ঐতিহ্যের আলো ছড়িয়েও বঞ্চনার অন্ধকারে মির্জা মোরাদুজ্জামানের পরিবার...... | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ঐতিহ্যের আলো ছড়িয়েও বঞ্চনার অন্ধকারে মির্জা মোরাদুজ্জামানের পরিবার......

Juwel Hossain avatar   
Juwel Hossain
ঐতিহ্যের আলো ছড়িয়েও বঞ্চনার অন্ধকারে মির্জা মোরাদুজ্জামানের পরিবার......
ঐতিহ্যের আলো ছড়িয়েও বঞ্চনার অন্ধকারে মির্জা মোরাদুজ্জামানের পরিবার......
ছবি: সংগৃহীত
রাজনৈতিক ও সামাজিক অবদানের স্বীকৃতি পেলেও সময়ের পরিক্রমায় নানা বঞ্চনা, অবমূল্যায়ন ও প্রত্যাশা-অপূর্ণতার আলোচনায় ঐতিহ্যবাহী মির্জা মোরাদুজ্জামানের পরিবার।..

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড় আত্মিক সম্পর্ক এবং দলীয় আন্দোলন-সংগ্রামে সাহসী ও সক্রিয় ভূমিকার কারণে সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে মির্জা মোস্তফা জামানের নাম। দলের দুঃসময়ে রাজপথে থেকে নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানো এই নেতাকে ঘিরে জেলাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে নতুন প্রত্যাশা, উদ্দীপনা ও প্রাণচাঞ্চল্য। একই সঙ্গে আলোচনায় এসেছে সিরাজগঞ্জের একটি ঐতিহ্যবাহী ত্যাগী রাজনৈতিক পরিবারের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার ইতিহাস।

রাজনীতির মাঠে একজন শান্ত, পরিশ্রমী, দূরদর্শী ও নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক হিসেবে পরিচিত মির্জা মোস্তফা জামান। দলের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করা এবং নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে তাঁর ভূমিকা দীর্ঘদিন ধরেই জেলাজুড়ে প্রশংসিত। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সুখ-দুঃখে ও আপদ-বিপদে ছায়ার মতো পাশে থাকার কারণে তিনি সাধারণ মানুষের মাঝেও অর্জন করেছেন গভীর আস্থা ও ভালোবাসা।

দলের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মীর মতে, আগামী দিনের তীব্র রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও মাঠের আন্দোলন মোকাবিলায় একজন দক্ষ, সাহসী ও কর্মীবান্ধব নেতার কোনো বিকল্প নেই। আর সেই যোগ্যতার মাপকাঠিতে মির্জা মোস্তফা জামান একজন অত্যন্ত শক্তিশালী ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী। তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে জেলা বিএনপি আরও সুসংগঠিত, শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ ও গতিশীল হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা।

তৃণমূলের নেতাকর্মীরা জানান, রাজনীতিতে সৌজন্যবোধ, সততা ও সুদৃঢ় সাংগঠনিক দক্ষতার এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়ে মির্জা মোস্তফা জামান ইতোমধ্যেই সর্বমহলে একটি গ্রহণযোগ্য অবস্থান তৈরি করেছেন। দল ও জনগণের প্রতি তাঁর সুগভীর দায়বদ্ধতা এবং নিরলস পরিশ্রম তাঁকে সাধারণ সম্পাদক পদের একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় ও নির্ভরযোগ্য মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সিরাজগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন আলোচনার এক বিরাট অংশজুড়ে রয়েছেন এই জননন্দিত নেতা। তৃণমূলের প্রত্যাশা—দলের ঐক্য, আন্দোলনের শক্তি এবং মানুষের ভালোবাসাকে সঙ্গে নিয়ে নতুন সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাবেন মির্জা মোস্তফা জামান।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মির্জা মোস্তফা জামান বলেন, “আমি সবসময় বিশ্বাস করি রাজনীতি মানে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করা এবং দলের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করা। দীর্ঘদিন ধরে দলের নেতাকর্মীদের ভালোবাসা ও সহযোগিতা নিয়েই পথ চলছি। আমি কোনো পদকে ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে দেখি না, বরং এটিকে মানুষের সেবা করার আরও বড় দায়িত্ব হিসেবে মনে করি। দল যদি আমাকে মূল্যায়ন করে, তাহলে সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপিকে আরও ঐক্যবদ্ধ, শক্তিশালী ও জনমুখী সংগঠনে পরিণত করতে আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ। দল, দেশ ও মানুষের কল্যাণই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা গণমানুষের প্রিয় নেতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্রের মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তরুণ প্রজন্মের আস্থার নাম, প্রিয় নেতা বিএনপির চেয়ারম্যান ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একজন আদর্শ কর্মী হয়ে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত সততা, ন্যায়নীতি ও গণতন্ত্রকে ধারণ করে রাজনীতি করে যেতে চাই।”

সিরাজগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে বহু ঐতিহ্যবাহী ও প্রভাবশালী পরিবারের ঐতিহাসিক অবদান রয়েছে। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ক্রান্তিকালে এসব পরিবারের নেতারা মাঠের রাজনীতি, গণমানুষের অধিকার আদায় এবং দলীয় কর্মকাণ্ডে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সময়ের ব্যবধানে এসব পরিবারের অনেকেই এমপি, মন্ত্রী, উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানসহ দলীয় ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ জনপ্রতিনিধিত্বমূলক পদে দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পেয়েছেন।

বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও স্থানীয় সচেতন মহলের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সিরাজগঞ্জের আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ সাহেবের পরিবার থেকে একাধিকবার এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন। ডা. এম এম মতিন সাহেবের পরিবার থেকেও এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন। এছাড়া মহীয়সী রাজনৈতিক ঐতিহ্যবাহী ক্যাপ্টেম মনসুর আলীর পরিবার এবং মোতাহের হোসেন তালুকদারের পরিবার থেকেও এমপি-মন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ জনপ্রতিনিধিত্বমূলক পদে নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছে।

তবে দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগ, সততা, নীতি-আদর্শ ও দলের প্রতি অবিচল আনুগত্য থাকা সত্ত্বেও সিরাজগঞ্জের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবার আজ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত বলে মনে করছেন তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। সেই পরিবারটি হলো মরহুম মির্জা মোরাদুজ্জামান এর পরিবার। মির্জা মোরাদুজ্জামানের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় থেকেও কখনো ক্ষমতার বা ব্যক্তিস্বার্থের রাজনীতিকে প্রাধান্য দেয়নি। বরং দলের চরম দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানো, সংগঠনকে ধরে রাখা, রাজনৈতিক আদর্শ ও সততার সঙ্গে নিষ্কলুষ রাজনীতি করাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। ফলে নানা রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, মামলা-হামলা ও বঞ্চনার মধ্যেও তারা কখনো আদর্শ থেকে চ্যুত হননি এবং দল থেকে দূরে সরে যাননি বলে দাবি করেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

মাঠপর্যায়ের ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই পরিবারটি কখনো ব্যক্তিস্বার্থের রাজনীতি করেনি। তারা জনগণের কল্যাণ ও দলের স্বার্থকে সবসময় নিজের জীবনের চেয়েও বেশি অগ্রাধিকার দিয়েছে। ক্ষমতা বা পদ-পদবীর জন্য তারা কখনো কোনো অপশক্তির সাথে আপস করেনি। দলের কঠিনতম সময়ে যখন অনেকেই মাঠ ছেড়েছেন, তখন তারা রাজপথে থেকেছেন, নেতাকর্মীদের আগলে রেখেছেন। অথচ মূল্যায়নের সময় তাদের নাম বারবার উপেক্ষিত হয়েছে। বর্তমানে রাজনীতিতে অনেকেই সুযোগসন্ধানী অবস্থান নিয়ে দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ পদে চলে যাচ্ছেন, কিন্তু যারা দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়ায় মাঠের তৃণমূল পর্যায়ে এক ধরণের নীরব হতাশা তৈরি হচ্ছে। মির্জা মোরাদুজ্জামান এর পরিবার তার সবচেয়ে বড় ও নির্মম উদাহরণ।”

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও মনে করেন, রাজনীতিতে শুধু এমপি বা মন্ত্রী হওয়াই একমাত্র শেষ কথা নয়। জেলাবিএনপির সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক, পৌর মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানসহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদ রয়েছে, যেখানে এই ঐতিহ্যবাহী পরিবারের একজন গর্বিত ও যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে মির্জা মোস্তফা জামানের মতো একজন ত্যাগী, পরিচ্ছন্ন ও সর্বজন গ্রহণযোগ্য নেতার প্রতিনিধিত্ব থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। কিন্তু দীর্ঘদিনের বিশাল রাজনৈতিক অবদান থাকার পরও মির্জা মোরাদুজ্জামানের পরিবারের কেউ এখনো সেই সাংগঠনিক বা জনপ্রতিনিধিত্বের সুযোগ পাননি, যা জেলার সচেতন রাজনৈতিক মহলের কাছে একটি বড় বিস্ময়ের বিষয়।

নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পরিবার কখনো ছলচাতুরি বা সুবিধাবাদী রাজনীতির আশ্রয় নেয়নি। আদর্শিক অবস্থান অটুট রেখে দল ও জনগণের জন্য কাজ করেছে। রাজনৈতিক শিষ্টাচার, সততা ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির কারণে সাধারণ মানুষের কাছেও পরিবারটির একটি আলাদা ও অনন্য গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। বিশেষ করে মির্জা মোস্তফা জামান তরুণ প্রজন্মের কাছে তাদের রাজনৈতিক ইতিবাচক ধারার এক উজ্জ্বল দৃষ্টিকোণ ও শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হন।

সিরাজগঞ্জে বিএনপির রাজনীতিকে আরও গতিশীল, শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে হলে মাঠের ত্যাগী ও আদর্শিক পরিবারগুলোর যথাযথ মূল্যায়ন এখন সময়ের দাবি। এতে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে যেমন নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হবে, তেমনি দলের সাংগঠনিক শক্তিও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। মাঠের কর্মীরা আক্ষেপ করে বলেন, “যারা বছরের পর বছর দলকে আগলে রেখেছে, মামলা-হামলা সহ্য করেছে, শত রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও সংগঠনকে টিকিয়ে রেখেছে—তাদের মূল্যায়ন না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম রাজনীতিতে আদর্শ ও ত্যাগের গুরুত্ব হারিয়ে ফেলবে।”

সর্বোপরি, মির্জা মোরাদুজ্জামান এর পরিবারের দীর্ঘ রাজনৈতিক অবদান ও ত্যাগের বিষয়টি দলীয়ভাবে মূল্যায়ন করা এখন শুধু যৌক্তিকই নয়, বরং অপরিহার্য। এই বিষয়টি বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সচেতন মহল। বিশেষ করে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং বিএনপির চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তৃণমূল পর্যায়ের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। তাদের দৃঢ় প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে দলীয় গুরুত্বপূর্ণ পদ ও জনপ্রতিনিধিত্বশীল নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে ত্যাগী, সৎ, নিষ্ঠাবান ও আদর্শিক পরিবার হিসেবে মির্জা মোরাদুজ্জামানের পরিবারের সুযোগ্য সন্তান মির্জা মোস্তফা জামানকে যথাযথ মূল্যায়নে ভূষিত করা হবে।

Tidak ada komentar yang ditemukan


News Card Generator