দিনাজপুর নির্বাহী কোর্টে আটজনকে আসামি করে মামলা দায়ের | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

দিনাজপুর নির্বাহী কোর্টে আটজনকে আসামি করে মামলা দায়ের

MD ABDUL MAZID KHAN avatar   
MD ABDUL MAZID KHAN
দিনাজপুর নির্বাহী কোর্টে আটজনকে আসামি করে মামলা দায়ের
দিনাজপুর নির্বাহী কোর্টে আটজনকে আসামি করে মামলা দায়ের
ছবি: সংগৃহীত
****

 

খাঁন মোঃ আঃ মজিদ দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি 

 

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলায় একাধিক মামলার আসামি এক নারী তার দুই কন্যা সন্তান ও গুরুত্বপূর্ণ মামলার কাগজপত্র নিয়ে আত্মগোপনে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী স্বামী থানায় সাধারণ ডায়েরি ও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টি বর্তমানে পুলিশের তদন্তাধীন রয়েছে।

 

অভিযোগকারী মোঃ আঃ মজিদ খাঁ (৬৪), পিতা—মহির উদ্দীন খাঁ, মাতা—ফুলজান বেওয়া, সাং—মুর্শিদহাট মালিপাড়া, থানা—বোচাগঞ্জ, জেলা—দিনাজপুর। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত মোছাঃ আশা আক্তার (২৬) তার স্ত্রী। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পূর্ব থেকেই একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে বোচাগঞ্জ থানার মামলা নং ৪/২৩ (দিনাজপুর আদালতের বিচার ফাইল নং ১২৯/২৩), দিনাজপুর কোর্ট সিআর মামলা নং ২৫৪/২৪, ৯০১/২৪, ২৪৩/২৪, ২১৪৭/২৫ , বোচাগঞ্জ থানায় তদন্তধীন রয়েছে মামলা ২৬৬/২৫, দিনাজপুর নির্বাহী আদালতের এমআর মামলা নং ১/২৫ উল্লেখযোগ্য। এছাড়া দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় জিডি নং ২১৯৫/২৪ (নিখোঁজ ডায়েরি) এবং বোচাগঞ্জ থানায় জিডি নং ৩৩৩/২৪ (নগদ টাকা ও অলংকার চুরি সংক্রান্ত) দায়ের রয়েছে। বোচাগঞ্জ থানায় ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ৩০ মে ২০২৫ ও ২ জুন ২০২৫ তারিখে একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২৪ আগস্ট ২০২৫ তারিখে বোচাগঞ্জ থানার পুলিশ টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থানার হাঁটুভাঙ্গা এলাকা থেকে লাইছুর রহমান, লিপি আক্তার ও আশা আক্তারকে গ্রেফতার করে। পরদিন ২৫ আগস্ট ২০২৫ তারিখে তাদের দিনাজপুর আদালতে পাঠানো হলে পাঁচটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হওয়ায় মামলা নং ২৪৩/২৪ ও ২৫৪/২৪ এর অযোগ্য ধারায় আশা আক্তারকে জেল হাজতে পাঠানো হয়। তিনি প্রায় ২৪ দিন কারাভোগ করেন। পরবর্তীতে বাদী তার তিন কন্যা সন্তানের বিষয় বিবেচনায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে আশা আক্তারকে মুক্ত করেন। জামিনে মুক্তির পর প্রায় সাড়ে তিন মাস সংসার চলাকালীন ধনতলা মাস্টারপাড়া রোড তিনমাথা মোড় এলাকায় মোঃ লিলুর ছোট ভাই ফাহিমের ভাড়াবাড়িতে বসবাস করছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অভিযোগকারী বাড়িতে না থাকার সুযোগে অভিযুক্ত আসামি আনুমানিক সন্ধ্যা ৬ টার দিকে তার দুই কন্যা সন্তান—মোছাঃ জান্নাতি আক্তার (৫) ও মোছাঃ মিম আক্তার (৩ বছর ৬ মাস)—সহ প্রায় ১৭ থেকে ১৮ স্টাম ফাইলে সংরক্ষিত বিভিন্ন মামলার গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, এবং ডয়ারে থাকা গচ্ছিত নগদ ১ লক্ষ টাকা নিয়ে পালিয়ে যান। এরপর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে অভিযোগকারীর দাবি। এ ঘটনায় অভিযুক্তের অতপেতে থাকা সহযোগী হিসেবে ১ নং মোঃ লাইছুর রহমান পিতা মৃত মফির উদ্দিন, ২ নং মোঃ দেলোয়ার হোসেন পিতা মৃত হামিদুল (মমিন), ৩ নং নয়ন মিয়া পিতা লাইছুর রহমান, ৪ নং মোছাঃ রাশিদা বেগম স্বামী দেলোয়ার হোসেন, ৫ নং মোছাঃ লিপি বেগম স্বামী লাইছুর রহমান, ৬ নং আশরাফুল ইসলাম পিতা আব্দুস সামাদ বর্তমান ঠিকানা পুরাতন গুচ্ছগ্রাম আবাসন, ১ ইউপি নাফানগর , বড় সুলতানপুর, বোচাগঞ্জ। স্থায়ী ঠিকানা জালগাও , ৩ নং মুর্শিদাহাট, বোচাগঞ্জ। এছাড়া টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানাধীন এলাকায় বসবাসরত ৭ নং মোঃ শাহ আলম, সম্পৃক্ততার কথাও অভিযোগে বলা হয়েছে। তদন্তে পুলিশ আজ (১৭ জানুয়ারি ২০২৬) বোচাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমানের নির্দেশে ডিউটি অফিসার সাজুর মাধ্যমে ঘটনাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এসআই শামীম আকতারকে। যার ডায়েরি হিসেবে বোচাগঞ্জ থানায় জিডি নং ৮১৭/২৬ রুজু করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারসহ অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

 

Walang nakitang komento


News Card Generator