মাহফুজ জাহিদ:
নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত পোশাক শ্রমিক মিনারুল হত্যাসহ মোট পাঁচটি মামলায় জামিন পেয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। রোববার (৯ নভেম্বর) দুপুরে হাইকোর্টের বিচারপতি এ এস এম আব্দুল মোবিন ও বিচারপতি সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ এই জামিনের আদেশ দেন।
আদালতের এ রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের আইনি অনিশ্চয়তার অবসান ঘটলো আইভী ও তার সমর্থকদের জন্য। জামিনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই নারায়ণগঞ্জে আইভীর অনুসারীদের মধ্যে আনন্দ ও স্বস্তির ছায়া নেমে আসে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আইভীর পক্ষে স্ট্যাটাস দিয়ে বলেন, “ন্যায়বিচারের জয় হয়েছে।”
সূত্র জানায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সংঘর্ষে পোশাক শ্রমিক মিনারুল নিহত হওয়ার পর গত মে মাসে আইভীর বিরুদ্ধে মামলা হয়। এরপর ৯ মে দুপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শহরের পশ্চিম দেওভোগে তার নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। ওইদিনই হত্যা মামলায় আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এরপর ২৭ মে মিনারুল হত্যা মামলায় তদন্তের স্বার্থে আইভীকে দুই দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রিমান্ড শেষে আবারও আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে সেই সময় থেকেই আইভীর আইনজীবীরা জামিনের জন্য হাইকোর্টে আবেদন করে আসছিলেন।
আজকের শুনানিতে আইভীর পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী আদালতের কাছে যুক্তি তুলে ধরেন যে, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং আইভী সরাসরি কোনো অপরাধে জড়িত ছিলেন না। শুনানি শেষে আদালত আইভীর জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।
এই রায়ের পর আইভীর পরিবারের সদস্যরাও স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তার এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয় বলেন, “আমরা শুরু থেকেই বিশ্বাস করেছিলাম আপা নির্দোষ। আজ আদালত সেটি প্রমাণ করেছেন।”
আইনজীবীরা জানান, জামিনের এই সিদ্ধান্তের ফলে আইভীর কারামুক্তির প্রক্রিয়া দ্রুতই সম্পন্ন হবে। তবে মামলাগুলোর তদন্ত চলমান থাকায় আইভীকে কিছু শর্ত মেনে চলতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই রায় নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে। কারণ গত কয়েক মাস ধরে আইভীর গ্রেপ্তার নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের মধ্যে ভেতরকার দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। এখন তার জামিন পাওয়া মানে রাজনৈতিক ভারসাম্যে একটি বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
উল্লেখ্য, সেলিনা হায়াৎ আইভী দীর্ঘদিন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সুশাসন, জনসম্পৃক্ততা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তিনি দেশব্যাপী প্রশংসিত হন। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়, যার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল পোশাক শ্রমিক মিনারুল হত্যাকাণ্ড।
আজকের রায়ের পর আইভীর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক যাত্রা নতুন করে গতি পেতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।