(ফলো আপ সংবাদ ২) বিনা অপরাধে কারাভোগ, অপরাধীরা পার পায়—বিচারব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

(ফলো আপ সংবাদ ২) বিনা অপরাধে কারাভোগ, অপরাধীরা পার পায়—বিচারব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ..

MD ABDUL MAZID KHAN avatar   
MD ABDUL MAZID KHAN
(ফলো আপ সংবাদ ২)     বিনা অপরাধে কারাভোগ, অপরাধীরা পার পায়—বিচারব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ..
(ফলো আপ সংবাদ ২)     বিনা অপরাধে কারাভোগ, অপরাধীরা পার পায়—বিচারব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ..
ছবি: সংগৃহীত
****

 

 

খাঁন মোঃ আঃ মজিদ

দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি

 

দেশের বিচার বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন স্তরে অনিয়ম, দুর্নীতি, দীর্ঘসূত্রতা ও হয়রানির অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী প্রবীণ সংবাদকর্মী আব্দুল মজিদ খান। তার দাবি, সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের দ্বারস্থ হলেও বছরের পর বছর ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত বিচার পায় না। এতে সময়, অর্থ ও মানসিকভাবে চরম ক্ষতির শিকার হতে হয় বিচারপ্রার্থীদের।

 

আব্দুল মজিদ খানের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অনেক থানায় অভিযোগ বা মামলা গ্রহণে অনীহা দেখা যায়। ফলে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে সাধারণ মানুষ আদালতের আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। কিন্তু আদালতে মামলা দায়েরের পরও ভুক্তভোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং বিভিন্ন ধাপে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়।

 

তিনি জানান, ২০২৩ সালের ১০ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন বিবাদীর বিরুদ্ধে প্রায় ১৮টি মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে তার প্রায় ৬ লাখ টাকারও বেশি ব্যয় হয়েছে। তার অভিযোগ, মামলা ফাইলিং থেকে শুরু করে ওয়ারেন্ট পাঠানো, নথিপত্র খোঁজা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার প্রতিটি ধাপেই নানা অজুহাতে অর্থ দাবি করা হয়।

 

তার মতে, অনেক সময় ওয়ারেন্ট বিভিন্ন থানায় পাঠাতে অস্বাভাবিক বিলম্ব করা হয়। আবার কোনো মামলার নথি খুঁজে বের করতে গেলেও ভুক্তভোগীদের হয়রানির শিকার হতে হয়। আদালতের বিভিন্ন শাখায় কাজের গতি ধীর হওয়ায় বিচারপ্রার্থীদের মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয়।

 

তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রভাব ও অর্থের বিনিময়ে অনেক ক্ষেত্রে মামলা গ্রহণ বা তদন্ত কার্যক্রম প্রভাবিত হয়। ফলে মধ্যবিত্ত ও সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হন।

 

আব্দুল মজিদ খান বলেন, “আইনের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস দিনে দিনে কমে যাচ্ছে। আদালতে বিচার চাইতে গিয়ে মানুষ বছরের পর বছর ঘুরছে। আজ না কাল, এই মাস না ওই মাস করতে করতে অনেক মামলা ৫ থেকে ১০ বছর, এমনকি ১৫ বছর পর্যন্ত চলতে দেখা যায়।”

 

তিনি আরও দাবি করেন, বিভিন্ন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ও চার্জশিট প্রস্তুতের ক্ষেত্রেও দীর্ঘসূত্রতা ও অনিয়ম রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে তদন্তকারী সংস্থা যথাযথভাবে তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে ব্যর্থ হয়। আবার অভিযোগ রয়েছে, আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে কিছু মামলার প্রতিবেদন দ্রুত আদালতে পাঠানো হলেও অন্য মামলাগুলো দীর্ঘদিন ফেলে রাখা হয়।

 

তিনি বলেন, কেউ কোনো অপরাধ না করেও দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর বিভিন্ন মামলায় কারাভোগ করছেন। আবার অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত অপরাধীরা মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে আইনের ফাঁক গলে পার পেয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে এবং অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

 

তার মতে, বর্তমান সময়ে খুন-খারাবি, শিশু ও নারী ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ মহামারীর রূপ নিয়েছে। অন্যদিকে বিনা অপরাধে দেশের ৬৪ জেলার বিভিন্ন কারাগারে আটক অনেক মানুষ বছরের পর বছর কষ্ট ভোগ করছেন। তাদের পরিবার-পরিজন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি কারাগারে থাকায় অনেক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।

 

তিনি আরও বলেন, সাধারণ হাজতিদের সঙ্গে পরিবার-পরিজনের দেখা-সাক্ষাৎ সীমিত। বড় ধরনের অপরাধে অভিযুক্ত অনেক বন্দির ক্ষেত্রেও দীর্ঘ সময় পর পর সাক্ষাতের সুযোগ মেলে। ফলে পরিবারের খোঁজখবর রাখা, সন্তানদের দেখভাল করা কিংবা বাড়িতে কোনো দুর্ঘটনা বা সমস্যার খবর জানার সুযোগও অনেকের থাকে না।

 

বর্তমান সময়ে সুবিচার না পেয়ে অনেকেই আইন নিজের হাতে তুলে নিতে বাধ্য হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। এর ফলে বিভিন্ন সহিংস ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং প্রতিনিয়ত ঝরে যাচ্ছে মূল্যবান প্রাণ।

 

এ অবস্থায় দেশের বিচারব্যবস্থা, থানা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরগুলোর কার্যক্রম নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং রংপুর বিভাগের মাননীয় ডিআইজি মহোদয়ের প্রতি বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

ভুক্তভোগীদের দাবি, সারা দেশে বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ, মামলা পরিচালনায় দীর্ঘসূত্রতা এবং অভিযোগকৃত অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়গুলো নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে সাধারণ মানুষের আইনের প্রতি আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং প্রকৃত ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।

 

 

 

Nenhum comentário encontrado


News Card Generator