ম্যারিকো বাংলাদেশের এমডির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে শ্রম আদালতে আবেদন.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ম্যারিকো বাংলাদেশের এমডির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে শ্রম আদালতে আবেদন..

আরিশা ইসলাম avatar   
আরিশা ইসলাম
ম্যারিকো বাংলাদেশের এমডির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে শ্রম আদালতে আবেদন..
ম্যারিকো বাংলাদেশের এমডির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে শ্রম আদালতে আবেদন..
ছবি: সংগৃহীত
Workers Seek Travel Ban on Marico MD Over Tk 14.81 Billion in Unpaid Dues

শ্রমিকদের আইনগত পাওনা পরিশোধ না করে বিপুল মুনাফা ও নগদ লভ্যাংশ বিতরণ এবং বিচারাধীন মামলার মধ্যে অর্থ-সম্পদ ভারতে স্থানান্তরের আশঙ্কার অভিযোগ তুলে ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)-এর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে শ্রম আদালতে আবেদন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ঢাকার ১ম শ্রম আদালতে বিএলএ মামলা নং ৮৬৫/২০২৫-এ এ আবেদন করা হয়। আবেদনকারীদের দাবি, মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আদালতের অনুমতি ছাড়া কোম্পানির এমডির বাংলাদেশ ত্যাগে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হোক।

 

সাবেক শ্রমিকদের অভিযোগ, ২০০৬ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেডের শ্রমিক মুনাফা অংশগ্রহণ তহবিল (WPPF) ও শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের আইনগত পাওনা থেকে তারা দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর ধরে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। পাওনা আদায়ের দাবিতে প্রথমে ১৯ জন শ্রমিক ২০১৪ সালে শ্রম আদালতে মামলা নং ৬৯১/২০১৪ দায়ের করেন। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন নং ৫৭৬/২০১৮ নিষ্পত্তি না হওয়ায় ওই মামলার বিচারিক কার্যক্রম দীর্ঘ সময় বাধাগ্রস্ত হয়। এরপর প্রতিকারের আশায় আরও ৯৪ জন সাবেক শ্রমিক ২০২৫ সালে বিএলএ মামলা নং ৮৬৫/২০২৫ দায়ের করেন।

 

আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, একটি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্মের স্বতন্ত্র নিরীক্ষা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত ৯৪ জন সাবেক শ্রমিকের মোট পাওনা প্রায় ১,৪৮১ কোটি টাকা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় শ্রমিকদের আইনগত পাওনা অনাদায়ী থাকলেও একই সময়ে কোম্পানি বিপুল পরিমাণ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা ও বিতরণ করেছে। শ্রমিকদের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২০০ শতাংশ, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩,৮৪০ শতাংশ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২,০৭৫ শতাংশ পর্যন্ত নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে।

 

শ্রমিকদের আশঙ্কা, বিপুল নগদ লভ্যাংশ বিতরণ এবং ভারতে অর্থ স্থানান্তরের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আদালতের রায় তাদের পক্ষে গেলেও পাওনা আদায় জটিল হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে কোম্পানির বর্তমান এমডি একজন ভারতীয় নাগরিক এবং নিয়মিত বিদেশ সফর করেন উল্লেখ করে বিষয়টি আদালতের বিবেচনায় নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। তবে আবেদনকারীরা বলছেন, তারা কারও স্বাভাবিক চলাচলের অধিকারে অযাচিত হস্তক্ষেপ করতে চান না; বরং দীর্ঘদিনের শ্রমিক পাওনা সংক্রান্ত বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি ও সম্ভাব্য রায় কার্যকর রাখার স্বার্থেই সাময়িক সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা চেয়েছেন।

 

‘এক্স-ম্যারিকোনিয়ান অ্যাসোসিয়েশন’-এর সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, “আমরা কোম্পানির বিরুদ্ধে কোনো অন্যায্য সুবিধা চাই না; আমরা চাই আইন অনুযায়ী আমাদের পাওনা পরিশোধ এবং দীর্ঘদিনের বিরোধের ন্যায়সঙ্গত নিষ্পত্তি।” তিনি বলেন, শ্রমিকদের পাওনা বছরের পর বছর অনাদায়ী রেখে বিপুল লভ্যাংশ বিতরণের অভিযোগের বিষয়টি আদালতের যথাযথ পর্যালোচনা ও জবাবদিহির আওতায় আসা প্রয়োজন। সাবেক শ্রমিকদের ভাষ্য, বিষয়টি শুধু অর্থনৈতিক পাওনা আদায়ের নয়, বরং শ্রমিকের আইনগত অধিকার, কর্পোরেট জবাবদিহি এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রশ্ন।

Geen reacties gevonden


News Card Generator