ইরাকের মরুভূমিতে ইসরায়েলি গোপন সামরিক ঘাঁটি | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ইরাকের মরুভূমিতে ইসরায়েলি গোপন সামরিক ঘাঁটি

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
ইরাকের মরুভূমিতে ইসরায়েলি গোপন সামরিক ঘাঁটি
ইরাকের মরুভূমিতে ইসরায়েলি গোপন সামরিক ঘাঁটি
ছবি: সংগৃহীত
ইরাকি প্রশাসন এবং শক্তিশালী শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর চোখের সামনে দিয়ে এই দুঃসাহসিক কাজ কীভাবে সম্ভব হলো, তা নিয়ে মেজর গৌরব আরিয়া বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।..

সম্প্রতি 'ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল' এমন একটি খবর ফাঁস করেছে যা বিশ্বজুড়ে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের তাক লাগিয়ে দিয়েছে। ভৌগোলিকভাবে ইসরায়েল এবং ইরাকের কোনো অভিন্ন সীমানা নেই। তা সত্ত্বেও, হাজার কিলোমিটার দূরে শত্রুভাবাপন্ন দেশ ইরাকের মরুভূমির বুকে ইসরায়েল একটি গোপন সামরিক ঘাঁটি তৈরি করেছিল। ইরাকি প্রশাসন এবং শক্তিশালী শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর চোখের সামনে দিয়ে এই দুঃসাহসিক কাজ কীভাবে সম্ভব হলো, তা নিয়ে মেজর গৌরব আরিয়া বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

১. অভিযানের পটভূমি ও উদ্দেশ্য

ইরানের বিরুদ্ধে বিমান অভিযানকে আরও জোরালো করতেই ইরাকের মরুভূমিতে এই গোপন আউটপোস্ট তৈরি করেছিল ইসরায়েল। এটি মূলত একটি লজিস্টিক্যাল হাব এবং স্পেশাল ফোর্সের আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হতো। যদি ইরানের অভ্যন্তরে কোনো ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান (যেমন F-15) গুলি করে নামানো হতো, তবে সেখান থেকে যেন দ্রুততম সময়ে 'সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ' দল পাঠিয়ে পাইলটদের উদ্ধার করা যায়, এটাই ছিল ঘাঁটির প্রধান উদ্দেশ্য।

২. আমেরিকান না ইসরায়েলি? ইরাকিদের বিভ্রান্তি

গোপন এই ঘাঁটির ব্যাপারে শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অবহিত ছিল। মজার ব্যাপার হলো, ইরাকি কর্তৃপক্ষ যখন মরুভূমিতে অস্বাভাবিক সামরিক তৎপরতা লক্ষ্য করে, তখন তারা প্রাথমিকভাবে মনে করেছিল এগুলো আমেরিকান বাহিনী। আন্তর্জাতিক জোটের অধীনে আমেরিকানরা ইরাকে অবস্থান করায় তারা বিষয়টি নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামায়নি। আর ইসরায়েল এই সুযোগটিকেই কাজে লাগিয়েছিল।

৩. মেষপালকের তথ্য ও ইরাকি সেনাদের ওপর বিমান হামলা

মার্চ মাসের শুরুতে এক স্থানীয় মেষপালক মরুভূমিতে হেলিকপ্টারের ওড়াউড়ি এবং অস্বাভাবিক তৎপরতা দেখে ইরাকি প্রশাসনকে খবর দেয়। ইরাকি সেনাবাহিনী তদন্তের জন্য সেখানে একদল সৈন্য পাঠায়। ইসরায়েলিরা তাদের ঘাঁটি রক্ষা করতে সরাসরি বিমান হামলা চালায়, যার ফলে ইরাকি সেনারা পিছু হটতে বাধ্য হয়। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্যমতে, ইরাকিরা তখনও বুঝতে পারেনি যে তারা আসলে কার সাথে লড়াই করছে।

৪. নিপুণ প্রস্থান: কোনো প্রমাণ ছাড়াই উধাও

ইরাক যখন পূর্ণ সামরিক শক্তি নিয়ে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নেয়, তখন ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা 'মোসাদ' এবং তাদের স্পেশাল ফোর্স অত্যন্ত নিপুণভাবে ঘাঁটিটি খালি করে দেয়। যেসব সরঞ্জাম সাথে নেওয়া সম্ভব ছিল না, সেগুলো তারা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ধ্বংস করে দিয়ে যায়। ফলে ইরাকি সেনাবাহিনী যখন পৌঁছায়, তখন তারা ধূলিকণা আর ধ্বংসাবশেষ ছাড়া আর কিছুই পায়নি। কোনো ইসরায়েলি সৈন্য বা সচল যুদ্ধ সরঞ্জাম তাদের হাতে ধরা পড়েনি।

৫. ইরাকি প্রশাসনের ব্যর্থতা ও বড় তদন্ত

একটি স্বাধীন দেশের ভূখণ্ডের ভেতরে অন্য দেশের সেনাবাহিনী ঘাঁটি বানিয়ে অপারেশন চালিয়ে গেছে এবং তারা টেরই পায়নি—এটি ইরাকের প্রতিরক্ষা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য এক চরম লজ্জাজনক ঘটনা। এর ফলে ইরাকি পার্লামেন্টে বড় ধরনের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে যে, এত বড় 'ইন্টেলিজেন্স ফেইলিওর' বা গোয়েন্দা ব্যর্থতা কীভাবে হলো।

ইসরায়েলি স্পেশাল অপারেশনের আধুনিক দৃষ্টান্ত

ইসরায়েল যেভাবে এই অপারেশনটি পরিচালনা করেছে, তা আধুনিক সমর কৌশলের এক অনন্য উদাহরণ। শত্রুবেষ্টিত এলাকায় হাজার মাইল দূরে গিয়ে অপারেশন পরিচালনা করে আবার কোনো প্রমাণ ছাড়াই ফিরে আসা—এটি কেবল উন্নত প্রযুক্তি নয়, বরং নিখুঁত পরিকল্পনার ফসল। বর্তমান যুদ্ধবিরতির পর হয়তো এ ধরনের আরও অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসবে যা আমাদের সাধারণ ধারণারও বাইরে। ইসরায়েল প্রমাণ করেছে যে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে তারা পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে পৌঁছে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে।

کوئی تبصرہ نہیں ملا


News Card Generator