চট্টগ্রামে স্ট্রিট ফুডের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও আইনি তদারকি নিশ্চিতের দাবি: জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

চট্টগ্রামে স্ট্রিট ফুডের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও আইনি তদারকি নিশ্চিতের দাবি: জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ..

Akhter Hossain avatar   
Akhter Hossain
চট্টগ্রামে স্ট্রিট ফুডের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও আইনি তদারকি নিশ্চিতের দাবি: জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ..
চট্টগ্রামে স্ট্রিট ফুডের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও আইনি তদারকি নিশ্চিতের দাবি: জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ..
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামে স্ট্রিট ফুডের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিরসনে বিক্রেতাদের প্রশিক্ষণ, নির্দিষ্ট ফুড জোন স্থাপন ও কার্যকর তদারকির দাবিতে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।..

চট্টগ্রাম মহানগরীর জনবহুল এলাকাগুলোতে যত্রতত্র গড়ে ওঠা স্ট্রিট ফুড বা ভাসমান খাবারের দোকানগুলোতে স্বাস্থ্যবিধির চরম অবহেলা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ১৫ আগস্ট সকালে চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এক সেমিনারে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির চিত্র উঠে আসে। সেমিনারে বক্তারা জানান, রাস্তার পাশের খাবারগুলো জনপ্রিয় হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে এগুলো প্রস্তুত ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা হচ্ছে না। অনিরাপদ পানি, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, খাবার সংরক্ষণের অনুপযুক্ত পদ্ধতি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চরম ঘাটতি এসব খাবারকে বিষাক্ত করে তুলছে। মূলত শহরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এসব ভাসমান দোকানের ওপর কোনো ধরনের আইনি তদারকি না থাকায় সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত পানিবাহিত ও খাদ্যবাহিত রোগের ঝুঁকিতে পড়ছেন, যা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

ভুক্তভোগী সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, কর্মব্যস্ত জীবনে স্বল্পমূল্যের স্ট্রিট ফুড তাদের দৈনন্দিন খাবারের বড় অংশ দখল করে নিয়েছে, কিন্তু এর বিপরীতে তারা স্বাস্থ্যঝুঁকিকে সঙ্গী করতে বাধ্য হচ্ছেন। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ডা. তাসমিমা মমতাজসহ অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন যে, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি ও সংরক্ষণের ফলে টাইফয়েড, কলেরা ও ডায়রিয়ার মতো রোগগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বিক্রেতাদের কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ না থাকায় এবং নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার মতো কোনো অবকাঠামো না থাকায় এই সমস্যা প্রকট হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের মতে, কেবল আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করলেই হবে না, বরং বিক্রেতাদের কর্মসংস্থানের দিকটি বিবেচনা করে তাদের সচেতন করা এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। অধিকাংশ স্ট্রিট ফুড বিক্রেতা জনবহুল ফুটপাতে এবং খোলা আকাশের নিচে খাবার তৈরি করেন, যেখানে ধুলোবালি ও যানবাহনের ধোঁয়া খাবারের গুণমানকে সম্পূর্ণ নষ্ট করে ফেলে, যা দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্যের বড় ধরনের ক্ষতি করছে।

এই পরিস্থিতির উত্তরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের দায়বদ্ধতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন সেমিনারে উপস্থিত অতিথিরা। চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ ফজলে রাব্বি ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহমুদা আকতারসহ সংশ্লিষ্টরা জানান, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকা বন্ধ না করে বরং তাদের একটি নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসাই এখন মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। বক্তারা দাবি জানিয়েছেন, সরকারি উদ্যোগে বিক্রেতাদের স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ক বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে এবং শহরের নির্দিষ্ট এলাকায় ‘ফুড জোন’ তৈরি করতে হবে। এছাড়া, নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে খাবারের মান যাচাই করা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, তা কতটুকু মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়িত হবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল, কারণ অতীতের উদ্যোগগুলো কেবল আলোচনার টেবিলেই সীমাবদ্ধ থেকেছে।

স্ট্রিট ফুডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং মানবাধিকার কর্মীদের মতে, কেবল প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়, প্রয়োজন সমন্বিত সরকারি উদ্যোগ ও কঠোর আইনি তদারকি। নগরীর প্রতিটি মোড়ে মোড়ে গড়ে ওঠা এসব খাবারের দোকানের মান নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নগরীর সৌন্দর্য ও শৃঙ্খলাও বজায় থাকবে। যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে ফুড জোন স্থাপন এবং বিক্রেতাদের স্বাস্থ্যবিধি পালনে বাধ্য করা না যায়, তবে চট্টগ্রামের জনস্বাস্থ্য খাত আরও সংকটের মুখে পড়বে। তাই অবিলম্বে একটি দীর্ঘমেয়াদী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ এবং তার কঠোর বাস্তবায়নই এখন নগরবাসীর একমাত্র প্রত্যাশা।

Tidak ada komentar yang ditemukan


News Card Generator