আশুলিয়ায় দুর্নীতির প্রতিবেদন প্রকাশ করার কারনে —সাংবাদিকে প্রাণনাশের হুমকি ইউপি সদস্য হেলাল মেম্বার ।
ঢাকার সাভার উপজেলার আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হেলাল মেম্বারের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিক কামরুল হাসান শরীফকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং সাংবাদিক মহলে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, সম্প্রতি সাংবাদিক কামরুল হাসান শরীফ শিমুলিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে সরকার বরাদ্দকৃত উন্নয়ন সামগ্রী নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।
প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, মহাসড়কের জন্য বরাদ্দকৃত ইট আত্মসাৎ, অসহায়দের জন্য বরাদ্দকৃত চাল বিতরণে অনিয়ম এবং সেলাই মেশিন বিতরণে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে।
প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর ইউপি সদস্য হেলাল মেম্বার ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক। তিনি জানান, প্রকাশিত সংবাদের জেরে হেলাল মেম্বার তাকে সরাসরি ফোনে এবং বিভিন্ন মাধ্যমে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এমনকি “সংবাদ বন্ধ না করলে মারাত্মক পরিণতি ভোগ করতে হবে” বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সাংবাদিক কামরুল হাসান শরীফ বলেন, “আমি পেশাগত দায়িত্ববোধ থেকে দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরেছি। কিন্তু তার প্রতিক্রিয়ায় আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। তারা অবিলম্বে হুমকিদাতার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এলাকাবাসীর একটি অংশ জানান, দীর্ঘদিন ধরে হেলাল মেম্বারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ শোনা গেলেও প্রভাবের কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাননি। তবে সাম্প্রতিক এই প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে বিষয়টি সামনে আসে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত হেলাল মেম্বারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এদিকে, সাংবাদিক কামরুল হাসান শরীফ বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা দ্রুত এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে স্বাধীন গণমাধ্যম হুমকির মুখে পড়বে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হুমকির ঘটনা বেড়েছে, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য অশনিসংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।