যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি কি ধ্বংসের মুখে? দেখা দিয়েছে ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ সংকট!.... | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি কি ধ্বংসের মুখে? দেখা দিয়েছে ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ সংকট!....

রাসেল মাহমুদ  avatar   
রাসেল মাহমুদ
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি কি ধ্বংসের মুখে? দেখা দিয়েছে ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ সংকট!....
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি কি ধ্বংসের মুখে? দেখা দিয়েছে ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ সংকট!....
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে এক নজিরবিহীন সংকটের মুখোমুখি। দেশটির জাতীয় ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবি..

বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতি হিসেবে পরিচিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে এক গভীর অর্থনৈতিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়েছে। দেশটির জাতীয় ঋণের পরিমাণ ইতিমধ্যেই আকাশচুম্বী হয়ে ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করতে চলেছে। আন্তর্জাতিক আর্থিক বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদরা এই পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, মার্কিন সরকারের মাত্রাতিরিক্ত ঋণ গ্রহণের এই প্রবণতা কেবল দেশটির অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকেই নয়, বরং পুরো বিশ্ব অর্থনীতিকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে প্রখ্যাত ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক অঙ্কিত অবস্থি যুক্তরাষ্ট্রের এই ঋণ সংকটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন। তার মতে, যেভাবে মার্কিন জাতীয় ঋণ বাড়ছে, তাতে ভবিষ্যতে এই ঋণের সুদ পরিশোধ করতেই জিডিপির একটা বড় অংশ চলে যাবে। এর ফলে দেশটির অভ্যন্তরীণ উন্নয়নমূলক কাজ, সামাজিক নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা খাতের বাজেট মারাত্মকভাবে সংকুচিত হতে পারে। মার্কিন সরকারের মাত্রাতিরিক্ত ব্যয় এবং বাজেট ঘাটতি এই সংকটকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।

মার্কিন ডলার বিশ্ব বাণিজ্যের প্রধান মুদ্রা হওয়ায় এই সংকটের প্রভাব কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিশ্ববাজারে ডলারের আধিপত্য এবং এর মুদ্রাস্ফীতির কারণে উন্নয়নশীল ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোতে আমদানির খরচ বেড়ে যেতে পারে। তাছাড়া, বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা মার্কিন ট্রেজারি বন্ড নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন, যা আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। অনেক দেশ ইতিমধ্যে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প মুদ্রায় বাণিজ্যের দিকে ঝুঁকেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন নীতিনির্ধারকরা যদি দ্রুত কার্যকর কোনো আর্থিক সংস্কার বা কঠোর ব্যয় সংকোচন নীতি গ্রহণ না করেন, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তবে রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে হোয়াইট হাউজ এবং কংগ্রেসে বড় ধরনের কোনো অর্থনৈতিক সংস্কার পাস করা বর্তমানে অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে। ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকানদের রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে ঋণসীমা বাড়ানো বা কমানোর বিষয় নিয়ে প্রায়ই অচলাবস্থা তৈরি হচ্ছে।

পরিশেষে বলা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ সংকট কেবল একটি দেশের অর্থনৈতিক সমস্যা নয়, এটি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক বড় সতর্কবার্তা। বিশ্বায়নের এই যুগে আমেরিকার অর্থনীতিতে সামান্য টানাপোড়েনও সারা পৃথিবীর বাজারে প্রভাব ফেলে। সুতরাং, বর্তমান পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক অর্থনীতিবিদ ও বিশ্বনেতাদের নজর এখন ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই রয়েছে, কারণ এই সংকটের সমাধান না হলে তা বিশ্বকে এক নতুন অর্থনৈতিক মহামন্দার দিকে নিয়ে যেতে পারে।

সোর্স: youtu.be

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator