একাধিক মামলা ও জিডি থাকা সত্ত্বেও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

একাধিক মামলা ও জিডি থাকা সত্ত্বেও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ..

MD ABDUL MAZID KHAN avatar   
MD ABDUL MAZID KHAN
একাধিক মামলা ও জিডি থাকা সত্ত্বেও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ..
একাধিক মামলা ও জিডি থাকা সত্ত্বেও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ..
ছবি: সংগৃহীত
****

 

 

দিনাজপুর প্রতিনিধি : খাঁন মোঃ আঃ মজিদ

 

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা আব্দুল মজিদ খান নিজেকে একজন ভুক্তভোগী অথচ সচেতন নাগরিক হিসেবে দাবি করে তার স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তার অভিযোগ—পরিকল্পিতভাবে সংসার ভেঙে দেওয়া, কোটি টাকার সম্পদ আত্মসাৎ এবং সর্বশেষ দুই শিশু কন্যা সন্তানকে জোরপূর্বক আটকে রেখে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন।

 

ভুক্তভোগীর লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী, আব্দুল মজিদ খানের প্রথম স্ত্রী রহিমা বেগম ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে পিতামাতার বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। ওই সংসারে তার চার পুত্র সন্তান রয়েছে। সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় নিয়ে ২০১৮ সালে তিনি আশা আক্তারকে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন। প্রায় সাত বছর ছয় মাসের দাম্পত্য জীবনে তাদের তিন কন্যা সন্তানের জন্ম হয়।

 

কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, শ্বশুর লাইসুর রহমান, শাশুড়ি লিপি আক্তার, দুলাভাই দেলোয়ার হোসেনসহ শ্বশুরবাড়ির অন্যান্য সদস্যদের কুপরামর্শে আশা আক্তার মোট আটবার সংসার ত্যাগ করেন। কন্যা সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে ভুক্তভোগী বারবার সব কিছু সহ্য করে সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতি ঘটে।

 

ভুক্তভোগীর দাবি, এই সুযোগে অভিযুক্তরা তাকে—

 

তিনটি বসতবাড়ি বিক্রি করতে বাধ্য করে

 

নগদ ১৭ লাখ ৯ হাজার ২০০ টাকা আত্মসাৎ করে

 

এবং প্রায় কোটি টাকার সম্পদ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ জরুরি ফাইল জোরপূর্বক নিয়ে গিয়ে জিম্মি করে রাখে

 

শিশু সন্তান আটক ও হুমকি

 

সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটে গত ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে। অভিযোগ অনুযায়ী, আশা আক্তারের পরিবারের লোকজন জোরপূর্বক তাকে তার নিজ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় এবং বর্তমানে তার দুই শিশু কন্যা সন্তানকে বেআইনিভাবে আটক করে রাখা হয়েছে। প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হয়—

 

> “মামলা তুলে না নিলে শিশু সন্তানদের ফেরত দেওয়া হবে না।”

 

 

 

এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় আব্দুল মজিদ খান ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

 

শিশু পাচারকারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ

 

ভুক্তভোগীর আরও অভিযোগ, অভিযুক্তদের সঙ্গে শিশু পাচারকারী চক্র ও মাদক ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের যোগসাজশ রয়েছে। তার দাবি, এই অপরাধী চক্রের প্রভাব ও ভয়ভীতির কারণেই স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণে বিলম্ব হচ্ছে এবং তার শিশু কন্যাদের উদ্ধারে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জন্য তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

 

একাধিক মামলা ও জিডি

 

আব্দুল মজিদ খানের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত বোচাগঞ্জ থানা, দিনাজপুর আদালত ও নির্বাহী আদালতে নিখোঁজ, চুরি, সম্পদ আত্মসাৎ ও জিম্মি সংক্রান্ত একাধিক মামলা ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করা হয়েছে। তবে এক মাসের বেশি সময় পার হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় তিনি চরম হতাশা প্রকাশ করেন।

 

ভুক্তভোগীর দাবি

 

আব্দুল মজিদ খান বলেন,

 

> “আমি শুধু ন্যায়বিচার চাই। আমার দুই শিশু কন্যা সন্তানকে জীবিত ও নিরাপদে ফিরে পেতে চাই। কষ্টে অর্জিত সম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র উদ্ধারের জোর দাবি জানাচ্ছি।”

 

 

 

তিনি প্রশাসন, মানবাধিকার সংগঠন ও গণমাধ্যমের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের কেউ দেখামাত্র নিকটতম থানা বা পুলিশ ফাঁড়িতে সোপর্দ করলে এক লক্ষ টাকার বেশি পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণাও দেন।

Nenhum comentário encontrado


News Card Generator