আশিকুর রহমান, শিক্ষার্থী, ইবি:
প্রকাশিত হয়েছে শিশুতোষ ছড়ার সংকলন “ছড়ার দেশে”। বইটি যতটা না ২০২৬ সালের অমর একুশে বইমেলা উপলক্ষে প্রকাশিত, তার চেয়েও বেশি শিশুদের জন্য নিবেদিত এক সৃষ্টিশীল প্রয়াস। সাধারণত নবীন লেখকরা বড়দের জন্য লেখা দিয়ে সাহিত্যজীবন শুরু করেন, সেখানে প্রথম বই হিসেবে শিশুদের জন্য ছড়া রচনার সিদ্ধান্ত—কবির নির্মল ও সাহসী মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ।
যদিও “ছড়ার দেশে” শিশুদের জন্য লেখা, তবু এর প্রতিটি কবিতা সমাজজীবনের বাস্তব ছন্দ ও জীবনের সহজ-সুন্দর রূপ তুলে ধরে। যেমন—কবি যখন বলেন,
“সুদিন আসে সবার, শুধু ভাগ্য নির্মম বয়োবৃদ্ধার”,
তখন তা যেমন সমাজের চিত্র তুলে ধরে, তেমনি শিশুদেরও শেখায় বাস্তবতা উপলব্ধি করতে।
“ফল খাই, গুণ গাই” কবিতাটি পড়লে শিশুরা খেলার ছলে ফলের নাম ও বৈশিষ্ট্য জানতে পারে। “ফুলের ঝগড়া” কিংবা “ফুল ছেঁড়া নিষেধ”—এসব কবিতায় ফুলের গল্পে লুকিয়ে আছে সমাজের বাস্তব চিত্র।
“ইচ্ছে করে” কবিতায় ধরা পড়েছে শিশুমনের চিরায়ত কল্পলোক। “সন্ধি করি”, “খেলার সাথী”, “শুনতে মানা”—এসব কবিতা শিশুদের শেখায় দৈনন্দিন জীবনের করণীয়-বর্জনীয় আচরণ। অন্যদিকে “বর্ষা”, “খরা জৈষ্ঠ্য”, “এলো বসন্ত”, “শীতের দিনে” কবিতাগুলো প্রকৃতির সঙ্গে শিশুদের পরিচয় করিয়ে দেয় মুগ্ধতার সঙ্গে।
“দৃশ্যপট”, “গাঁয়ের বঁধু”, “জন্মভূমি” কবিতায় শিশুরা জানবে গ্রামীণ জীবনের সৌন্দর্য ও প্রবাহমান বাস্তবতা। আবার “শাঁকচুন্নির ছা”, “গেছো ভূত”, “আয়নার আড়ি”, “চাঁদের বুড়ি”, “ঘুড়ি” কবিতাগুলো শিশুদের কল্পনা ও শৈশবের আনন্দ জগৎকে বিকশিত করবে।
অন্যদিকে “বাদলা দিনে”, “কাক”, “মা মুরগি”, “ভোলার কুকুর”, “প্যাঁক প্যাঁক হাসটি”—এই কবিতাগুলো শিশুদের মনে জাগাবে প্রাণী ও প্রকৃতিপ্রেম।
সার্বিকভাবে বলা যায়, “ছড়ার দেশে” বইয়ের কবিতাগুলো শিশুদের রঙিন ও অমলিন শৈশবের এক ছন্দময় প্রতিচ্ছবি। ইলেকট্রনিক ডিভাইসের যুগে এমন ছড়া, এমন বই—শিশুদের বইপ্রেম ও শৈশবের নির্মল আনন্দকে ফিরিয়ে আনবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
বই: ছড়ার দেশে
কবি: দীলরুবা ফেরদৌস
প্রকাশকাল: ২০২৬, অমর একুশে বইমেলা