চাল চুরির প্রতিবাদে চেয়ারম্যানের হাতে দরিদ্র সোহেলকে মারধরের অভিযোগ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

চাল চুরির প্রতিবাদে চেয়ারম্যানের হাতে দরিদ্র সোহেলকে মারধরের অভিযোগ..

Nahid Hasan avatar   
Nahid Hasan
চাল চুরির প্রতিবাদে চেয়ারম্যানের হাতে দরিদ্র সোহেলকে মারধরের অভিযোগ..
চাল চুরির প্রতিবাদে চেয়ারম্যানের হাতে দরিদ্র সোহেলকে মারধরের অভিযোগ..
ছবি: সংগৃহীত
****

 

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সরকারি বরাদ্দের ভিজিএফ চাল চুরির অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ করায় সোহেল মিয়া নামে এক দরিদ্র গ্রাহক মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সহ সভাপতি মো: ফরিদ মিয়া ও তার বড় ছেলে সোহেল মিয়াসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বহরা ইউনিয়ন পরিষদে এ ঘটনা ঘটে। আহত দরিদ্র নাগরিক সোহেল মিয়ার বাড়ি বহরা ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত প্রায় ১৪ টন ভিজিএফ চাল বিতরণ চলছিল। এ সময় কয়েকজন উপকারভোগী চাল না পাওয়ার অভিযোগ তোলেন। পরে ইউনিয়ন পরিষদের পাশের একটি দোকান থেকে ৪ থেকে ৫ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়, যা বিতরণের আগেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে বিষয়টি সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন সোহেল মিয়া। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বহরা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ফরিদ মিয়া তার ছেলে ও গ্রাম পুলিশের কয়েকজন সদস্যকে নিয়ে সোহেল মিয়াকে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে নিয়ে মারধর করেন।

ঘটনার সময় চাল বিতরণের তদারকি কর্মকর্তা ও মাধবপুর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী তুষার পাল এবং মনতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই মামুনসহ পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে তারা ঘটনাস্থলে থাকলেও কোনো হস্তক্ষেপ করেননি বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ।
ভুক্তভোগী সোহেল মিয়া বলেন, “চাল পাচারের বিষয়টি আমি ধরিয়ে দিয়েছিলাম। এর ফল হিসেবে আমাকে মারধর করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
তবে প্যানেল চেয়ারম্যান ফরিদ মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। তাকে শুধু শাসন করা হয়েছে।”

স্থানীয় নারী উদ্যোক্তা সাবানা চৌধুরী বলেন, “আমি ঘটনাটি দেখেছি। এভাবে একজন অসহায় মানুষকে মারধর করা মানবাধিকারের পরিপন্থী। এ ঘটনার বিচার হওয়া উচিত।”

এবিষয়ে জানতে চাইলে বহরা ইউনিয়নের দায়িত্বরত প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সহ সভাপতি মো: ফরিদ মিয়া বলেন, মনতলা তদন্ত কেন্দ্রের আইসি, কনস্টেবল এবং ট্যাগ অফিসার তুষার পালের সামনে মারছেন বলে স্বীকার করেছেন।

চাল বিতরণের তদারকি কর্মকর্তা তুষার পাল বলেন, চেয়ারম্যান সাহেব একজন নাগরিককে এভাবে আঘাত করতে পারেন না, ইউনিয়নের একজন নাগরিককে চেয়ারম্যান সাহেব এভাবে মারছে এটা অবশ্যই অন্যায় কাজ করছে, একদম বাজে হয়েছে। “ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।


এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ বিন কাসেম বলেন, “ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে কয়েকজন ব্যক্তি সোহেল মিয়াকে মারধর করতে দেখা যায়।
ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ভিজিএফের উপকারভোগীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

コメントがありません


News Card Generator