অটোরিকশা চালক কালামকে জিম্মি করে ১৩ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায়, অভিযুক্ত বিএনপি নেতা শহিদুল—এলাকায় চাঞ্চল্য.... | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

অটোরিকশা চালক কালামকে জিম্মি করে ১৩ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায়, অভিযুক্ত বিএনপি নেতা শহিদুল—এলাকায় চাঞ্চল্য....

KAMRUL HASAN SHARIF avatar   
KAMRUL HASAN SHARIF
অটোরিকশা চালক কালামকে জিম্মি করে ১৩ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায়, অভিযুক্ত বিএনপি নেতা শহিদুল—এলাকায় চাঞ্চল্য....
অটোরিকশা চালক কালামকে জিম্মি করে ১৩ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায়, অভিযুক্ত বিএনপি নেতা শহিদুল—এলাকায় চাঞ্চল্য....
ছবি: সংগৃহীত
আশুলিয়া প্রতিনিধি শরীফ মিয়া

অটোরিকশা চালক কালামকে জিম্মি করে ১৩ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায়, অভিযুক্ত বিএনপি নেতা শহিদুল—এলাকায় চাঞ্চল্য

 আশুলিয়ার জিরানী বাজার এলাকায় অটোরিকশা চালক কালামকে জিম্মি করে ১৩ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায়ের একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির মূল দলের সেক্রেটারি শহিদুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, যা এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

ভুক্তভোগী কালাম জানান, ঘটনার দিন তিনি প্রতিদিনের মতো অটোরিকশা নিয়ে বের হন জীবিকার তাগিদে। দুপুরের দিকে কয়েকজন ব্যক্তি যাত্রী সেজে তার গাড়িতে ওঠে এবং তাকে জিরানী বাজার সংলগ্ন একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যেতে বলে। সেখানে পৌঁছানোর পরই চিত্র পাল্টে যায়। 

পূর্বপরিকল্পিতভাবে অপেক্ষমাণ আরও কয়েকজন যোগ দিয়ে তাকে জোরপূর্বক একটি ঘরের ভেতর নিয়ে যায় এবং আটকে রাখে।
কালাম অভিযোগ করেন, তাকে একটি অন্ধকার কক্ষে আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়। একপর্যায়ে তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অপহরণকারীরা। পরিবারের কাছে ১৩ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে তাকে গুরুতর ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়।

অসহায় পরিবার আতঙ্কে দ্রুত টাকা জোগাড়ের চেষ্টা করে। পরে নির্ধারিত স্থানে নগদ ১৩ হাজার টাকা পৌঁছে দিলে কালামকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে মুক্তিপণ আদায়ের পরও তাকে মারধরের শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে দুর্বৃত্তরা তাকে একটি রাস্তার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, পরে পথচারীরা কালামকে উদ্ধার করে এবং তার পরিবারের কাছে খবর দেয়। আহত অবস্থায় তাকে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল ও মানসিকভাবে আতঙ্কগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছেন।

এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নানা অপকর্ম করে আসছে। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তারা সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযুক্ত শহিদুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঘটনাটি ব্যক্তিগত বা স্থানীয় কোনো বিরোধের জেরেও হতে পারে। তারা দাবি করেন, দলীয়ভাবে এমন কর্মকাণ্ডকে কোনোভাবেই সমর্থন করা হয় না।
আশুলিয়া থানার দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে তারা অবগত হয়েছেন এবং অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

সচেতন মহল বলছে, এ ধরনের ঘটনা শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিই নয়, বরং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দেয়। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে স্থানীয়দের অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ আরও বাড়তে পারে। তাই প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপই পারে জনগণের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে—এমনটাই মনে করছেন তারা।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator