আমেরিকা বনাম ইরান: যুদ্ধের নতুন মোড় ও মুসলিম উম্মাহর নেতৃত্বে ইরান?.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

আমেরিকা বনাম ইরান: যুদ্ধের নতুন মোড় ও মুসলিম উম্মাহর নেতৃত্বে ইরান?..

Abdullah Al Mamun avatar   
Abdullah Al Mamun
আমেরিকা বনাম ইরান: যুদ্ধের নতুন মোড় ও মুসলিম উম্মাহর নেতৃত্বে ইরান?..
আমেরিকা বনাম ইরান: যুদ্ধের নতুন মোড় ও মুসলিম উম্মাহর নেতৃত্বে ইরান?..
ছবি: সংগৃহীত
৫৭টি মুসলিম দেশের মধ্যে ইরানই একমাত্র দেশ হিসেবে আমেরিকার চোখে চোখ রেখে লড়াই করার মর্যাদা পাবে, যা সৌদি আরব বা তুরস্কের অবস্থানকে ছাপিয়ে যেতে পারে।..

ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার চলমান ছায়াযুদ্ধ ও সম্মুখ সংঘাত এখন এক জটিল মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞ মেজর গৌরব আর্যের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আমেরিকা তার বিপুল সামরিক শক্তি দিয়ে ইরানকে ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখলেও, যুদ্ধের মাঠের বাস্তবতা আমেরিকার জন্য সম্মানজনক হচ্ছে না।

  • মার্কিন মর্যাদায় বড় আঘাত: গত কয়েক দিনে আমেরিকার প্রায় ২০টির মতো যুদ্ধবিমান ও ড্রোন ভূপাতিত হয়েছে। যদিও পেন্টাগন ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করছে, তবুও এটি মার্কিন সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের (Prestige) ওপর বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে F-15E যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়া বিশ্ববাজারে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির গল্পকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

  • পাইলট উদ্ধার ও প্রোপাগান্ডা যুদ্ধ: ইরানি পাহাড়ে আটকে পড়া মার্কিন পাইলটকে অত্যন্ত দুঃসাহসিক অভিযানের মাধ্যমে মার্কিন কমান্ডোরা উদ্ধার করে নিয়ে গেছে। ইরান চেয়েছিল পাইলটকে বন্দি করে টেলিভিশনের সামনে বসিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রচার চালাতে, কিন্তু আমেরিকার সফল উদ্ধার অভিযানে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে।

  • মুসলিম উম্মাহর নেতা হিসেবে ইরানের উত্থান: মেজর গৌরব আর্য মনে করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি এখন যুদ্ধ থামিয়ে ‘ইউ-টার্ন’ নেন এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে পিছু হটেন, তবে ইরান মুসলিম বিশ্বের অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে আবির্ভূত হবে। ৫৭টি মুসলিম দেশের মধ্যে ইরানই একমাত্র দেশ হিসেবে আমেরিকার চোখে চোখ রেখে লড়াই করার মর্যাদা পাবে, যা সৌদি আরব বা তুরস্কের অবস্থানকে ছাপিয়ে যেতে পারে।

  • তেল ও ট্রাম্পের প্রকৃত উদ্দেশ্য: ট্রাম্প বারবার তার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ‘তেল’ (Oil) দখলের কথা উল্লেখ করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক অস্ত্র ঠেকানো বা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য নয়; বরং ইরানের তেলের খনিগুলো কবজায় আনাই তার আসল উদ্দেশ্য।

যুদ্ধের মাঝপথে মার্কিন সেনাপ্রধান জেনারেল র‍্যান্ডি জর্জকে বরখাস্ত করা এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের কুরুচিপূর্ণ ভাষা প্রয়োগ মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরে চরম বিশৃঙ্খলা ও মতভেদকে স্পষ্ট করে তুলেছে। অনেকেই মনে করছেন, ‘এপস্টাইন ফাইল’ (Epstein Files)-এর কেলেঙ্কারি থেকে বিশ্ববাসীর নজর ঘোরাতেই ট্রাম্প ইরানের ওপর এই ভয়াবহ যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছেন।

উপসংহার: আগামী কয়েক সপ্তাহ বিশ্ব রাজনীতির জন্য অত্যন্ত সংকটময়। আমেরিকা কি আসলেই ইরানকে ধ্বংস করে তেলের দখল নেবে, নাকি ইরান এক নতুন বিশ্বশক্তি হিসেবে মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্ব দেবে—তা সময়ই বলে দেবে।

Keine Kommentare gefunden


News Card Generator