গণ-অভ্যুত্থান নেতা নাহিদ ইসলাম: 'নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করতে যাচ্ছি, কিন্তু সরকার ছাড়ার সিদ্ধান্ত এখনও | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও
গণ-অভ্যুত্থান নেতা নাহিদ ইসলাম: 'নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করতে যাচ্ছি, কিন্তু সরকার ছাড়ার সিদ্ধান্ত এখনও
ছবি: সংগৃহীত
এবার শত্রু মনে হতো একটা, এখন মনে হচ্ছে চতুর্মুখী—এই মন্তব্যের মাধ্যমে গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীরা একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করার পরিকল্পনা করছে। দলটির উপদেষ্টা পরিষদের দুই সদস্যের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে ধারণা পাওয়া যায় যে, তারা শিগগিরই দলটি গঠন করবে। তবে, বর্তমান সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
নাহিদ ইসলাম, যিনি গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিলেন, বলেন, “উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত হয়নি, কিছু সময় লাগতে পারে। আমরা বুঝতে চেষ্টা করছি আমাদের কোথায় সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারব—সরকারের ভেতরে নাকি বাইরে, মাঠে।” তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের পর তাদের মধ্যে একটি রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি হয়েছে, যা একত্রিত করার জন্য একটি নতুন রাজনৈতিক দলের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে।
তিনি বলেন, “গত আগস্ট-সেপ্টেম্বরে এ বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল এবং আমরা রাজনৈতিক দলগুলোকে একত্রিত করে সরকারকে শক্তিশালী করার কথা ভাবছিলাম।” গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দানের কারণে সরকারের সঙ্গে তাদের কিছু অঙ্গীকার রয়েছে, তবে সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন না হলে সরকার ছাড়ার সিদ্ধান্তও পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে।
নতুন দল, নতুন সিদ্ধান্ত নাহিদ ইসলাম জানান, দলের নাম এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয়ার্ধে দলটির আত্মপ্রকাশ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ১৫ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন রাজনৈতিক দলটির ঘোষণা আসতে পারে বলে তিনি জানিয়ে দেন।
তিনি আরও বলেন, “হয়তো দলের সদস্যদের মধ্যে কেউ কেউ সরকারের সঙ্গে থাকবেন, কিন্তু বাকিরা নতুন দলে যোগ দেবেন। আমাদের শুরুর পরিকল্পনা ছিল সরকার থেকে বের হয়ে যাওয়ার, তবে এখন সে সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাবনা-চিন্তা চলছে।”
বিএনপির সঙ্গে আলোচনা ও এক-এগারো সংকেত প্রথম আলো সংবাদদাতার সঙ্গে কথা বলার সময়, নাহিদ ইসলাম বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাম্প্রতিক বক্তব্য সম্পর্কে আলোচনায় আসেন। ফখরুলের বক্তব্যে নিরপেক্ষ সরকারের প্রস্তাবের মধ্যে তিনি এক-এগারোর ইঙ্গিত দেখতে পাচ্ছেন, যা তার মতে, একটি নতুন সরকার গঠনের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে তিনি মনে করেন, বিএনপি উদ্দেশ্যমূলকভাবে এসব কথা বলেননি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “বিএনপির মহাসচিব যে অর্থে নিরপেক্ষ সরকারের কথা বলছেন, তা নিয়ে আমাদের সন্দেহ রয়েছে। যদি বিএনপি এ ধরনের সরকারের পক্ষে থাকে, তাহলে এটি এক-এগারোর মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। আগেরবার বিএনপি ছিল ভুক্তভোগী, তবে এবারে তারা এই ধরনের সরকারের সুবিধাভোগী হতে পারে।”
এছাড়া, তিনি জানান, সরকার বর্তমানে নিরপেক্ষ অবস্থানে রয়েছে এবং বিএনপির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বড় সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রপতির পরিবর্তনের ব্যাপারে ছাত্রদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি এখনও স্থগিত রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক নাহিদ ইসলাম বলেন, "শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা রয়েছে এবং তাদের ঐক্যবদ্ধ করার জন্য একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের বিষয়টি এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আমরা সরকারের অভ্যন্তরে বা বাইরে, মাঠে কাজ করতে চাই, যেখানে আমাদের ভূমিকা সবচেয়ে কার্যকর হবে।”
ফেব্রুয়ারির মধ্যে দলটির আত্মপ্রকাশ হলে, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি নতুন পরিবর্তনের আভাস মিলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ছাত্র-নেতৃত্বাধীন এই নতুন দলের উত্থান দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন এক অধ্যায় সৃষ্টি করবে।
নতুন দলে কী সিদ্ধান্ত? তবে এখনও পর্যন্ত নাহিদ ইসলাম এবং তার দলের অন্য সদস্যরা সরকারি দায়িত্বে থাকতে পারেন বা নতুন দলে যোগ দিতে পারেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত আসেনি। সরকারের উপর থেকে সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রক্রিয়া এখনও চলমান।
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি