পাঁচ বছর পর থেকেই ব্যবসার হিসাব মেলাতে জটিলতা দেখা দিলে সন্দেহের ভিত্তিতে শালিস বসে। সে সময় পবিত্র কুরআন শরীফ হাতে নিয়ে সকলের সামনে চুরির অভিযোগ অস্বীকার করলে তাকে বিশ্বাস করে পুনরায় কাজে বহাল রাখা হয়। ২০২০ সালের করোনাকালেও একই ধরনের অভিযোগ উঠলেও আবারও কুরআন স্পর্শ করে অস্বীকার করায় তাকে রেখে দেওয়া হয়।
তবে পরবর্তীতে ধারাবাহিক চুরির প্রমাণ সামনে এলে শালিসে হাসেম আলী স্বীকার করেন যে গত পাঁচ বছর ধরে তিনি ক্যাশবক্স থেকে টাকা নিচ্ছিলেন। ক্ষতির পরিমাণ জানতে চাইলে দোকান মালিকের ছেলে মো. রাতুল হোসেন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার হিসাব উপস্থাপন করেন। সে সময় অভিযুক্ত ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে বাকি টাকা পরে পরিশোধের আশ্বাস দেন। এরপর তাকে দোকান থেকে বের করে দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে আনোয়ার হোসেন মানবিক কারণে আবারও তাকে কাজে বহাল করেন। তবে প্রমাণের জন্য রাতুল হোসেন দোকানের ক্যাশের সামনে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেন, যা হাসেম আলীর অজানা ছিল। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, তিনি প্রতিদিন বিভিন্ন অংকের টাকা কৌশলে ক্যাশ থেকে নিজের পকেটে নিচ্ছেন।
এরপর তাকে স্থায়ীভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়ে টাকা ফেরত চাইলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এমনকি রাতুল হোসেনকে হুমকি দিয়ে বলেন, তার জামায় একজন সেনা সদস্য আছে, কিছু করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় বিদ্যুৎ প্রবাহের বর্তমান মালিক মো. রাতুল হোসেন তথ্য-প্রমাণসহ মণিরামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও এখনো টাকা ফেরত না পেয়ে হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন।
এদিকে চালকিডাংগা এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্থানীয় অনেকেই হাসেম আলীকেই বিদ্যুৎ প্রবাহের মালিক বলে জানেন। তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মহাসড়কসংলগ্ন ১৪ শতক জমির ওপর নির্মিত আলিশান বাড়ি, গরুর খামার ও মাছের ঘের। সম্পদের উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে তার স্ত্রী দাবি করেন, সবই তাদের নিজস্ব উপার্জনের টাকা। অভিযোগের কথা উঠতেই তিনি হুমকির সুরে সেনা সদস্যের নাম উল্লেখ করেন।
অভিযুক্ত হাসেম আলী সিসি ক্যামেরার ফুটেজ অস্বীকার করে বলেন, “এক-দু’দিন খরচের জন্য ৪০–৫০ টাকা নিয়েছি, বাকিটা বানানো ভিডিও।”
তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী রাতুল হোসেনের দাবি, দীর্ঘদিনের এই চুরির কারণে তার ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তিনি এর সুষ্ঠু বিচার চান।