অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে ইফতার আয়োজন, ইবি শিবির সেক্রেটারির… | আই নিউজ বিডি

অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে ইফতার আয়োজন, ইবি শিবির সেক্রেটারির প্রতিবাদ..

Mahfujul Haque Piyas avatar   
Mahfujul Haque Piyas
অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে ইফতার আয়োজন, ইবি শিবির সেক্রেটারির প্রতিবাদ..
অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে ইফতার আয়োজন, ইবি শিবির সেক্রেটারির প্রতিবাদ..
ছবি: সংগৃহীত
****

 

ইবি প্রতিনিধি:
শুধু আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) হলগুলোতে ইফতার আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে হল প্রশাসন। প্রভোস্ট কাউন্সিলের এ সিদ্ধান্তকে বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারী রাশেদুল ইসলাম রাফি, ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ ও ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নুর আলমসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে প্রভোস্ট কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হল প্রশাসন বিজ্ঞপ্তি দেয়, যেখানে জানানো হয়– পবিত্র রমজান উপলক্ষে আগামী ৮ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব আবাসিক হলে ইফতারের আয়োজন করা হবে। ইফতার সংগ্রহের জন্য ০৩ ও ০৪ মার্চ অফিস সময়ে হল আইডি কার্ড দেখিয়ে টোকেন নিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের পর টোকেন প্রদান করা হবে না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে এক ফেসবুক পোস্টে শাখা ছাত্রশিবির সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হল প্রশাসন কর্তৃক শিক্ষার্থীদের জন্য ইফতারের আয়োজন নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় ও মানবিক উদ্যোগ। এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এজন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানাই।
তবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, এই আয়োজনটি শুধুমাত্র আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। বিষয়টি অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্যমূলক বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। কারণ, তারাও হলের বিভিন্ন ফি পরিশোধ করেন এবং রমজান মাসে পড়াশোনার স্বার্থেই ক্যাম্পাসে অবস্থান করে থাকেন। তাই তাদের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল। আমরা আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি আন্তরিকভাবে পর্যালোচনা করে অতি দ্রুত সকল শিক্ষার্থীর জন্য ইফতারের ব্যবস্থা গ্রহণে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন। সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলেই এ উদ্যোগটি সত্যিকার অর্থে আরও অর্থবহ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়ে উঠবে।”

ছাত্রদল আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ বলেন, “পবিত্র রমজানে ইফতার করানো যেখানে সওয়াব ও মহৎ কাজ হিসেবে বিবেচিত, সেখানে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে আয়োজন করা স্পষ্ট বৈষম্য ও অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের পরিচায়ক। নিয়মিত হল ফি প্রদান করেও তারা ন্যায্য অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এ ধরনের অন্যায্য ও বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবিলম্বে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করে সমতা, ন্যায় ও সহমর্মিতাভিত্তিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।”

অন্যদিকে, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নুর আলম তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “আপনাদের বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। শতভাগ আবাসিকতা নিশ্চিত করতে না পারা প্রশাসনের ব্যর্থতা। তাই বলে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা যায় না। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করুক, নইলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে।”

প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনাবাসিক শিক্ষার্থীরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

Комментариев нет


News Card Generator