দিনাজপুরে দিনব্যাপী দুর্নীতিবাজ ডিপিইও নজরুলের তদন্ত না আইওয়াশ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

দিনাজপুরে দিনব্যাপী দুর্নীতিবাজ ডিপিইও নজরুলের তদন্ত না আইওয়াশ..

MD ABDUL MAZID KHAN avatar   
MD ABDUL MAZID KHAN
দিনাজপুরে দিনব্যাপী দুর্নীতিবাজ ডিপিইও নজরুলের তদন্ত না আইওয়াশ..
দিনাজপুরে দিনব্যাপী দুর্নীতিবাজ ডিপিইও নজরুলের তদন্ত না আইওয়াশ..
ছবি: সংগৃহীত
****

 

খাঁন মোঃ আঃ মজিদ দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি 

 

দিনাজপুরের সাবেক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (বর্তমান রংপুর) মোঃ নজরুল ইসলাম এর দুর্নীতি স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার বিষয়ে ধারাবাহিক ভাবে দৈনিক তৃতীয় মাত্রা পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলো।গত-১৩/০১/২০২৬ ইং তারিখে দিনাজপুর জেলা শিক্ষা অফিসে তদন্তের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় রাজশাহী বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক চলতি মোঃ সানাউল্লাহ তদন্তে আসেন। কিন্তু তদন্তের সময় অভিযুক্ত সাবেক ডিপিইও মোঃ নজরুল ইসলাম ও বর্তমান ডিপিইও শাহজাহান উপস্থিত থাকলে অভিযোগকারীরা তাদের অভিযোগ সঠিকভাবে দিতে না পারায় মনে মনে ক্ষুব্দ হয়েছেন। ইতিপূর্বে সাবেক ডিপিইও মোঃ নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে কয়েকবার তদন্ত হলেও আজও তিনি বহাল তরিয়তে চাকুরী করে যাচ্ছেন কোন অদৃশ্য ক্ষমতার বলে। তদন্তে ২০২৪ সালে নিয়োগ ও পদায়ন বাণিজ্য, মহিলা শিক্ষিকাদের নিজ ইউনিয়নে শূন্য পদ থাকা সত্ত্বেও দূরবর্তী বিদ্যালয়ে পদায়ন,অর্থের বিনিময়ে পুনঃ পদয়ন আদেশ,শিক্ষক বদলি ও ডেপুটেশন বাণিজ্য,পরীক্ষণ বিদ্যালয় ডেপুটেশনে অনিয়ম ও অর্থ হাতানো,বিভাগীয় মামলা প্রত্যাহারে মোটা অংকের অর্থ হাতানো,বিনা খরচে এক বছরের অধিক অফিসের গেস্ট হাউসে থাকা,২০১৮ সালের চলতি দায়িত্বের প্রধান শিক্ষককে ২০২৪ সালে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে পুনঃপদায়ন করা,অন্যায় ও জুলুমের প্রতিবাদকারী শিক্ষক কর্মকর্তাদের শায়েস্তা করতে জঙ্গি নাটকের মত মিথ্যা অভিযোগ সাজিয়ে শাস্তি দেয়া সহ কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির তথ্যাদি উপস্থিত সাক্ষী গন তদন্তকারীর নিকট উপস্থাপন করেন।রহস্যজনকভাবে তদন্তের ৯ মাস পর প্রাশিঅ পুনরায় ২০ অক্টোবর ২০২৫ সালে তদন্তের রিপোর্ট দাখিলের জন্য ১৫ কার্য দিবস সময় দিয়ে চিঠি করেন। প্রত্যক্ষদর্শীর সূত্রে উক্ত তদন্তের দিনে ডিপিইও নজরুল ইসলাম ও ডিপিইও শাহজাহান সিদ্দীক তদন্তকারীকে ম্যানেজ করতে চেষ্টা করেন কিন্তু তাৎক্ষণিক তা পারেননি।তাহলে কোন ইশারায় দুর্নীতিবাজ আওয়ামী জামাই ডিপিইও নজরুলের বিরুদ্ধে ৯ মাসেও উক্ত রিপোর্ট দাখিল হয়নি?দ্বিতীয় তদন্ত স্মারক... ১০০৪ তারিখ ২৯ এপ্রিল ২৫ সূত্রে ডিপিই কর্মকর্তা অনুজ কুমার রায় উক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রজেক্টর কেলেঙ্কারির অভিযোগ তদন্তে আসেন। প্রজেক্টর কেলেঙ্কারিতে দায়িত্ব অবহেলা,স্বেচ্ছাচারিতা,সরকারি সম্পদের ক্ষতি তথা গুরুতর অসদাচরণ প্রমাণিত হলেও উক্ত কর্মকর্তাকে গুরুদণ্ড না দিয়ে সতর্কীকরণ করা হয়।তৃতীয় তদন্ত:২০২৪ সালে ব্যক্তিগত আক্রোশ,ক্ষমতার অপব্যবহার করে বীরগঞ্জের সহকারী শিক্ষককে সকাল ১০.০৮ টায় অনুপস্থিত করে একই তারিখ বিকেলেই সাসপেন্ড করেন।অথচ ২০১৯ সালের নিমিত উপস্থিতি বিধিমালা অনুযায়ী কারণ দর্শানোর জবাব সাপেক্ষে বেতন কর্তনের বিধান রয়েছে।।সাময়িক বরখাস্তের পর দিন জঙ্গি নাটকের মত উক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভৌতিক বিষ্ণু গং বাদী বানিয়ে নিজ অফিসে অভিযোগ লিখে নিজেই দাখিল করেন।তদন্তে বিষ্ণু গং এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বললেও নজরুল খায়েশ মেটাতে তার অফিসে উক্ত শিক্ষককে ডেকে পা ধরতে বাধ্য করেন।অবশেষে নজরুলের বদলি হলে,দিনাজপুরে আসেন তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ডিপিইও এ এম শাজাহান সিদ্দিক।তাকে ভুক্তভোগী শিক্ষক সাজানো তদন্ত বাতিল করে পুনঃ তদন্তের অনুরোধ জানান। কিন্তু তিনি নজরুলের অপরাধ আড়াল করতে তদন্ত না দিয়েই উক্ত শিক্ষককে দন্ড দেন।এ তদন্তেও প্রভাব খাটান দুই ডিপিইও নজরুল ও শাহজাহান।দুই বন্ধু ডিপিইও সম্মিলিতভাবে শিক্ষকের আপিল ও পত্রিকায় প্রকাশিত সকালে অনুপস্থিত করে বিকেলে সাসপেন্ড প্রতিবেদনের তদন্ত বিলম্ব করতে ডিডি,রংপুরকে চাপ দিতে থাকেন।অবশেষে ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ডিপিইও নজরুলের নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য,শিক্ষক হয়রানি,অর্থ লেনদেন, অনিয়ম,দুর্নীতি,স্বজনপ্রীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা বিষয়ে একাধিক অভিযোগ ও একাধিক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে চতুর্থ তদন্তে আসেন রাজশাহী বিভাগের উপ-পরিচালক মোঃ সানাউল্লাহ। । নিরপেক্ষতা বজায় রাখলেও তদন্তে ডিপিইও শাজাহান সিদ্দীক বন্ধু নজরুলের অপরাধ আড়াল করতে সংশ্লিষ্ট সকল ভুক্তভোগী/সাক্ষী গণকে অবহিত করেননি।দুই ডিপিইও তদন্তের শুনানিকালে সার্বক্ষণিক তদন্তকারী কর্মকর্তার পাশে বসে থেকে তদন্তে প্রভাব বিস্তার করেন।ফলশ্রুতিতে সাক্ষীগণ সকল তথ্য প্রমাণাদি উপস্থাপন করতে পারেননি।উল্লেখিত তদন্তসমুহে একাধিক অপরাধ, অসদাচরণ,দুর্নীতি প্রমাণিত হলেও ডিপিইও নজরুল এখনো দায়িত্বশীল চেয়ারে বহাল তবিয়তে রয়েছেন।উল্লেখ্য ডিপিইও নজরুল ২০০৮ সালে লালমনিরহাটে বই চুরি ও বিক্রির অভিযোগে দীর্ঘদিন জেল হাজতে ছিলেন।রংপুরে একাধিক সূত্রে জানা যায়,দুই বন্ধু ডিপিইও নজরুল ও শাহজাহান রংপুরে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।অবৈধ অর্থর গরমে তারা কাউকেই তোয়াক্কা করেন না।এভাবেই উলিপুর আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী মজিদ হাড়ির জামাই ডিপিইও নজরুলের অপরাধের চারটি তদন্ত শেষ হলেও এখনো তিনি বহাল তবিয়তেই রয়েছেন।জনমনে প্রশ্ন তাহলে কি তদন্তের নামে আইওয়াশ চলছে?। এ ব্যাপারে রাজশাহী বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক চলতি মোঃ সানাউল্লাহ এর সঙ্গে মুঠোফোনে কয়েকবার ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। 

 

 

没有找到评论


News Card Generator