ইবি প্রতিনিধি:
২৪তম নবীন শিল্পী চারুকলা প্রদর্শনীতে সেরা দশের তালিকায় স্থান পেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার অর্জন করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) চারুকলা বিভাগের প্রভাষক ইমতিয়াজ ইসলাম। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা অ্যাকাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক আয়োজনে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পী অধ্যাপক আবদুস সাত্তার এবং বিচারকমণ্ডলীর সভাপতি অধ্যাপক মোস্তাফিজুল হক। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন শিল্পকলা অ্যাকাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন, আর স্বাগত বক্তব্য দেন চারুকলা বিভাগের পরিচালক আবদুল হালিম।
জানা যায়, ইমতিয়াজ ইসলামের শিল্পচর্চা ইতোমধ্যেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রশংসিত। তিনি এর আগে ২৪তম জাতীয় শিল্প প্রদর্শনী পুরস্কার, সভেরিয়ান এশিয়ান আর্ট প্রাইজ, বার্জার তরুণ শিল্পী পুরস্কারসহ দেশে-বিদেশে একাধিক সম্মাননা ও গ্র্যান্ট অর্জন করেছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট, সনদ ও অর্থমূল্যের চেক তুলে দেওয়া হয়। এবারে মোট দশজন শিল্পী পুরস্কৃত হন। এর মধ্যে স্বর্ণপদক ও দুই লাখ টাকা অর্থমূল্যের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার পেয়েছেন শিল্পী আসফিকুর রহমান। দেড় লাখ টাকা অর্থমূল্যের দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছেন সীমা মণ্ডল এবং এক লাখ টাকা অর্থমূল্যের তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছেন নুর এ আলা সিদ্দিক।
এছাড়া সম্মানসূচক পুরস্কার হিসেবে ৭৫ হাজার টাকা অর্থমূল্য পেয়েছেন তানভীর আহমেদ, লেখনেছা খাতুন, ইমতিয়াজ ইসলাম, ঋতুরূপা তালুকদার, জিন্নাতুন জান্নাত, নাজনীন আহমেদ ও অন্তরা মেহরূখ আজাদ।
বুধবার থেকে শুরু হওয়া এবারের প্রদর্শনী চলবে আগামী ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত। জাতীয় চিত্রশালার ২ থেকে ৭ নম্বর গ্যালারিতে প্রদর্শিত হচ্ছে বিপুলসংখ্যক শিল্পকর্ম-যার মধ্যে রয়েছে চিত্রকলা, ভাস্কর্য, প্রাচ্যকলা, কারুশিল্প, মৃৎশিল্প, আলোকচিত্র, স্থাপনা শিল্প, পারফরম্যান্স আর্ট, নিউ মিডিয়া আর্টসহ নানা মাধ্যমে সৃষ্ট কাজ।
প্রদর্শনীটি দর্শনার্থীদের জন্য প্রতিদিন কর্মদিবসে সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা এবং ছুটির দিনে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকবে।
উল্লেখ্য, নবীন চারুকলা প্রদর্শনীর যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৫ সালে। এবারের আয়োজনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ২১ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ৬৮১ জন শিল্পী জমা দেন মোট ১ হাজার ৩৯৩টি শিল্পকর্ম। প্রাথমিক বাছাই শেষে ১৯১ জন শিল্পীর ২১৫টি কাজ স্থান পেয়েছে চূড়ান্ত প্রদর্শনীতে।