খাঁন মোঃ আঃ মজিদ দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি
দিনাজপুর জেলার বোচাগঞ্জ উপজেলায় এক প্রবীণ সাংবাদিক ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক মোঃ আঃ মজিদ খাঁ (৬৪), পিতা—মহির উদ্দীন খাঁ, মাতা—ফুলজান বেওয়া। তার স্থায়ী ঠিকানা—গ্রাম মুর্শিদহাট মালিপাড়া, ০৭ নং ওয়ার্ড, সেতাবগঞ্জ পৌরসভা। বর্তমানে তিনি মুর্শিদহাট শহিদপাড়া (মাস্টারপাড়া রোড, তিনমাথা), মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিনের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছেন। থানা—বোচাগঞ্জ, জেলা—দিনাজপুর।
ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগে জানান, তার বিরুদ্ধে ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ব্ল্যাকমেইল ও প্রাণনাশের হুমকিতে জড়িত রয়েছে মোট ১৮ জন নামীয় আসামি এবং অজ্ঞাতনামা আরও অনেকে।
অভিযোগে উল্লেখিত বিবাদীরা হলেন—
১) সোহেল রানা ওরফে গাঙ্গুয়া (৩০),
২) মোঃ রনি ওরফে কেকড়া (২৭),
উভয়ের পিতা—মৃত আইয়ুব আলী, সাং—মুর্শিদহাট রেলকলোনীপাড়া।
৩) মোঃ রুবেল খাঁ (৩৪),
৪) মোঃ সোহেল খাঁ (৩২),
উভয়ের পিতা—আঃ মজিদ খাঁ।
৫) মোছাঃ ইভা বেগম (২৮), স্বামী—রুবেল খাঁ,
৬) মোছাঃ লাবনী বেগম (২৬), স্বামী—সোহেল খাঁ।
৭) মোঃ সাগর (২৯), পিতা—অজ্ঞাত, মাতা—রুমানা বেগম রুবি।
৮) মোঃ হোসেন (২৫), পিতা—মোঃ সামসুল।
(৭ ও ৮ নং বিবাদীর ঠিকানা—মুর্শিদহাট কলেজপাড়া)।
৯) লাইছুর রহমান (৫৪), পিতা—মৃত মফির উদ্দীন,
১০) লিপি আক্তার (৪৪), স্বামী—লাইছুর রহমান,
১১) মোছাঃ আশা আক্তার (২৬), পিতা—লাইছুর রহমান,
১২) মোছাঃ রাশিদা আক্তার (৩০), স্বামী—দেলোয়ার হোসেন,
১৩) মোঃ নয়ন মিয়া (২৪), পিতা—লাইছুর রহমান।
১৪) মোঃ দেলোয়ার হোসেন (৩৭), পিতা—মোমিন ওরফে হামিদুর,
১৫) মোঃ আশরাফুল ইসলাম (৩৫), পিতা—আব্দুস সামাদ,
উভয়ের ঠিকানা—জালগাঁও, ৩ নং ইউনিয়ন পরিষদ।
১৬) মোছাঃ মীরা কাশমেরী (৪০), সাবেক ইউপি সদস্য, স্বামী—আব্দুল আলিম,
১৭) মোঃ আব্দুল মালেক ওরফে চৌধুরী (৫৫), পিতা—মৃত মছির উদ্দীন,
১৮) আব্দুল আলিম (৪৮), পিতা—অজ্ঞাত,
(১৬, ১৭ ও ১৮ নং বিবাদীদের ঠিকানা—পুরাতন গুচ্ছগ্রাম, ১ নং নাফানগর ইউনিয়ন, ডাকঘর বড়সুলতানপুর, থানা বোচাগঞ্জ, জেলা দিনাজপুর)।
এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও অনেকে রয়েছে, যাদের দেখলে ভুক্তভোগী চিনতে পারবেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ভুক্তভোগীর দাবি, অভিযুক্তরা সবাই সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও অপরাধী প্রকৃতির। রুবেল, সোহেল, ইভা ও লাবনীর বিরুদ্ধে পূর্বে সিআর মামলা নং ১৫১/২৪, ১৮৪/২৪ এবং পি মামলা নং ৩৬৬/২৪ চলমান রয়েছে। এছাড়া ৯ নং থেকে ১৮ নং বিবাদীদের বিরুদ্ধে বোচাগঞ্জ থানা ও দিনাজপুর আদালতে মামলা নং ৪/২৩, দিনাজপুর কোর্ট বিচার ফাইল নং ১২৯/২৩, সিআর মামলা নং ৯০১/২৪, ২২৩/২৪, ২৫৪/২৪, ২৬৬/২৫, পি মামলা নং ২৪/২৬, সিআর মামলা নং ২২/২৬ এবং দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার জিডি নং ২১৯৫/২৪ (নিখোঁজ ডায়েরি), বোচাগঞ্জ থানার জিডি নং ৩৩৩/২৪ (নগদ টাকা ও অলংকার সংক্রান্ত), জিডি নং ৮১৭/২৬ (নিখোঁজ ডায়েরি), অনলাইন জিডি নং ১০১৫, জিডি নং ৫৩ ও জিডি নং ১০৪৪ বিদ্যমান রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, ৩ নং থেকে ১৮ নং বিবাদীদের হুকুমে ১ নং থেকে ৪ নং বিবাদী দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগীকে প্রকাশ্যে নিয়মিত হুমকি, চাঁদা দাবি ও ব্ল্যাকমেইল করে আসছে। এর ফলে তিনি ও তার পরিবার চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী জানান, গত ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি তারিখ থেকে তাকে ও তার পরিবারকে একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এর আগেও ৯ জুন ২০২৫ ইং তারিখে কলেজ রোড রেলঘুন্টি মোজাম্মেলের চায়ের দোকানের সামনে ২৫–৩০ জনের একটি দল নিয়ে অভিযুক্তরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। পরে ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে সেতাবগঞ্জ কলেজ রোড রেলঘুন্টি সরস্বতীর চায়ের দোকানের ভেতরে ঢুকে তাকে মারধর করা হয়, এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন।
সর্বশেষ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে সেতাবগঞ্জ পৌরসভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য স্বপনের দোকানের সামনে ১ নং বিবাদী সোহেল রানা ওরফে গাঙ্গুয়া প্রকাশ্যে তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। ওই সময় ঘটনাস্থলে ভ্যানচালক আলাল, মজিদ খানের ছেলে রসূল খানসহ পথচারী ও স্থানীয় লোকজন উপস্থিত ছিলেন এবং তারা পুরো ঘটনা প্রত্যক্ষ ও শ্রবণ করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ভুক্তভোগীর দুই শিশু কন্যা জান্নাতি আক্তার (৬) ও মিম আক্তার (৪), অভিযুক্ত আশা আক্তার, ১৭ লাখ ৯ হাজার ২০০ টাকা নগদ অর্থ, কোটি টাকার সম্পদ ও জরুরি ফাইল উদ্ধারের বিষয়ে সোহেল রানা ও তার সহযোগীদের সঙ্গে সমঝোতার নামে তাকে অর্থ দিতে বাধ্য করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে প্রথমে ১২ হাজার টাকা এবং পরে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পের মাধ্যমে আরও ২০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়, যা একাধিক ব্যক্তির উপস্থিতিতে লেনদেন হয়।
এত কিছুর পরও অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে তাকে ব্ল্যাকমেইল করে আসছে। এখনও আরও নগদ টাকা দাবি করা হচ্ছে এবং অভিযুক্তদের পক্ষ নিয়ে উভয় পক্ষের কাছ থেকেই হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।
ভুক্তভোগীর দাবি, টাকা না দিলে তাকে সেতাবগঞ্জ পৌরসভা এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করা হবে, নতুবা তাকে খুন করে গুম করে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সর্বশেষ হুমকির ঘটনায় ১ নং বিবাদী সোহেল রানা ওরফে গাঙ্গুয়া প্রকাশ্যে লোকসমাজের সামনে পুনরায় প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
এতে করে প্রবীণ সাংবাদিক মোঃ আঃ মজিদ খাঁ ও তার পরিবার, বিশেষ করে দুই শিশু কন্যা নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি ঘটনার সরেজমিনে তদন্ত, নিরপেক্ষতা বজায় রেখে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।