সীমান্ত পার হওয়ার আগেই পুলিশের জালে যশোরের ব্যবসায়ী খুনের প্রধান আসামি.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

সীমান্ত পার হওয়ার আগেই পুলিশের জালে যশোরের ব্যবসায়ী খুনের প্রধান আসামি..

রাসেল মাহমুদ avatar   
রাসেল মাহমুদ
সীমান্ত পার হওয়ার আগেই পুলিশের জালে যশোরের ব্যবসায়ী খুনের প্রধান আসামি..
সীমান্ত পার হওয়ার আগেই পুলিশের জালে যশোরের ব্যবসায়ী খুনের প্রধান আসামি..
ছবি: সংগৃহীত
****

যশোরের অভয়নগরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আনিছুর রহমান হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি শাহ মাহমুদকে (৩৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যশোর সীমান্ত হয়ে তিনি অবৈধভাবে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করছিলেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সোমবার (১৮ মে) দুপুরে যশোরের পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিরাজুল ইসলাম।


পুলিশ জানায়, রোববার (১৭ মে) দিবাগত রাতে অভয়নগর থানা পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও সাইবার ক্রাইম ইউনিটের একটি চৌকস যৌথ দল যশোর শহরের আরএন রোড এলাকার একটি বাসায় ঝটিকা অভিযান চালায়। সেখান থেকেই আত্মগোপনে থাকা শাহ মাহমুদকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত মাহমুদ নওয়াপাড়ার গুয়াখোলা পীরবাড়ি এলাকার শাহ মোহ. জোনায়েদের ছেলে।


অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম জানান, মূলত নিহত ব্যবসায়ী আনিছুর রহমানের দোকান ঘর ভাড়া নেওয়া সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরেই এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। তবে এর পেছনে অন্য কোনো কারণ বা নেপথ্যে কোনো মদদদাতা রয়েছে কিনা, তা অধিকতর তদন্ত শেষে জানা যাবে।


উল্লেখ্য, গত ৬ মে অভয়নগর থানার গুয়াখোলা পীরবাড়ি মসজিদের পশ্চিম পাশে নিজের নির্মাণাধীন ছয়তলা ভবনের নিচতলায় অবস্থান করছিলেন ব্যবসায়ী আনিছুর রহমান। এ সময় শাহ মাহমুদ, তার সহযোগী নাসিরসহ আরও ২-৩ জন সেখানে হানা দেয়।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে শাহ মাহমুদ তার কোমরে লুকিয়ে রাখা ধারালো চাইনিজ কুড়াল দিয়ে আনিছুর রহমানের মুখের বাম পাশে সজোরে কোপ দেয়।

স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থার আরও অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে ৭ মে রাত ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী নাহিদা ইমাম বাদী হয়ে অভয়নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ প্রথমে মনির হোসেন নামে একজনকে আটক করেছিল।

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, মুকিত নামে এক আইনজীবীর প্রত্যক্ষ সহায়তায় শাহ মাহমুদ ভারতে পালানোর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন। সীমান্ত পারাপারের সুবিধার্থেই তাকে যশোর শহরের আরএন রোডের ওই বাসায় গোপনে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাহমুদ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা এবং ভারতে পালানোর পরিকল্পনার বিষয়টি পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ সার্কেল) মুন্না বিশ্বাস এবং অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম।

No comments found


News Card Generator