জেলা প্রতিনিধি,বরগুনা ।।
বরগুনা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অবস্থিত একমাত্র মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরটি লুটপাটের পর এখন ফাঁকা পড়ে আছে। দীর্ঘ চার মাসে জাদুঘর সংস্কার বা লুট হওয়া সামগ্রী উদ্ধারের কোনো অগ্রগতি হয়নি। সামনে বিজয় দিবস হলেও কবে নাগাদ এটি খুলবে-কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না।
জাদুঘর সূত্রে জানা যায়, এখানে সংরক্ষিত ছিল তিন শতাধিক আলোকচিত্র, বই, স্মরণিকা, মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহৃত পোশাক, ভাঙা কাঠের বন্দুক, রান্নার পাত্রসহ নানা সামগ্রী। পাশাপাশি বেতাগীর ঐতিহাসিক শাহি মসজিদ ও মজিদবাড়িয়া মসজিদের ইট-পাথরের অংশসহ স্থানীয় প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনও ছিল গ্যালারিতে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর হামলাকারীরা জাদুঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। কাচঘেরা প্রতিটি টেবিল ভেঙে ফেলানো হয়, দলিল-দস্তাবেজ ছিঁড়ে ফেলা হয়, অনেক প্রদর্শনী সামগ্রী নিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই সময় কেউ বাধা দেয়নি। পরদিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি দল ক্ষতিগ্রস্ত সামগ্রী সংরক্ষণে উদ্যোগ নিলেও লুট হওয়া মালপত্র আর ফেরত আসেনি।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি চিত্তরঞ্জন শীল বলেন, বরগুনায় ১৯৯৫ সাল থেকে মুক্তিযুদ্ধ-ইতিহাসভিত্তিক আলোকচিত্র সংগ্রহ উদ্যোগ শুরু হয়, যা পর্যায়ক্রমে জাতীয় দিবসের কর্মসূচির অংশ হয়ে ওঠে। ২০১৯ সালের ৩০ নভেম্বর এটি পূর্ণাঙ্গ জাদুঘরে রূপ নেয়। তিনি বলেন, এখানে মুক্তিযুদ্ধ ছাড়াও স্থানীয় ইতিহাস ও বিরল দলিল সংরক্ষিত ছিল; এখন সবই ধ্বংসস্তূপ।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক ইউসুব মৃধা বলেন, নতুন প্রজন্মের জন্য জাদুঘরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেলা প্রশাসন দ্রুত সংস্কার ও লুট হওয়া দলিলপত্র উদ্ধার করবে-এই দাবি আমাদের।
এ বিষয়ে জানতে বরগুনার জেলা প্রশাসক মিজ তাছলিমা আক্তারের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও তিন দিনেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
📊
সংবাদ পরিসংখ্যান চার্ট