ইবি ছাত্রদলের রাজনীতিতে তরুণদের অনাগ্রহ, নেপথ্যে ‘চাচার বয়সী’ নেতৃত্ব | আই নিউজ বিডি

ইবি ছাত্রদলের রাজনীতিতে তরুণদের অনাগ্রহ, নেপথ্যে ‘চাচার বয়সী’ নেতৃত্ব..

Mahfujul Haque Piyas avatar   
Mahfujul Haque Piyas
ইবি ছাত্রদলের রাজনীতিতে তরুণদের অনাগ্রহ, নেপথ্যে ‘চাচার বয়সী’ নেতৃত্ব..
ইবি ছাত্রদলের রাজনীতিতে তরুণদের অনাগ্রহ, নেপথ্যে ‘চাচার বয়সী’ নেতৃত্ব..
ছবি: সংগৃহীত
****

 

ইবি প্রতিনিধি:
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদলের নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে ‘চাচার বয়সী’ প্রবীণ নেতাদের দখলে। অছাত্র, চাকরিজীবী ও ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত এসব নেতার কারণে তরুণ কর্মীদের মধ্যে রাজনীতির আগ্রহ দিন দিন কমে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, ২০২১ সালের ১৬ জুন ইবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। তাতে লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০০৭–০৮ শিক্ষাবর্ষের সাহেদ আহম্মেদ আহ্বায়ক এবং ইংরেজি বিভাগের ২০১১–১২ শিক্ষাবর্ষের মাসুদ রুমী মিথুন সদস্য সচিব হন। তৎকালীন কেন্দ্রীয় সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল এই কমিটির অনুমোদন দেন। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন মাসের জন্য ঘোষিত সেই আহ্বায়ক কমিটি চার বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো বহাল রয়েছে। ৩১ সদস্যের এই কমিটির অধিকাংশের বয়স ৩২ থেকে ৩৭ বছরের মধ্যে। অনেকেই অছাত্র, বিবাহিত বা চাকরিজীবী, আবার কেউ কেউ বিদেশে অবস্থান করছেন। ফলে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা তাদের ‘চাচা’ বলেই সম্বোধন করেন।

সম্প্রতি ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সময়ে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়েও শিক্ষার্থীরা কটাক্ষ করেছেন। গত ২৮ জানুয়ারি ইবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদের বিরুদ্ধে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম জুয়েলকে অপহরণের অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে দিনভর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ক্যাম্পাসজুড়ে। ক্যাম্পাস জুড়ে অবস্থান কর্মসূচি, বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। তখন শিক্ষার্থীদের মুখে শোনা যায়— “আয় দেখে যা চাচারা, রাজপথে তোর ভাতিজারা”, “অপহরক আদু ভাই”, “ছি! ছি! আদু ভাই” এরকম নানা স্লোগান।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, যুগ্ম আহ্বায়ক শাহানুর হোসেন, ওমর শরীফ, আবু দাউদ ও সবুজ হোসেন বর্তমানে চাকরিজীবী। সদস্য মাহমুদুল হাসান মৃদুল বিবাহিত ও বিদেশে আছেন, মেহেদী হাসান হিরাও প্রবাসে। অন্য সদস্য সোলায়মান চৌধুরী, মনিরুল ইসলাম, জিতু আহসান, ওসমান আলী, সাব্বির হোসেন, রাফসান জনি শাওন, সানজিদা ইসলাম ও রুনা খাতুনসহ অনেকেই নিষ্ক্রিয়। এমনকি তুহিন হোসাইন, লিমন হোসাইন, সম্রাট হোসাইন ও রাজু আহম্মেদ নামের সদস্যদের অনেক কর্মী চিনেনই না।

কমিটি ঘোষণার পরপরই ১২ জন সদস্য সংবাদ সম্মেলন করে বিবাহিত ও অছাত্রদের পদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে কমিটি প্রত্যাখ্যান করেন। কর্মীদের অভিযোগ, কমিটির ৭০ শতাংশ সদস্য নিয়মিত ক্যাম্পাসে থাকেন না। এতে তরুণ ও নতুন কর্মীদের মধ্যে তীব্র হতাশা ও অনাগ্রহ দেখা দিয়েছে।

ইবি ছাত্রদলের তরুণ কর্মীরা মনে করেন, ক্যাম্পাসে সক্রিয় ও নিয়মিত শিক্ষার্থীদের দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা গেলে সংগঠনের হারানো গতি ও প্রাণ ফিরে আসবে। তারা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ নতুন কমিটি ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কর্মী জানান, “আসলে সুষ্ঠু রাজনীতি করতে হলে রেগুলার স্টুডেন্ট দিয়ে কমিটি করা দরকার। আমাদের দায়িত্বশীলরা আশ্বাস দিয়েছেন যে রেগুলার শিক্ষার্থীদের দিয়েই কমিটি করা হবে। আমরা এখনো সেই আশাতেই আছি। আশা করি কেন্দ্র দ্রুত রেগুলার শিক্ষার্থীদের দিয়ে সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে আনবে।”

আরেক কর্মী বলেন, “আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগেই ছাত্র রাজনীতি করতাম, এখনো করছি। কিন্তু আমাদের কোনো পরিচয় হয়নি। অনেকবার সিভি জমা দিয়েছি, কিন্তু কমিটি হয়নি। ত্যাগী কর্মীরা পরিচয়হীনতায় ভুগছে, নতুনরা সুযোগ পাচ্ছে। এটা হতাশাজনক।”

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন মাস মেয়াদী আহ্বায়ক কমিটি সাড়ে চার বছর ধরে বহাল কেন– জানতে চাইলে সদস্য সচিব মাসুদ রুমি মিথুন বলেন, “সব জায়গায় ওইরকম হয়ে থাকে। আহ্বায়ক কমিটি যতদিন আছে ততদিনই থাকে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার বিষয়টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।"

নতুন কমিটি আসলে সেখানে নেতৃত্বে কারা থাকবে– জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, "আমি নিজেই সভাপতি পদপ্রার্থী।"

এ বিষয়ে জানতে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।

No se encontraron comentarios


News Card Generator