিনির্ধারক ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।

রাজধানীর মহাখালীতে ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকোর পরিত্যক্ত ভবনে ঘটা এই অগ্নিকাণ্ড নিছক কোনো ছোট দুর্ঘটনা নয়, বরং এটি সমগ্র নগরবাসীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর একটি স্পষ্ট ও গুরুতর সতর্কবার্তা। দিনের পর দিন এ ধরনের ঘটনা জনজীবনে যে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, তা থেকে উত্তরণের জন্য কঠোর আইনি কাঠামো এবং তার সঠিক প্রয়োগের কোনো বিকল্প নেই। সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশকে নিরাপদ রাখতে হলে প্রতিটি পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিষয়ে অবিলম্বে হটলাইনভিত্তিক মনিটরিং এবং দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। পরিশেষে, ফায়ার সার্ভিসের সময়োপযোগী তৎপরতা বড় ধরনের প্রাণহানি বা মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সাহায্য করলেও, এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি চিরতরে বন্ধ করতে হলে নগর ব্যবস্থাপনার প্রতিটি স্তরে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

No se encontraron comentarios


News Card Generator