মৌলভীবাজারে স্বামীর সহায়তায় বন্ধু কর্তৃক গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণ: গ্রেপ্তার ২.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

মৌলভীবাজারে স্বামীর সহায়তায় বন্ধু কর্তৃক গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণ: গ্রেপ্তার ২..

সঞ্জয় মালাকার avatar   
সঞ্জয় মালাকার
মৌলভীবাজারে স্বামীর সহায়তায় বন্ধু কর্তৃক গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণ: গ্রেপ্তার ২..
মৌলভীবাজারে স্বামীর সহায়তায় বন্ধু কর্তৃক গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণ: গ্রেপ্তার ২..
ছবি: সংগৃহীত

মৌলভীবাজারের রাজনগরে বিয়ের প্রলোভন ও কৌশলে স্ত্রীকে বন্ধুর হাতে তুলে দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে স্বামী ও তার বন্ধুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী গৃহবধূর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ..

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের করিমপুর চা-বাগানে এক গৃহবধূকে স্বামী ও তার বন্ধুর যোগসাজশে দীর্ঘ সময় ধরে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। গত ১০ মার্চ ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে বিয়ের পর থেকেই সাজন মুন্ডা নামের ওই স্বামী তার বন্ধু অজয় গোয়ালার সহায়তায় স্ত্রীকে পরিকল্পিতভাবে নির্যাতনের শিকার বানিয়ে আসছিলেন। ঘটনার সূত্রপাত বিয়ের মাত্র দুই দিন পর ১২ মার্চ রাতে, যখন স্বামী সাজন নিজ ঘরে বন্ধু অজয়কে প্রবেশ করিয়ে বাইরে থেকে দরজা আটকে দেন। ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের আগে থেকেই সাজন তাকে কুপ্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং বিয়ের পর সেই অশুভ পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করেন। স্বামী নিজেই এই জঘন্য অপরাধে সরাসরি সহযোগিতা করেছেন এবং ঘটনাটি প্রকাশ করলে ভুক্তভোগীকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিলেন। রাজনগর থানা পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কেবল করিমপুর চা-বাগানেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং পরবর্তীতে সিলেটে চাকরির সুবাদে স্থান পরিবর্তনের পরও অভিযুক্তরা তাদের পাশবিকতা অব্যাহত রেখেছিল।

ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের পর থেকেই তিনি চরম অসহায়ত্বের মধ্যে দিনাতিপাত করছিলেন। স্বামী সাজন মুন্ডা এবং তার বন্ধু অজয় গোয়ালা তাকে জিম্মি করে একাধিকবার শারীরিক নির্যাতনের শিকার বানিয়েছেন। এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে অভিযুক্তরা তাকে গোপনে তার পিতৃগৃহে রেখে আসার চেষ্টা করে এবং একতরফাভাবে বিবাহবিচ্ছেদের পাঁয়তারা শুরু করে। স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি আপস-মীমাংসার ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালানোর পর ভুক্তভোগী নারী আইনি আশ্রয়ের পথ বেছে নেন। তিনি জানিয়েছেন, স্বামী ও তার বন্ধুর এই অমানবিক কর্মকাণ্ড তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে এবং তাদের এই অপরাধের কারণে তার ব্যক্তিগত ও সামাজিক মর্যাদা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। চা-বাগানের মতো প্রান্তিক জনপদে এ ধরনের ঘটনা নারীদের নিরাপত্তা ও পারিবারিক কাঠামোর চরম অবক্ষয়কে সামনে নিয়ে এসেছে, যেখানে স্বামী নিজেই রক্ষক থেকে ভক্ষকে পরিণত হয়েছে।

অভিযোগ পাওয়ার পরপরই রাজনগর থানা পুলিশ দ্রুত তৎপরতা শুরু করে। রাজনগর থানার অফিসার ইনচার্জ এনামুল হক চৌধুরীর দিকনির্দেশনায় এসআই আলমগীর কবিরের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল করিমপুর চা-বাগানে অভিযান চালিয়ে সাজন মুন্ডা ও অজয় গোয়ালাকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের ভাষ্যমতে, নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো স্পর্শকাতর অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করার সুযোগ নেই এবং আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং মামলার পরবর্তী আইনি ধাপগুলো সম্পন্ন করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অপরাধীদের অতীত কর্মকাণ্ড এবং তাদের এই জঘন্য অপরাধের পেছনের সকল তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে যাতে আদালত থেকে তারা কোনোভাবেই পার না পায় এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।

এই ঘটনাটি সমাজে নারীর নিরাপত্তা এবং আইনি সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। স্বামীর হাতে স্ত্রী নির্যাতনের ঘটনা পারিবারিক সম্পর্কের নৈতিক অবক্ষয়ের একটি চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। মৌলভীবাজারের চা-বাগান অধ্যুষিত এলাকায় এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে সামাজিক সচেতনতা এবং প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এখন সময়ের দাবি। ভুক্তভোগী গৃহবধূ বর্তমানে বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন, যেখানে তার ওপর চালানো শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের যথাযথ বিচার পাওয়া এখন সময়ের দাবি। এই মামলার রায় অপরাধীদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে এবং একই সাথে সমাজের অন্যান্য ভুক্তভোগীদের আইনি লড়াইয়ে সাহস জোগাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Geen reacties gevonden


News Card Generator