কোটি টাকার হাসপাতাল নির্মাণের চেয়ে খাদ্যে ভেজাল রোধে রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকারের দাবি.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

কোটি টাকার হাসপাতাল নির্মাণের চেয়ে খাদ্যে ভেজাল রোধে রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকারের দাবি..

Akhter Hossain avatar   
Akhter Hossain
কোটি টাকার হাসপাতাল নির্মাণের চেয়ে খাদ্যে ভেজাল রোধে রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকারের দাবি..
কোটি টাকার হাসপাতাল নির্মাণের চেয়ে খাদ্যে ভেজাল রোধে রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকারের দাবি..
ছবি: সংগৃহীত

অসুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসার চেয়ে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করে রোগ প্রতিরোধে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম বিভাগের সভাপতি জাফর ইকবাল।..

দেশে ক্রমবর্ধমান অসুস্থতার হার এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর অতিনির্ভরশীলতা কমিয়ে আনতে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করাকে রাষ্ট্রের প্রাথমিক দায়িত্ব হিসেবে চিহ্নিত করেছেন সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম বিভাগের সভাপতি জাফর ইকবাল। সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন যে, কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে হাসপাতাল নির্মাণ বা শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর চেয়ে খাদ্যে ভেজাল বন্ধ করা অনেক বেশি কার্যকর এবং সাশ্রয়ী কৌশল। মূলত অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণের ফলেই জনস্বাস্থ্যের একটি বিশাল অংশ দীর্ঘমেয়াদী জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে, যা রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। তাই চিকিৎসা পরবর্তী সেবার চেয়ে রোগ প্রতিরোধের ওপর জোর দিয়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জরুরি ও যৌক্তিক পদক্ষেপ হওয়া উচিত বলে তিনি মত দিয়েছেন।

খাদ্যে ভেজাল মিশ্রণকে কেবল ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘন হিসেবে নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি পরিকল্পিত হুমকি হিসেবে দেখছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল। জাফর ইকবালের মতে, ভেজাল খাদ্য উৎপাদন, মজুত ও বাজারজাতকরণের ফলে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শারীরিক ও মানসিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বাজারের অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিকের উপস্থিতি থাকলেও তার বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের হার অত্যন্ত নগণ্য। এই বাস্তবতায়, কেবলমাত্র হাসপাতাল বা চিকিৎসার ওপর নির্ভরশীলতা বাড়িয়ে জনস্বাস্থ্যের বিপর্যয় রোধ করা সম্ভব নয়, বরং রোগের মূল উৎস বা ভেজাল খাদ্য সরবরাহ চেইন ভেঙে ফেলাই এখন সময়ের দাবি।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা এবং আইনের শিথিল প্রয়োগ খাদ্যে ভেজালের প্রবণতাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। জাফর ইকবাল জোর দিয়ে বলেছেন যে, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার দায়িত্ব কেবল সরকারের একার নয়, বরং উৎপাদক, ব্যবসায়ী, ভোক্তা ও সচেতন নাগরিকসহ সকল স্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বিদ্যমান খাদ্য নিরাপত্তা আইনসমূহের কঠোর প্রয়োগ এবং নিয়মিত বাজার নজরদারি নিশ্চিত করার মাধ্যমে ভেজালকারী চক্রের দমনে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা অপরিহার্য। একই সঙ্গে, খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন যে, দায়সারা অভিযানে সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ, তাই দীর্ঘমেয়াদী ও নিয়মিত তদারকির কোনো বিকল্প নেই।

পরিশেষে, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে কেবল স্বাস্থ্য অবকাঠামোর বিস্তার ঘটানো একটি অসমাপ্ত উন্নয়ন প্রক্রিয়া হিসেবেই গণ্য হবে। নিরাপদ খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি এখন আর কোনো বিচ্ছিন্ন ইস্যু নয়, বরং এটি জাতীয় জনস্বাস্থ্য রক্ষার প্রধান হাতিয়ার। যদি এখনই খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা না হয়, তবে আগামী প্রজন্মকে এক ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকটের মুখোমুখি হতে হবে। তাই চিকিৎসা খাতের উন্নয়নের পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে একটি সুস্থ ও নিরাপদ জাতি গঠনের লক্ষ্যে রাষ্ট্রকে দ্রুত কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

Tidak ada komentar yang ditemukan


News Card Generator