গাজীপুরে জামাইয়ের কুড়ালের আঘাতে বৃদ্ধ শ্বশুরকে হত্যা, এলাকায় শোক ও উত্তেজনা.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

গাজীপুরে জামাইয়ের কুড়ালের আঘাতে বৃদ্ধ শ্বশুরকে হত্যা, এলাকায় শোক ও উত্তেজনা..

MD MOLLAH avatar   
MD MOLLAH
গাজীপুরে জামাইয়ের কুড়ালের আঘাতে বৃদ্ধ শ্বশুরকে হত্যা, এলাকায় শোক ও উত্তেজনা..
গাজীপুরে জামাইয়ের কুড়ালের আঘাতে বৃদ্ধ শ্বশুরকে হত্যা, এলাকায় শোক ও উত্তেজনা..
ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের কালীগঞ্জে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে মজিদ মোড়ল নামক এক বৃদ্ধ কলা ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে তার জামাই মোজাম্মেল হোসেন।..

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জামালপুর কলাপট্টি এলাকায় শুক্রবার বিকেলে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে পারিবারিক কলহের জেরে মজিদ মোড়ল (৭০) নামক এক কলা ব্যবসায়ীকে তার নিজ দোকানেই কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেল চারটার দিকে অভিযুক্ত জামাই মোজাম্মেল হোসেন ওরফে মুজা সরকার একটি ট্রলি ব্যাগে করে কুড়াল লুকিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং অতর্কিতভাবে শ্বশুর মজিদ মোড়লের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্বপরিকল্পিতভাবে ব্যাগ থেকে কুড়াল বের করে বৃদ্ধকে এলোপাতাড়ি কোপানোর পর ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে পালিয়ে যান ঘাতক। গুরুতর জখম অবস্থায় মজিদ মোড়লকে দ্রুত জামালপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতাল ও পরবর্তীতে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডটি স্থানীয় জনমনে গভীর আতঙ্ক ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের তথ্যমতে, অভিযুক্ত মোজাম্মেল হোসেন দীর্ঘ সময় ধরে তার স্ত্রী শাহানাজ বেগমের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন, যার মূল কারণ হিসেবে মাদকাসক্তিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্যাতনের মাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছালে শাহানাজ বেগম তার বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন, যা জামাই মোজাম্মেলের ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, শাহানাজ বাবার বাড়িতে অবস্থান করলেও মোজাম্মেল নিয়মিত তাকে উত্ত্যক্ত করতেন এবং শ্বশুর মজিদ মোড়ল এই অমানবিক আচরণের প্রতিবাদ করায় তাদের মধ্যে চরম বিরোধ সৃষ্টি হয়। মজিদ মোড়লের ছেলে বিল্লাল হোসেন মোড়ল জানান, মূলত স্ত্রীর ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানো এবং শ্বশুর বাড়ির লোকজনের কঠোর অবস্থানের প্রতিশোধ নিতেই মোজাম্মেল এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে। পারিবারিক কলহের জেরে একজন বৃদ্ধকে এভাবে প্রকাশ্যে হত্যার বিষয়টি এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে এবং নারী নির্যাতনের ভয়াবহ পরিণতির নগ্ন রূপ ফুটে উঠেছে এই ঘটনায়।

ঘটনার পরপরই কালীগঞ্জ থানার পুলিশ প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তৎপরতা শুরু করেছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল হক জানান, হত্যাকাণ্ডের পরপরই ঘাতক ট্রলি ব্যাগটি ঘটনাস্থলে ফেলে পালিয়ে যাওয়ায় সেটি আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে এবং অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। স্থানীয় সমাজ সচেতন ব্যক্তিরা এই ঘটনার বিচার চেয়ে প্রশাসনের কাছে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে পারিবারিক বিরোধের নামে এ ধরনের নৃশংসতা আর না ঘটে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অপরাধীর অবস্থান শনাক্তকরণে সব ধরনের প্রযুক্তিগত সহায়তা নেওয়া হচ্ছে এবং যেকোনো মূল্যে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। অপরাধীর মাদকাসক্তি এবং পারিবারিক অস্থিরতার যোগসূত্র নিয়ে পুলিশি তদন্ত আরও গভীর করা হয়েছে, যাতে অপরাধের প্রকৃত মোটিভ পরিষ্কার হয়।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি কেবল একটি পরিবারের বিপর্যয় নয়, বরং স্থানীয় সমাজ কাঠামোয় পারিবারিক মূল্যবোধ ও আইন-শৃঙ্খলার অবনতির একটি অশনি সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। একজন বৃদ্ধ ব্যবসায়ীকে কর্মস্থলে ঢুকে হত্যার ঘটনাটি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে এবং এলাকাটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, পারিবারিক সহিংসতা এবং মাদক নির্মূলে সামাজিক সচেতনতার অভাবই এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কাজ করছে। মজিদ মোড়লের মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকাবাসী গভীরভাবে শোকাহত এবং তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে খুনি মোজাম্মেলের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন। এই ঘটনার বিচারিক প্রক্রিয়া কত দ্রুত সম্পন্ন হয় এবং অপরাধী কঠোর শাস্তি পায় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয় স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator