সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার পাড়দহ বাজার এলাকার বাসিন্দা রাকিব হোসেনসহ তিন ব্যক্তিকে ছাগল চুরির অভিযোগে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। গত সোমবার সলঙ্গা থানার ধুবিল ইউনিয়নের ইছিদহ এলাকায় সংঘটিত এই ঘটনায় রাকিবের সাথে তার দুই ছেলে এবং তাদের ব্যবহৃত একটি সিএনজি চালককেও আটক করা হয়। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ধুবিল এলাকায় একটি সিএনজিযোগে এসে তারা বেশ কয়েকটি ছাগল চুরি করার চেষ্টা করলে এলাকাবাসী তাদের সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে ঘিরে ফেলে। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত হাতেনাতে ধরা পড়েন। খবর পেয়ে সলঙ্গা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযুক্তদের হেফাজতে নেয় এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের থানায় নিয়ে আসে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘ দিন ধরে ওই অঞ্চলে গবাদি পশু চুরির সাথে জড়িত থাকতে পারে, যার একটি অংশ হিসেবেই এই ঘটনাটি ঘটেছে।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, গত কয়েক মাস ধরে ধুবিল ও আশপাশের ইউনিয়নগুলোতে গবাদি পশু চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষকদের দীর্ঘদিনের লালন-পালন করা গবাদি পশু হারিয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছে। স্থানীয় এক ভুক্তভোগী কৃষক জানান, চোরেরা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে সিএনজি ব্যবহার করে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে, যার ফলে তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। আটককৃতদের কাছে উদ্ধার হওয়া সিএনজিটি চুরির কাজে নিয়মিত ব্যবহৃত হতো বলে স্থানীয়দের ধারণা। ঘটনার সময় অভিযুক্তরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করার চেষ্টা করলেও জনতার সামনে তাদের অসংলগ্ন কথাবার্তা ও চুরির সরঞ্জামের উপস্থিতির কারণে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। জনরোষের মুখে পড়ার আগেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোয় বড় ধরনের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, তবে স্থানীয়দের মধ্যে এই চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করার দাবি জোরালো হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষিতে সলঙ্গা থানার পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আটককৃতদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক জেরায় আটক ব্যক্তিরা তাদের অপরাধের বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উল্লাপাড়া ও সলঙ্গা অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং গবাদি পশু চুরির মতো অপরাধ নির্মূলে পুলিশি টহল বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। পুলিশ জানিয়েছে, শুধুমাত্র এই ঘটনাটি নয়, বরং এর পেছনে অন্য কোনো বড় চক্র জড়িত কি না, তা উদঘাটনে নিবিড় তদন্ত চালানো হচ্ছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপরাধ করার সাহস না পায়।
এই ঘটনার ফলে সিরাজগঞ্জের গ্রামীণ জনপদগুলোতে গবাদি পশু লালন-পালনকারী সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। সিএনজি বা ছোট যানবাহনকে ব্যবহার করে যেভাবে চুরির ঘটনা ঘটছে, তা স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থার অপব্যবহারের একটি নেতিবাচক দৃষ্টান্ত। বর্তমান প্রেক্ষাপটে কেবল পুলিশি নজরদারি নয়, বরং প্রতিটি গ্রামের মানুষদের সতর্ক থাকা এবং সন্দেহভাজন যানবাহনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের বিষয়টি অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কঠোর অবস্থান এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি না পেলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গবাদি পশুর যে বিশাল ভূমিকা রয়েছে, তা দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।