মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি :
হবিগঞ্জের মাধবপুরে এক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি মোঃ আব্দুর রহিম (৩৫) কে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৯।
সোমবার (৮ জুন) রাত ৯টায় র্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে. এম. শহিদুল ইসলাম সোহাগ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভুক্তভোগী কিশোরী মাধবপুর উপজেলার দিঘীরপাড় এলাকার বাসিন্দা এবং তিনি একজন প্রতিবন্ধী। তার পিতা দীর্ঘদিন ধরে বাত ব্যথায় আক্রান্ত হয়ে চলাফেরায় অক্ষম থাকায় একই এলাকার সুরঞ্জন দাস নামে এক ব্যক্তি তাকে একজন কবিরাজের মাধ্যমে চিকিৎসার প্রস্তাব দেন।
গত মঙ্গলবার২ জুন রাত ১০টার দিকে সুরঞ্জন দাস কবিরাজ পরিচয়ে আব্দুর রহিমকে নিয়ে ভুক্তভোগীর বাড়িতে যান। এ সময় তারা সঙ্গে করে বিস্কুট নিয়ে আসেন। পরিবারের সদস্যরা অন্য বিস্কুট আনতে চাইলে তারা বাধা দেন এবং নিজেদের আনা বিস্কুট খেতে দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই বিস্কুট খাওয়ার কিছুক্ষণ পর ভুক্তভোগীর পিতা-মাতা ও ভাই অচেতন হয়ে পড়েন।
এরপর সুরঞ্জন দাসের সহযোগিতায় আব্দুর রহিম রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত ভুক্তভোগী কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণ করে পালিয়ে যায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পরদিন সকালে ভুক্তভোগীর মামা বাড়িতে এসে পরিবারের সদস্যদের অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাদের জ্ঞান ফিরলে ঘটনার বিষয়টি প্রকাশ পায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মামা বাদী হয়ে মাধবপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর থেকেই র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং আসামিদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (৮ জুন) দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে র্যাব-৯ এর সিপিসি-৩, শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর রেলক্রসিং এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান ও পলাতক আসামি আব্দুর রহিমকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আব্দুর রহিম মাধবপুর উপজেলার লোহাঈদ গ্রামের মৃত ইউনুস মিয়ার ছেলে।
র্যাব জানায়, পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামিকে মাধবপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব-৯ এর গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।