ইবি প্রতিনিধি:
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) জুলাই গণঅভ্যুত্থানবিরোধী অবস্থান নেওয়া দুই শিক্ষকের পক্ষে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১ নভেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করেন শাখা ছাত্রদলের কর্মী মির্জা শাহরিয়ার ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সহ-সমন্বয়ক সজিব ইসলাম।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭১তম সিন্ডিকেট সভায় জুলাই বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩০ জন শিক্ষক ও কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহজাহান মণ্ডল ও অধ্যাপক ড. রেবা মণ্ডলের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানান।
মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের ব্যক্তিগত সচিবের মাধ্যমে ছাত্র উপদেষ্টা ও প্রক্টরের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন। ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, ইংরেজি, আল ফিকহ অ্যান্ড ল এবং ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীও বহিষ্কৃত শিক্ষকদের পক্ষে আন্দোলনের পরিকল্পনা করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বহিষ্কৃত শিক্ষকদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ শাস্তি নির্ধারণ কমিটি গঠন করবেন। গত বছরের ৪ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনের বিরোধিতা করে আওয়ামীপন্থি শিক্ষক সংগঠন ‘শাপলা ফোরাম’ মিছিল ও সমাবেশ করেছিল। ওই মিছিলে অংশ নেওয়া শিক্ষকদের বিরুদ্ধেই প্রশাসন এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়।
মানববন্ধনে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা বলেন, বহিষ্কৃত দুই শিক্ষক কোনো অন্যায় করেননি। তাদের জুলাইবিরোধী ভূমিকা অতিরঞ্জিত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
জুলাই বিরোধী শিক্ষকদের শাস্তির বিষয়ে সহ-সমন্বয়ক সজিব ইসলাম বলেন, আমাদের বিভাগ নিয়ে সেশন জটসহ অনেক সমস্যায় আছি। আমরা চাই তাদের শাস্তি হোক তবে বিভাগে যেন কোনো খারাপ প্রভাব না পড়ে–সে বিষয়ে প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছি।
ছাত্রদল কর্মী মির্জা শাহরিয়ার বলেন, ৪ আগস্ট ব্যতিত স্যারদের তেমন কোন অন্যায় কিছু দেখিনি। তাই আমরা চাই যাতে লঘু পাপের গুরু শাস্তি না হয়।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে বিতর্কিত ভূমিকার অভিযোগে শিক্ষক ও কর্তকর্তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পরবর্তীতে আমরা আরও একটি কমিটি গঠন করব; ওই কমিটি বিচার করে নির্ধারণ করবে কাকে কতটুকু শাস্তি দেয়া হবে। তবে ফ্যাসিস্টদের বিষয়ে কোনো ছাড় হবে না।”