যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র শুল্কযুদ্ধ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডীয় পণ্যের ওপর নতুন করে ৫০ শতাংশ শুল্কারোপ করেছেন, যার জবাবে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে মার্কিন ইস্পাত, দুগ্ধজাত পণ্য, গৃহস্থালি সামগ্রী ও ইলেকট্রনিক্সে সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক বসানোর ঘোষণা দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি আকস্মিক এই পাল্টাপাল্টি সিদ্ধান্ত ও বাণিজ্য উত্তেজনার ফলে সীমান্তরেখার দুই পারেই কোটি কোটি ডলারের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে
কানাডার আলবার্টার ক্যালগারিভিত্তিক অলঙ্কার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান 'সিন্ডি-লু-হু-২'-এর মালিক সিন্ডি বালডাসি জানান, তাঁর বিক্রির ৭৫ শতাংশই আসে আমেরিকান ক্রেতাদের কাছ থেকে ট্রাম্পের নতুন শুল্কের মুখে টিকে থাকতে পণ্যের দাম ৫০ শতাংশ বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন তিনি, যার ফলে তাঁর ব্যবসার অর্ধেকেরও বেশি অংশ একলহমায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে অন্যদিকে টরন্টোর পোশাক ব্র্যান্ড 'আউটক্লাস'-এর প্রতিষ্ঠাতা মাত্তেও সগারামেলা জানান, আগাম অর্ডার করা পণ্যে হঠাৎ ৫০ শতাংশ বাড়তি মাশুল যুক্ত হলে মার্কিন ক্রেতারা চালান নিতে অস্বীকার করবেন তাঁর মতে, বড় কোম্পানিগুলো কোনো মতে পথ খুঁজে পেলেও এই শুল্কের আঘাতে গুঁড়িয়ে যাবে ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলো
গত শুক্রবার আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর কার্যকর হওয়া মার্কিন শুল্কের আওতায় পড়েছে কানাডার প্রায় ২ হাজার কোটি মার্কিন ডলার (২৮ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার) মূল্যের রপ্তানি পণ্য, যা যুক্তরাষ্ট্রে কানাডার বার্ষিক মোট রপ্তানির প্রায় ৫ শতাংশ এর মাধ্যমে কানাডীয় ওয়াইন, দুগ্ধজাত পণ্য, সিমেন্ট, পোশাক ও হকি সরঞ্জামাদি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উল্লেখ্য, কানাডার মোট পণ্য রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশই যায় যুক্তরাষ্ট্রে, ফলে দুপাশে পাল্টাপাল্টি আমদানি কর বৃদ্ধির কারণে কানাডার অর্থনীতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মুখে পড়েছে
শুল্কযুদ্ধের ক্ষতিকর প্রভাব কেবল কানাডাতেই সীমাবদ্ধ নেই, সমানভাবে ধকল সামলাচ্ছেন মার্কিন ব্যবসায়ীরাও ওরেগনের পোর্টল্যান্ডে অবস্থিত 'পালোমা ক্লোথিং'-এর মালিকপক্ষ জানান, কানাডা থেকে আনা তাঁদের সেরা উপহার সামগ্রীর দাম শুল্কের কারণে অস্বাভাবিক বেড়ে যাবে, যা ক্রেতারা মেনে নেবেন না ক্যালিফোর্নিয়ার 'তেরে রুজ ওয়াইনস'-এর মালিক বিল ইস্টন কানাডীয় বর্জনের মুখে দীর্ঘ দেড় বছর ধরে ওয়াইন পাঠাতে না পেরে প্রতি মাসে ২,৪০০ ডলার গুদাম ভাড়া গুনছেন এছাড়া ওয়াশিংটনের বেলিংহামে সীমান্তঘেঁষা শপ 'নর্থওয়েস্ট ইয়ার্নস অ্যান্ড মারকেন্টাইল'-এর মালিক হেদার সিভার্স জানান, কানাডাবিরোধী বক্তব্যের কারণে তাঁদের কানাডীয় গ্রাহক ২০ শতাংশ কমে গেছে এবং প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে এখন স্থানীয় তহবিল সংগ্রহের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে