বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে মুক্ত করতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামক এক বিশেষ সামরিক অভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ‘হস্তক্ষেপ’ উল্লেখ করে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার নতুন শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ট্রাম্পের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ কী?
রোববার (৩ মে) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই অভিযানের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, হরমুজ প্রণালিতে শতাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ আটকা পড়ে আছে, যার মধ্যে অনেক দেশই চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত নয়। ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, ওই দেশগুলোর অনুরোধের প্রেক্ষিতে মার্কিন নৌবাহিনীর পাহারায় জাহাজগুলোকে প্রণালি থেকে বের করে আনা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সোমবার সকাল (বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত) থেকে এই অভিযান শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
ইরানের কঠোর সতর্কবার্তা
ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরপরই ইরানের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কমিশনের প্রধান এব্রাহিম আজিজি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) একটি পোস্ট দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালির নতুন সামুদ্রিক প্রশাসনিক ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপকে চলমান যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলে গণ্য করা হবে। তেহরানের মতে, এটি ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত।
হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব ও সংকটের নেপথ্য
আরব উপসাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্তকারী ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রণালিটি বিশ্ব অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র।
-
জ্বালানি নির্ভরতা: বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেল ও গ্যাসের অন্তত এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।
-
অবরোধের কারণ: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান এই প্রণালিতে অবরোধ জারি করে। এর ফলে শতাধিক পণ্যবাহী জাহাজ সেখানে আটকা পড়ে, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকটের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।
কূটনৈতিক শঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ বাস্তবায়নে মার্কিন নৌবাহিনী যদি ইরানি জলসীমায় প্রবেশ করে, তবে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষের সূত্রপাত হতে পারে। ইরান এই পদক্ষেপকে উস্কানি হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন একে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার ‘মানবিক মিশন’ হিসেবে দাবি করছে।
বিশ্বের নজর এখন সোমবারের দিকে—মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজে প্রবেশ করলে ইরান কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখায়, সেটাই দেখার বিষয়।
সূত্র: এএফপি ও এনডিটিভি।