জনপ্রিয় ইউটিউবার ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ধ্রুব রাঠী সম্প্রতি তার চ্যানেলে হিপনোসিস বা সম্মোহন নিয়ে একটি অনুসন্ধানী ভিডিও প্রকাশ করেছেন। সাধারণত সিনেমা বা নাটকে হিপনোসিসকে জাদুকরী কোনো পদ্ধতি হিসেবে দেখানো হয়, যার মাধ্যমে সহজেই যে কাউকে বশে আনা যায়। কিন্তু বাস্তব চিত্রটি পুরোপুরি ভিন্ন। বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে বিষয়টি ব্যাখ্যা করে ধ্রুব রাঠী দেখিয়েছেন কীভাবে মানুষের মন কাজ করে এবং সম্মোহন আসলে বাস্তব জীবনে কীভাবে প্রভাব ফেলে।
ভিডিওটিতে হিপনোসিসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং এর মনস্তাত্ত্বিক ভিত্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এতে তুলে ধরা হয়েছে যে, হিপনোসিস কোনো অলৌকিক ক্ষমতা নয়, বরং এটি মানব মস্তিষ্কের স্বাভাবিক মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করার একটি বিশেষ অবস্থা। সম্মোহনের সময় মানুষ পুরোপুরি অচেতন থাকে না, বরং তার অবচেতন মন বাহ্যিক বিষয়ের প্রতি বেশি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে থেরাপি হিসেবে অনেক সময় এই পদ্ধতির সফল ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
তবে মানুষের মনে সবচেয়ে বড় যে প্রশ্নটি ঘুরেফিরে আসে, তা হলো হিপনোসিসের মাধ্যমে কি আসলেই কারও মন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব? বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে এই ভিডিওতে পরিষ্কার করা হয়েছে যে, কেউ ইচ্ছা না করলে তাকে জোর করে হিপনোতাইজ করা বা তার কাছ থেকে অপরাধমূলক কাজ করিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। হলিউড বা বলিউডের সিনেমাগুলোতে হিপনোসিসকে যেভাবে অতিপ্রাকৃত রূপে উপস্থাপন করা হয়, তা মূলত কাল্পনিক এবং বাস্তবতার সাথে এর দূরতম সম্পর্কও নেই।
এদিকে, এই ভিডিওর বিবরণে ধ্রুব রাঠী তার একটি অনলাইন ইউটিউব কোর্সের প্রচারও করেছেন, যেখানে কন্টেন্ট ক্রিয়েশনকে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নেওয়ার বিভিন্ন কলাকৌশল শেখানো হচ্ছে। তবে তার মূল ভিডিওর বিষয়বস্তু হিসেবে বিজ্ঞান ও মনস্তত্ত্বের এই চমৎকার বিশ্লেষণ দর্শকদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে। হিপনোসিস নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে থাকা নানা ধরনের কুসংস্কার ও ভ্রান্ত ধারণা দূর করতে এই প্রতিবেদনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সোর্স: www.youtube.com