নরসিংদীতে নিজ কন্যাকে ছয় মাস ধরে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ: লম্পট পিতার… | আই নিউজ বিডি

নরসিংদীতে নিজ কন্যাকে ছয় মাস ধরে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ: লম্পট পিতার বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ..

Mohammad mojnu sarkar avatar   
Mohammad mojnu sarkar
নরসিংদীতে নিজ কন্যাকে ছয় মাস ধরে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ: লম্পট পিতার বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ..
নরসিংদীতে নিজ কন্যাকে ছয় মাস ধরে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ: লম্পট পিতার বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ..
ছবি: সংগৃহীত
নরসিংদীর শিলমান্দীতে ১৪ বছর বয়সী মাদরাসাপড়ুয়া কন্যাকে দীর্ঘ ছয় মাস ধরে ধর্ষণের অভিযোগে নিজ পিতাকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করা হয়েছে, যিনি ঘটনার ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করতেন।..

নরসিংদী সদর উপজেলার শিলমান্দী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে এক কিশোরীকে দীর্ঘ ছয় মাস ধরে ধর্ষণের অভিযোগে তার নিজের পিতা হালিম মিয়াকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পেশায় মিশুকচালক হালিম মিয়া তার দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে থাকা ১৪ বছর বয়সী মাদরাসাপড়ুয়া কন্যাকে দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও জিম্মি করে এই পাশবিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি সুকৌশলে মেয়ের মায়ের প্রবাসে থাকার সুযোগ গ্রহণ করেন এবং সৎ মা যখন ঘরের বাইরে থাকতেন, সেই সময়টিকে কাজে লাগিয়ে জোরপূর্বক এই অপকর্ম সম্পন্ন করতেন। কেবল ধর্ষণ করেই ক্ষান্ত হননি, বরং নিজের মোবাইলে এই ন্যক্কারজনক ঘটনার ভিডিও ধারণ করে রাখতেন তিনি, যা ব্যবহার করে মেয়েটিকে মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হতো। পারিবারিক কাঠামোর ভেতরেই এমন জঘন্য ঘটনার পুনরাবৃত্তি স্থানীয় জনমনে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ভাষ্যমতে, এই বীভৎস ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে যখন অভিযুক্ত হালিম মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রীর বড় মেয়ে সন্তানসম্ভবা অবস্থায় বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। ঘটনার দিন পরিবারের অন্য সদস্যদের অনুপস্থিতিতে অসাবধানতাবশত হালিম মিয়ার মোবাইল ফোনটি হাতে পান ওই সৎ বোন। ফোনটি ঘাঁটাঘাঁটি করতে গিয়ে তিনি ভিডিও গ্যালারিতে নিজের ছোট বোনের ওপর চালানো ধর্ষণের ভিডিও চিত্রগুলো দেখতে পান। এই দৃশ্য দেখার পর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয় এবং ভুক্তভোগী কিশোরী দীর্ঘদিনের এই অবর্ণনীয় নির্যাতনের কথা প্রকাশ করতে বাধ্য হয়। কিশোরীর অভিযোগ, বাবা তাকে প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দিতেন এবং ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে তাকে চুপ থাকতে বাধ্য করতেন। এই অমানবিক পরিস্থিতি মেয়েটির মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর যে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, অভিভাবকের ছত্রছায়ায় বেড়ে ওঠার বদলে মেয়েটি নিজ পিতার কাছেই চরম নিরাপত্তাহীনতার শিকার হয়েছে, যা সামাজিক অবক্ষয়ের এক চরম বহিঃপ্রকাশ।

এদিকে, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত হালিম মিয়ার শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। তারা অভিযোগ করেছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি এলাকায় মিশুক চালক হিসেবে পরিচিত থাকলেও তার চারিত্রিক স্খলন আগে থেকেই অনেকের সন্দেহের তালিকায় ছিল। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং পুলিশ প্রশাসন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে বলেছেন, একজন পিতার দ্বারা নিজ সন্তানের ওপর এমন পাশবিকতা কেবল আইন লঙ্ঘন নয়, বরং এটি নৈতিকতার চূড়ান্ত অধঃপতন। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এই বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় না দিয়ে অভিযুক্তকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করবে বলে স্থানীয়রা প্রত্যাশা করছেন। এছাড়া ভুক্তভোগী কিশোরীর আইনি সুরক্ষা ও প্রয়োজনীয় কাউন্সিলিংয়ের বিষয়টিও এখন জরুরি ভিত্তিতে বিবেচনার দাবি রাখে।

এই ঘটনাটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়, বরং এটি পারিবারিক ও সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে সামনে এসেছে। অভিভাবকের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের পরিবর্তে যখন কেউ নিজেই ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তখন সমাজ ও পরিবারের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। নরসিংদীর এই ঘটনা ভবিষ্যতে অভিভাবকত্বের নৈতিকতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং শিশু সুরক্ষায় পারিবারিক সচেতনতার প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরালো করেছে। এই ঘটনার বিচারিক প্রক্রিয়া কত দ্রুত সম্পন্ন হয় এবং ভুক্তভোগী মেয়েটি পুনরায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে কি না, তা এখন দেখার বিষয়। অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই পারে ভবিষ্যতে এ ধরনের জঘন্য ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে এবং সমাজে ভুক্তভোগী কিশোরীর মতো অন্য শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।

Aucun commentaire trouvé


News Card Generator