সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডসহ দেশে সংঘটিত সকল সাংবাদিক হত্যার দ্রুত বিচার, নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন, দশম ওয়েজ বোর্ড গঠন, চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের পুনর্বহাল এবং পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ ২১ দফা দাবিতে কুমিল্লায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১ নভেম্বর) দুপুরে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সামনে কুমিল্লা জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের আয়োজনে এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। এতে বিভিন্ন পত্রিকা ও গণমাধ্যমে কর্মরত শতাধিক সাংবাদিক অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার কার্যকর হয়নি। বারবার সময় নেওয়া হয়েছে, তদন্তের নামে প্রহসন চলছে। বক্তারা প্রশ্ন তোলেন—“যদি সাংবাদিকরাই ন্যায়বিচার না পান, তবে সাধারণ মানুষ নিরাপদ থাকবে কীভাবে?”
কুমিল্লা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শাহীন মির্জার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন—
কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও একাত্তর টিভির নিজস্ব সংবাদদাতা কাজী এনামুল হক ফারুক, সাধারণ সম্পাদক ও মানবজমিনের স্টাফ রিপোর্টার জাহিদ হাসান, প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইয়িদ মাহামুদ পারভেজ, দৈনিক ইনকিলাবের স্টাফ রিপোর্টার সাদিক মামুন, প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দৈনিক আজকের কুমিল্লার সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য শাহআলম সফি, জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও যায়যায়দিন প্রতিনিধি আবদুল জলিল, এবং সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ কুমিল্লার সভাপতি ও সিটিভি নিউজ২৪-এর সম্পাদক ওমর ফারুকী তাপস প্রমুখ।
বক্তারা আরও বলেন, শুধু সাগর-রুনি নয়—মুকুল, দিপক, শিমুল, হুমায়ুন কবীর বাবুসহ বহু সাংবাদিকের হত্যা মামলা আজও বিচারহীন। তারা সাংবাদিক হত্যার বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভাঙতে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেন।
ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, দেশে নবম ওয়েজ বোর্ড ঘোষণা হলেও অধিকাংশ গণমাধ্যম মালিক তা বাস্তবায়ন করছেন না। মাঠপর্যায়ে সাংবাদিকরা জীবন ঝুঁকি নিয়ে কাজ করলেও ন্যায্য পারিশ্রমিক পান না। ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন হলে সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা ও জীবনমান উন্নত হবে বলে তারা মত দেন। পাশাপাশি দ্রুত দশম ওয়েজ বোর্ড গঠনের দাবিও উত্থাপন করা হয়।
সমাবেশে অভিযোগ করা হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে অনেক সাংবাদিককে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বক্তারা বলেন, এটি শুধু শ্রম অধিকার লঙ্ঘন নয়—গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপরও আঘাত। তারা চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের পুনর্বহাল এবং চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, ২১ দফা দাবিগুলো আজ শুধু সাংবাদিক সমাজের নয়, এটি গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলন।
মানববন্ধনে শহরের প্রবীণ ও তরুণ সাংবাদিকরা এক কাতারে দাঁড়িয়ে একাত্মতা প্রকাশ করেন।