রাজনীতিতে 'নভেম্বর নিম্নচাপ': আমন্ত্রণ ছাড়াই তিন বাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ ও বৈধতা নিয়ে ইউনূস সরকার চরম সংকটে.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

রাজনীতিতে 'নভেম্বর নিম্নচাপ': আমন্ত্রণ ছাড়াই তিন বাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ ও বৈধতা নিয়ে ইউনূস সরকার চরম সংকটে..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
রাজনীতিতে 'নভেম্বর নিম্নচাপ': আমন্ত্রণ ছাড়াই তিন বাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ ও বৈধতা নিয়ে ইউনূস সরকার চরম সংকটে..
রাজনীতিতে 'নভেম্বর নিম্নচাপ': আমন্ত্রণ ছাড়াই তিন বাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ ও বৈধতা নিয়ে ইউনূস সরকার চরম সংকটে..
ছবি: সংগৃহীত
****

নভেম্বরের শুরুতেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে 'নিম্নচাপ' সৃষ্টি হয়েছে, যা দেশের ক্ষমতা বলয়ে যেকোনো মুহূর্তে 'এসপার-ওসপার' কিছু ঘটার ইঙ্গিত দিচ্ছে। জুলাই সনদ ইস্যুতে দলের মিত্ররা (জামায়াত ও এনসিপি) পাশে থাকলেও, বিএনপি সহ অন্যান্য গণতান্ত্রিক শক্তি ইউনুস সরকারের প্রতি সম্পূর্ণ আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে তিন বাহিনী প্রধানের অপ্রত্যাশিত সফর, বিচার বিভাগের সক্রিয়তা এবং জুলাই সনদের আইনি দুর্বলতা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল রূপ নিয়েছে।

জুলাই সনদ বিতর্ক এখন আর কেবল আইনি প্রশ্ন নয়, এটি সরাসরি ইউনুস সরকারের বৈধতা এবং টিকে থাকার প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। ঠিক এমন সময় কোনো প্রকার আমন্ত্রণ ছাড়াই সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর তিন প্রধানের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ, এবং রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের হঠাৎ পাবনা সফরের মতো নজিরবিহীন ঘটনাগুলো রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক বাহিনী এখন পরিস্থিতি কাছ থেকে দেখছে এবং ভবিষ্যতে ক্ষমতার সমীকরণে নিজেদের ভূমিকা নিয়ে চিন্তা করছে।

সামরিক বাহিনীর পদক্ষেপ ও রাষ্ট্রপতির সফর

  • অপ্রত্যাশিত বৈঠক: কোনো প্রকার আমন্ত্রণ ছাড়াই তিন বাহিনী প্রধানের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ একটি নজিরবিহীন ঘটনা। সরকারি সূত্র বলছে উদ্যোগটা এসেছে বাহিনীর পক্ষ থেকে। এই বৈঠক নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বরং ভবিষ্যতে ক্ষমতার সমীকরণে সেনাবাহিনী এখন কতটা প্রভাবশালী হবে, তারই ইঙ্গিত।

  • রাষ্ট্রপতির নীরব বার্তা: এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কার্যত বঙ্গভবনে বন্দি থাকা রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের হঠাৎ পাবনা সফরও সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। রাজনৈতিক ইতিহাস অনুযায়ী, বড় কোনো পরিবর্তনের আগে রাষ্ট্রপ্রধানরা সচরাচর দূরত্ব তৈরি করেন।

জুলাই সনদ ও আইনি বিপর্যয়

জুলাই সনদ ইউনুস সরকারের দুর্বলতম জায়গায় পরিণত হয়েছে। ঐক্যমত্য কমিশনের একটি প্রস্তাব হলো, সংবিধান সংস্কার পরিষদ ২৭০ দিনের মধ্যে কাজ শেষ না করলে প্রস্তাবিত সংস্কারগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে যুক্ত হয়ে যাবে।

  • সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মত: সংবিধান বিশেষজ্ঞ স্বাধীন মালিক স্পষ্ট বলেছেন, এমন প্রক্রিয়া বিশ্বের কোথাও নেই, এটি আইনের ইতিহাসে এক ভয়ঙ্কর উদাহরণ। আইনজীবী খুরশিদ আলম খান মনে করেন, এমন ব্যবস্থা আদালতে চ্যালেঞ্জ হলে টিকবে না। ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বরুয়া এটিকে একেবারেই অসাংবিধানিক বলে মন্তব্য করেছেন। এই দুর্বলতাই সরকারের টিকে থাকার ভিত্তিকে ভেঙে ফেলছে।

বিচার বিভাগ ও বিএনপির অনাস্থা

  • আদালতের ভূমিকা: বিচার বিভাগ এখন রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুতে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত মামলার শুনানিীর শেষ দিন এবং প্রধান বিচারপতির ফুল কোর্ট সভা—এই দুটি বড় আয়োজন কাকতালীয় নয়। আদালত এখন রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার দায়িত্ব নিতে বাধ্য হচ্ছে।

  • বিএনপির অনাস্থা: বিএনপি ইউনুস সরকারের প্রতি সম্পূর্ণভাবে আস্থা হারিয়েছে। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইউনুসকে এখন এক ধরনের অস্থায়ী উপদেষ্টা হিসেবে দেখছেন। বিএনপি দাবি করেছে, নির্বাচনের আগে প্রশাসন ও পুলিশে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে এবং বিচার বিভাগেও নিরপেক্ষ বিচারক নিয়োগ দিতে হবে। neutrality নিশ্চিত না হলে আন্দোলনের পথই একমাত্র বিকল্প হবে বলে বিএনপির পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

সরকারের ভয় ও ষড়যন্ত্রের আখ্যান

  • প্রশাসনিক অস্থিরতা: সরকার বর্তমানে 'ভয়ে একদম কুটিপাটি অবস্থা'-এ আছে। এর প্রমাণ হলো বিএনপি নেতা এহসানুল হক মিলনকে বিদেশ যেতে না দেওয়া এবং প্রশাসনের কিছু পদে রাতারাতি বদলি।

  • ষড়যন্ত্রের অভিযোগ: 'আমার দেশ' পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এনায়েত নামের এক ব্যক্তির জবানবন্দীর কথা উঠে এসেছে, যেখানে দেশের ভেতরে ও বাইরে থাকা একটি চক্রকে ইউনুস সরকারের পতনের জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করার কথা বলা হয়েছে। যদিও বিরোধীরা এটিকে সরকারের তৈরি এক নাটক বলে আখ্যায়িত করেছে।

ইউনুস প্রশাসন আওয়ামী লীগকে যেমন নিষিদ্ধ করেছে, তেমনি বিএনপিকেও এ যাত্রায় পুরোপুরি মাইনাস করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাইছে বলে মনে করা হচ্ছে। দেশের ইতিহাসে আরেকটি এক-এগারো ঘটার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে।

没有找到评论


News Card Generator