ফরিদগঞ্জে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস ও মামলার ফাঁদ | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ফরিদগঞ্জে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস ও মামলার ফাঁদ

Abdul Kadir  avatar   
Abdul Kadir
ফরিদগঞ্জে   স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস ও মামলার ফাঁদ
ফরিদগঞ্জে   স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস ও মামলার ফাঁদ
ছবি: সংগৃহীত

আইনি ফাঁদ তৈরি করে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে আলোচিত এক নারীর আসল মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে। কোথাও জোসনা বেগম, কোথাও মর্জিনা আবার কোথাও আমেনা পরিচয়ে চলাফেরা করা এই নারী নিজেকে অসহায় বিধবা দাবি করে যু..

 

 

স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস ও মামলার ফাঁদ: 
অবশেষে জনরোষে ধরা পড়লেন কথিত বিধবা জোসনা ও সাক্ষী বোরহান

আইনি ফাঁদ তৈরি করে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে আলোচিত এক নারীর আসল মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে। কোথাও জোসনা বেগম, কোথাও মর্জিনা আবার কোথাও আমেনা পরিচয়ে চলাফেরা করা এই নারী নিজেকে অসহায় বিধবা দাবি করে যুবকদের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিনব সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। চাহিদা অনুযায়ী টাকা না পেলে ধর্ষণ বা পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করাই ছিল তার মূল পেশা।

সর্বশেষ ফয়সাল নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও ধর্ষণের মামলা করার পর থেকেই নড়েচড়ে বসে স্থানীয়রা। শুরু হয় তার অপকর্মের অনুসন্ধান।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। এর আগে কড়ৈতুলি গ্রামে তিন সন্তানের জনকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশন করেছিলেন এই নারী। সেখানে এক ব্যক্তির কাছে ৩০ লাখ টাকা দাবি করে প্রতারক চক্রটি। ফলে বাধ্য হয়ে   গ্রাম ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন  ভুক্তভোগী ওই ব্যক্তি।

এদিকে ফয়সালকে ফাঁসানো মামলার এজাহারে সাক্ষী  বোরহান উদ্দিন ও তার স্ত্রী শিউলি বেগম। অথচ অনুসন্ধানে জানা যায়, মামলার সাক্ষী বোরহানের সাথেই দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বিভিন্ন স্থানে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছেন জোসনা বেগম। সর্বশেষ তারা সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাজেদা বেগমের বাসায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ছিলেন এবং কয়েক মাস আগে সেই বাসা ছাড়েন। বর্তমানে জোসনা বেগমের দোতলা বাসার নিচ তলাতেই ভাড়া থাকেন এই বোরহান শিউলি দম্পতি  দম্পতি। বোরহান উদ্দিন নিজ স্ত্রী জোসনার বাসায় রেখে বাড়ির মালিক জোসনা বেগমকে স্ত্রী পরিচয়ে বিভিন্ন স্থানে অসামাজিক কাজ করে বেড়াচ্ছেন। 

তাদের এহেন রহস্যজনক ও সন্দেহজনক আচরণে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর জেরে গত ২৮ আগস্ট শুক্রবার রাতে ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার আল মদিনা হাসপাতালের পাশের একটি বাসার তৃতীয় তলার কক্ষে তাদের অবরুদ্ধ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় তাদের সম্পর্কের বৈধ কাগজপত্র বা বিয়ের কোনো প্রমাণ চাওয়া হলে তারা তা দেখাতে ব্যর্থ হন।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আমিনউল্লাহ মিজি শনিবার বিয়ের কাবিননামা দেখানোর মুচলেখা দিয়ে সে রাতে জনতা ও পুলিশের হাত থেকে তাদের উদ্ধার করেন।

তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে বিয়ের কোনো বৈধ ডকুমেন্ট বা প্রমাণপত্র উপস্থাপন করা যায়নি। মূল কথা হলো, যে জোসনা বেগম নিরীহ যুবক ফয়সালের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা ঠুকেছেন, সেই মামলার ১ নম্বর সাক্ষী বোরহান উদ্দিন নিজেই জোসনার সাথে মাসের পর মাস স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত। প্রতারক চক্রের এই চাঞ্চল্যকর সিন্ডিকেট ও মিথ্যা মামলার নেপথ্যের কুশীলবদের কঠোর আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator