চট্টগ্রামে পথশিশুদের অপরাধজগতে বিচরণ: মাদক ও সিন্ডিকেটের কবলে ধ্বংস হচ্ছে শৈশব.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

চট্টগ্রামে পথশিশুদের অপরাধজগতে বিচরণ: মাদক ও সিন্ডিকেটের কবলে ধ্বংস হচ্ছে শৈশব..

Akhter Hossain avatar   
Akhter Hossain
চট্টগ্রামে পথশিশুদের অপরাধজগতে বিচরণ: মাদক ও সিন্ডিকেটের কবলে ধ্বংস হচ্ছে শৈশব..
চট্টগ্রামে পথশিশুদের অপরাধজগতে বিচরণ: মাদক ও সিন্ডিকেটের কবলে ধ্বংস হচ্ছে শৈশব..
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পথশিশু-কিশোরদের ডান্ডি গাম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে।..

চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ, বন্দরটিলা, বহদ্দারহাট ও ফৌজদারহাটের মতো জনবহুল ও বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে পথশিশু-কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ নগরবাসীর নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, ডান্ডি গামের মতো নেশায় আসক্ত এসব শিশু-কিশোর প্রকাশ্যে চলন্ত ট্রাক থেকে মালামাল চুরি, ছিনতাই এবং তুচ্ছ কারণে সহিংসতার মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে আগ্রাবাদ এলাকায় পুলিশের ওপর কিশোরদের হামলার ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, অপরাধের পরিধি এখন কেবল ছোটখাটো চুরিতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করার মতো পর্যায়ে পৌঁছেছে। মূলত মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতা এবং অপরাধীচক্রের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় এসব শিশু তাদের শৈশব হারিয়ে একটি অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হচ্ছে, যা নগরীর সামগ্রিক সামাজিক কাঠামোর জন্য অশনি সংকেত।

ভুক্তভোগী মহল ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ অনুযায়ী, অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়া এসব শিশুর পেছনে শক্তিশালী কোনো সিন্ডিকেট কাজ করছে যারা নেশার টাকা সংগ্রহের জন্য শিশুদের ব্যবহার করছে। এসব শিশুর একটি বড় অংশ পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা ও চরম দারিদ্র্যের শিকার হওয়ায় খুব সহজেই অপরাধীচক্রের প্রলোভনে পা দিচ্ছে। সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, চট্টগ্রাম বিভাগের সভাপতি জাফর ইকবালের মতে, নগরীতে থাকা এসব পথশিশুর প্রকৃত সংখ্যা এবং তাদের পারিবারিক পটভূমি সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যভাণ্ডার না থাকায় পুনর্বাসনের উদ্যোগগুলো আলোর মুখ দেখছে না। ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, দিনের বেলা রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো এসব কিশোর রাতের আঁধারে সংঘবদ্ধ অপরাধে লিপ্ত হয়, যা সাধারণ মানুষের চলাচলকে বিপজ্জনক করে তুলছে এবং দীর্ঘমেয়াদে তাদের অপরাধী হিসেবে গড়ে তুলছে।

ঘটনাটির ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে সচেতন মহলে। জাফর ইকবালের মতো সমাজকর্মীদের দাবি, শাস্তিমূলক ব্যবস্থার চেয়েও বেশি প্রয়োজন একটি সমন্বিত পুনর্বাসন প্রক্রিয়া, যার আওতায় শিশুদের চিকিৎসা, কাউন্সেলিং, শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেবল আইনি কঠোরতা প্রদর্শন না করে মাদকাসক্তি নিরাময় ও অপরাধীচক্রের উৎস চিহ্নিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে মাঠ পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগের অভাব স্পষ্ট, কারণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর মধ্যে কাজের সমন্বয় না থাকায় এসব শিশুকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াটি বারবার ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত ডেটাবেজ তৈরি এবং শিশুদের নিরাপদ আশ্রয়ের নিশ্চয়তা বিধান না করলে এই সমস্যার সমাধান অসম্ভব হয়ে পড়বে।

পরিশেষে, পথশিশু-কিশোরদের এই অপরাধপ্রবণতা যদি এখনই নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তবে অদূর ভবিষ্যতে চট্টগ্রাম নগরী এক ভয়াবহ অপরাধী প্রজন্মের মুখোমুখি হবে। একটি শিশুকে অপরাধের পথ থেকে সরিয়ে সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে আনা কেবল মানবিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি ভবিষ্যতের একটি বড় সম্ভাবনাকে রক্ষা করার শামিল। নগরবাসী মনে করেন, কেবল দায়সারা উদ্যোগ নয়, বরং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করাই এই সমস্যার একমাত্র টেকসই সমাধান। শিশুর হাতে অপরাধের উপকরণ নয়, বরং শিক্ষার আলো ও স্বপ্নের হাতছানি পৌঁছে দিতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সম্মিলিত অংশগ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

Akhter Hossain
Akhter Hossain ago 1 month
প্রশাসনের নজরদারি প্রয়োজন
1 0 پاسخ
بیشتر نشان بده، اطلاعات بیشتر


News Card Generator