২০২৬ সালের বৈশ্বিক ঝুঁকি: ট্রাম্পের পতন, এআই-র মহাবিপদ ও ‘জি-জিরো’ বিশ্বের হাতছানি.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

২০২৬ সালের বৈশ্বিক ঝুঁকি: ট্রাম্পের পতন, এআই-র মহাবিপদ ও ‘জি-জিরো’ বিশ্বের হাতছানি..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
২০২৬ সালের বৈশ্বিক ঝুঁকি: ট্রাম্পের পতন, এআই-র মহাবিপদ ও ‘জি-জিরো’ বিশ্বের হাতছানি..
২০২৬ সালের বৈশ্বিক ঝুঁকি: ট্রাম্পের পতন, এআই-র মহাবিপদ ও ‘জি-জিরো’ বিশ্বের হাতছানি..
ছবি: সংগৃহীত
‘দ্য ডায়েরি অফ আ সিইও’ পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বিশ্বের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন।..

বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইয়ান ব্রেমার ২০২৬ সালের জন্য এক ভয়াবহ ঝুঁকির পূর্বাভাস দিয়েছেন। তার মতে, বর্তমানে বিশ্ব কোনো বিদেশি শত্রু বা অন্য কোনো শক্তির চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সবচেয়ে বড় ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ‘দ্য ডায়েরি অফ আ সিইও’ পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বিশ্বের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন।

১. যুক্তরাষ্ট্রের অনিশ্চয়তা ও ট্রাম্পের ‘ল্যাম ডাক’ হওয়ার শঙ্কা

ইয়ান ব্রেমার মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির প্রধান অস্থিরতার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • নীতি পরিবর্তন: যুক্তরাষ্ট্র এখন আর নিজের তৈরি করা আন্তর্জাতিক নিয়ম (মুক্ত বাণিজ্য বা বিশ্ব পুলিশের ভূমিকা) পালন করতে চাইছে না।

  • নির্বাচনী প্রেক্ষাপট: ব্রেমারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে (Midterms) ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়তে পারে। এর ফলে ট্রাম্প একজন ‘ল্যাম ডাক’ (Lame Duck) বা ক্ষমতাহীন প্রেসিডেন্টে পরিণত হবেন।

  • জনপ্রিয়তার সংকট: গ্রিনল্যান্ড বা অন্যান্য বিতর্কিত ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থান তাকে নিজ দেশেই কোণঠাসা করে দিচ্ছে।

২. ইরান ও ভেনেজুয়েলা: কৌশলগত ভুলের মাশুল

ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলায় মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করে প্রাথমিক সাফল্য পেলেও ইরানের ক্ষেত্রে তারা বড় ধরনের ভুল করেছে বলে মনে করেন ব্রেমার।

  • ইরানের প্রতিরোধ: ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো সত্ত্বেও দেশটি ভেঙে পড়েনি। বরং তারা এখন একটি ‘মোজাইক’ বা বিকেন্দ্রীভূত সামরিক ব্যবস্থার মাধ্যমে হরমোজ প্রণালীতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখছে।

  • আলোচনার ব্যর্থতা: ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ২১ ঘণ্টার শান্তি আলোচনা কোনো ফল ছাড়াই শেষ হওয়ার কারণ হিসেবে ব্রেমার ট্রাম্পের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস ও অদক্ষ উপদেষ্টাদের দায়ী করেছেন।

৩. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI): একটি অদৃশ্য মহাবিপদ

ব্রেমার সতর্ক করেছেন যে, ২০২৬ সালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেবল চাকরির হুমকি নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি সিস্টেমিক রিস্ক বা কাঠামোগত বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • অ্যানথ্রোপিকের গোপনীয় মডেল: অ্যানথ্রোপিক নামক প্রতিষ্ঠানটি এমন একটি শক্তিশালী এআই মডেল তৈরি করেছে যা বিশ্ব ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হ্যাক করার ক্ষমতা রাখে। নিরাপত্তার খাতিরে এটি এখনো উন্মুক্ত করা হয়নি।

  • বেকারত্ব ও রাজনৈতিক বিদ্রোহ: এআই-র কারণে ২০২৮ সালের দিকে যুক্তরাষ্ট্রে একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক বিপ্লব বা গণবিক্ষোভ হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। বিশেষ করে সাধারণ মানুষ যখন দেখবে প্রযুক্তি কেবল ধনীদের আরও ধনী করছে, তখন এই ক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নিতে পারে।

৪. চীনের দীর্ঘমেয়াদী জয় ও ‘জি-জিরো’ বিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্র যখন স্বল্পমেয়াদী নির্বাচনী রাজনীতিতে ব্যস্ত, চীন তখন আগামী ২০ বছরের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।

  • খনিজ সম্পদের নিয়ন্ত্রণ: ইলেকট্রিক গাড়ি ও আধুনিক অস্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ সম্পদের ওপর চীন পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।

  • নেতৃত্বহীন বিশ্ব: ব্রেমারের মতে, বিশ্ব এখন একটি ‘জি-জিরো’ (G-Zero) পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে—যেখানে কোনো একটি দেশ বা জোট (যেমন G7 বা G20) এককভাবে বিশ্ব পরিচালনার ক্ষমতা রাখে না।

ইয়ানে ব্রেমারের এই বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সাল হবে এক চরম অনিশ্চয়তার বছর। একদিকে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অনিয়ন্ত্রিত বাড়বাড়ন্ত, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক দুর্বলতা—সব মিলিয়ে বিশ্ব এক নতুন সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, বিশ্বনেতারা কি এই ‘জি-জিরো’ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ হতে পারবেন, নাকি প্রত্যেকে নিজের স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত থেকে পৃথিবীকে আরও বিপদের মুখে ঠেলে দেবেন?

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator