মার্কিন বিমান ভূপাতিত, নিখোঁজ পাইলট: ইরানের আকাশে ‘নতুন ভিয়েতনাম’ দেখছে আমেরিকা.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

মার্কিন বিমান ভূপাতিত, নিখোঁজ পাইলট: ইরানের আকাশে ‘নতুন ভিয়েতনাম’ দেখছে আমেরিকা..

Abdullah Al Mamun avatar   
Abdullah Al Mamun
মার্কিন বিমান ভূপাতিত, নিখোঁজ পাইলট: ইরানের আকাশে ‘নতুন ভিয়েতনাম’ দেখছে আমেরিকা..
মার্কিন বিমান ভূপাতিত, নিখোঁজ পাইলট: ইরানের আকাশে ‘নতুন ভিয়েতনাম’ দেখছে আমেরিকা..
ছবি: সংগৃহীত
ওয়াশিংটন পোস্টের মতে, ট্রাম্প এই অজনপ্রিয় যুদ্ধ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন এবং তার প্রশাসনে বারবার রদবদল ঘটিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন।..

ইরানের আকাশসীমায় একটি মার্কিন F-15 যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এক নতুন এবং জটিল মোড় নিয়েছে। নিখোঁজ মার্কিন পাইলটকে নিয়ে শুরু হয়েছে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে এক স্নায়ুক্ষয়ী দৌড়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই একটি ঘটনা ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং আমেরিকার সামরিক শ্রেষ্ঠত্বকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।

গত ৩ এপ্রিলের হামলায় মার্কিন বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর দুই পাইলটের মধ্যে একজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অন্যজন এখনও নিখোঁজ। যদি এই পাইলট ইরানের হাতে বন্দি হন, তবে তা আমেরিকার জন্য চরম অবমাননাকর হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ও অবসরপ্রাপ্ত জেনারেলরা এই যুদ্ধকে ‘নতুন ভিয়েতনাম’ হিসেবে অভিহিত করতে শুরু করেছেন। ভিয়েতনাম যুদ্ধের মতো এখানেও আমেরিকা একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধের চোরাবালিতে আটকে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আমেরিকা দাবি করেছিল তারা ইরানের আকাশপথ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করছে, কিন্তু গত কয়েকদিনের ঘটনা সেই দাবিকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। জানা গেছে, ইরান প্রথাগত রাডার সিস্টেমের পরিবর্তে ‘ইনফ্রারেড সেন্সর’ ব্যবহার করছে। এই প্রযুক্তিতে রাডার সিগন্যাল না পাঠিয়ে বিমানের নির্গত তাপ (Heat) শনাক্ত করে হামলা চালানো হয়। ফলে মার্কিন বিমানের উন্নত রাডার ওয়ার্নিং সিস্টেম বুঝতেই পারছে না যে তারা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এই প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ বিশ্বজুড়ে মার্কিন সামরিক প্রযুক্তির শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

পেন্টাগন ক্ষয়ক্ষতি লুকাতে চাইলেও তথ্য অনুযায়ী, ৩ এপ্রিল একদিনেই আমেরিকা ৪-৫টি বিমান ও হেলিকপ্টার হারিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • F-15 Strike Eagle: ৪টি (৩টি কুয়েতে এবং ১টি ইরানের ভেতরে)।

  • A-10 Thunderbolt 2 (Warthog): নিখোঁজ পাইলটকে খুঁজতে গিয়ে এটি পারস্য উপসাগরে বিধ্বস্ত হয়।

  • HH-60W হেলিকপ্টার: উদ্ধার অভিযানে গিয়ে এটিও হামলার শিকার হয়।

এখন পর্যন্ত এই যুদ্ধে আমেরিকার ব্যয় ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে এবং দৈনিক খরচ প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার। ট্রাম্প প্রশাসন আগামী বছরের জন্য ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের এক বিশাল প্রতিরক্ষা বাজেট দাবি করেছে, যা নিয়ে মার্কিন সাধারণ জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবার বরাদ্দ কমিয়ে যুদ্ধের পেছনে এই বিপুল অর্থ ব্যয় ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস নামিয়েছে।

রয়টার্স ও ইকোনমিস্টের জরিপ অনুযায়ী, ৭৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানে স্থল অভিযানের ঘোর বিরোধী। ট্রাম্পের ‘অ্যাপ্রুভাল রেটিং’ দ্রুত নামছে। ওয়াশিংটন পোস্টের মতে, ট্রাম্প এই অজনপ্রিয় যুদ্ধ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন এবং তার প্রশাসনে বারবার রদবদল ঘটিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন।

মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ বারবার দাবি করেছেন যে ইরানের ৯০ শতাংশ সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ৪ এপ্রিল ইরান তাদের হামলার ৯৩তম ঢেউ (93rd wave) শুরু করেছে। নিউইয়র্ক টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান অত্যন্ত দ্রুতগতিতে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত মিসাইল বাঙ্কারগুলো মেরামত করে পুনরায় যুদ্ধের উপযোগী করে তুলছে।

সব মিলিয়ে, ইরানের আকাশে আমেরিকার যে একচ্ছত্র আধিপত্যের দাবি ছিল, তা এখন বড় ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন। নিখোঁজ পাইলট উদ্ধার হোক বা না হোক, এই যুদ্ধ ইতিমধ্যে আমেরিকার সামরিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তিতে এক বড় ক্ষত তৈরি করেছে।

Keine Kommentare gefunden


News Card Generator