প্রখ্যাত সাংবাদিক মেহদী হাসান সম্প্রতি পশ্চিমা গণমাধ্যমের চরম পক্ষপাতিত্ব এবং ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার আসল উদ্দেশ্য নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। 'ইন্ডিয়া টুডে' (India Today) এবং 'জিতেও' (Zeteo)-তে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ইসরায়েলের গোপন পারমাণবিক অস্ত্র এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক কূটকৌশলের বিষয়টি প্রকাশ্যে এনেছেন।
মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এই সাম্প্রতিক হামলাকে 'জাস্ট ওয়ার' বা ন্যায়সংগত যুদ্ধ বলে দাবি করলেও মেহদী হাসান একে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলেছেন।
-
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্বীকার করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সরাসরি কোনো আসন্ন হুমকি ছিল না।
-
রুবিওর দেওয়া তথ্যমতে, ইসরায়েল ইরানে হামলার পরিকল্পনা করেছিল এবং আমেরিকা জানত যে ইসরায়েল হামলা করলে ইরান আমেরিকার ওপর পাল্টা হামলা চালাবে; তাই আমেরিকা আগেভাগেই ইরানে আক্রমণ করেছে।
-
মেহদী হাসান জানান, এমনকি ইসরায়েলপন্থি ডেমোক্র্যাটরাও প্রকাশ্যে বলছেন যে ইসরায়েলের ওপর হুমকি মানেই সেটি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর হুমকি নয়।
মেহদী হাসানের মতে, এই যুদ্ধ মূলত ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের এজেন্ডা বাস্তবায়নের ফসল।
-
নেতানিয়াহু গত ৪০ বছর ধরে ইরানে বোমা হামলার স্বপ্ন দেখছিলেন বলে নিজেই স্বীকার করেছেন।
-
জর্জ ডব্লিউ বুশ, বিল ক্লিনটন, বারাক ওবামা এবং জো বাইডেনের মতো সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টরা নেতানিয়াহুর এই প্রস্তাবে সরাসরি অসম্মতি জানিয়েছিলেন।
-
তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে এই চরম পদক্ষেপে সায় দিয়েছেন।
-
মেহদী হাসান যুক্তি দেন, ট্রাম্প হয়তো দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট এবং সম্প্রতি ফাঁস হওয়া 'এপস্টেইন ফাইলস' (Epstein files) সংক্রান্ত বিতর্ক থেকে জনগণের মনোযোগ সরাতেই এই হামলার পথ বেছে নিয়েছেন।
পশ্চিমা মিডিয়াগুলো ইরান-ইসরায়েল সংকট কভারেজের ক্ষেত্রে একটি বিকৃত চিত্র তুলে ধরছে বলে অভিযোগ করেন এই সাংবাদিক।
-
মিডিয়া এমনভাবে খবর প্রচার করছে যেন ইরান বিনা উসকানিতে হামলা করেছে, অথচ সত্য হলো ইসরায়েলই প্রথমে বেআইনি আগ্রাসন চালিয়েছে এবং ইরান মূলত ভিকটিম।
-
পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সরব হলেও ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে সম্পূর্ণ নীরব থাকে।
-
ইরানের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নেই, কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে ইসরায়েলের হাতে ৮০ থেকে ৪০০টির মতো পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে।
-
ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তিতে (NPT) স্বাক্ষর করেছে এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে (IAEA) পরিদর্শনের অনুমতি দিয়েছে, কিন্তু ইসরায়েল এসবের কিছুই করেনি।
-
১৯৮১ সালের জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ৪৮৭ নম্বর রেজুলেশন অনুযায়ী ইসরায়েলকে তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো IAEA-এর সুরক্ষায় রাখার আহ্বান জানানো হলেও ইসরায়েল তা মানেনি।