এক হাজার সাতাইশ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে জেনারেল জিয়াউল আহসান… | আই নিউজ বিডি

এক হাজার সাতাইশ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে জেনারেল জিয়াউল আহসান: রাষ্ট্রযন্ত্রের আড়ালে এক সিরিয়াল কিলারের উত্থান..

Mohammad mojnu sarkar avatar   
Mohammad mojnu sarkar
এক হাজার সাতাইশ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে জেনারেল জিয়াউল আহসান: রাষ্ট্রযন্ত্রের আড়ালে এক সিরিয়াল কিলারের উত্থান..
এক হাজার সাতাইশ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে জেনারেল জিয়াউল আহসান: রাষ্ট্রযন্ত্রের আড়ালে এক সিরিয়াল কিলারের উত্থান..
ছবি: সংগৃহীত
সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও র‍্যাবের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ১০২৭ জনকে নিজ হাতে হত্যার ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে, যা তাকে ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস সিরিয়াল কিলার হিসেবে চিহ্নিত করেছে।..

বাংলাদেশের ইতিহাসে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের এক অন্ধকার অধ্যায়ের প্রধান কারিগর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও র‍্যাবের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান। প্রাপ্ত তথ্য ও প্রত্যক্ষদর্শী জবানবন্দি অনুযায়ী, তিনি সুপরিকল্পিতভাবে ১০২৭ জন মানুষকে হত্যা করেছেন, যা বিশ্ব অপরাধ ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জিয়ার খুনের ধরণ ছিল অত্যন্ত পাশবিক ও সুকৌশলী; তিনি সাধারণত মাঝনদীতে নৌকায় নিয়ে ভুক্তভোগীদের মাথায় গুলি করতেন অথবা ইনজেকশন পুশ করে মৃত্যু নিশ্চিত করতেন। লাশ যেন কখনো ভেসে না ওঠে, সেজন্য তিনি মৃতদেহের পেট কেটে ইটের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলে দেওয়ার মতো নৃশংস পদ্ধতি অবলম্বন করতেন। তার এই অমানবিক কর্মকাণ্ডের মূল লক্ষ্য ছিল কোনো প্রকার আলামত অবশিষ্ট না রাখা, যা তাকে ইতিহাসের অন্যান্য কুখ্যাত সিরিয়াল কিলারদের তুলনায় অনেক বেশি ভয়ংকর করে তুলেছে।

ভুক্তভোগী ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী র‍্যাব কর্মকর্তাদের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে জিয়াউল আহসানের একচ্ছত্র ক্ষমতার দাপট ও মানবিকতাহীন আচরণের চিত্র। প্রত্যক্ষদর্শী এক র‍্যাব অফিসার জানিয়েছেন, জিয়া তাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন নিরস্ত্র তরুণদের মাথায় গুলি করার জন্য, যা তিনি অস্বীকার করেছিলেন। এরপর জিয়া নিজেই অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় সেই তরুণদের হত্যা করেন। কেবল সাধারণ নাগরিক বা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষই নয়, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মতো স্পর্শকাতর ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সেনা কর্মকর্তাদেরও তিনি একইভাবে গুম ও হত্যা করেছেন। সুন্দরবনে মাছের পেটে লাশ ফেলে দেওয়ার কথা তিনি গর্বের সাথে স্বীকার করতেন এবং নিজের এই প্রতিটি অপকর্মের পেছনে তৎকালীন সরকার প্রধানের সরাসরি নির্দেশ থাকার দাবি করতেন। তার এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে যে, রাষ্ট্রযন্ত্রের উচ্চপদস্থ চেয়ারে বসে তিনি কীভাবে আইনকে তুচ্ছজ্ঞান করে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করেছেন।

সম্প্রতি আদালতে হাজির হওয়ার সময় জিয়াউল আহসানের আচরণ ছিল চরম অবজ্ঞাপূর্ণ, যেখানে তিনি নিজের বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগকে নো গিল্টি হিসেবে দাবি করেছেন। দীর্ঘ সময় ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে পার পেয়ে গেলেও, বর্তমানে তাকে প্রথমবারের মতো হ্যান্ডকাফ পরিহিত অবস্থায় দেখা গেছে, যা বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ। সংশ্লিষ্ট মহল ও আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, জিয়াউল আহসান ও ওসি প্রদীপের মতো ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড কেবল মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়, বরং রাষ্ট্রকাঠামোর ওপর এক ভয়াবহ আঘাত। তার এই বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে আসা এসব অপরাধী ভবিষ্যতে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও রাজনীতির জন্য নতুন করে হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশ্বের কুখ্যাত সিরিয়াল কিলারদের তালিকায় জিয়াউল আহসানের অবস্থান এখন শীর্ষ পর্যায়ে, যা বাংলাদেশের জন্য এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। কলম্বিয়ার পেদ্রো লোপেজ বা এইচ এইচ হোমস—যাদের অপরাধের মাত্রা দুইশ জনের কাছাকাছি, তাদের তুলনায় জিয়াউল আহসানের ১০২৭ জনের হত্যাকাণ্ডের রেকর্ড মানবসভ্যতার ইতিহাসে নজিরবিহীন। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় কেনা অস্ত্র ও রাষ্ট্রীয় লজিস্টিক ব্যবহার করে এই দীর্ঘমেয়াদী হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে, যা রাষ্ট্রের আইনি কাঠামোর চরম ব্যর্থতাকে নির্দেশ করে। এখন চূড়ান্ত বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই সিরিয়াল কিলারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে, ন্যায়বিচারের ধারণাটিই সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ থেকে যাবে।

Walang nakitang komento


News Card Generator