ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা ও টঙ্গী থানা বিএনপির আহ্বায়ক, গাজীপুর-৬ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রফেসর বসির উদ্দিন বলেছেন, “বিএনপি ক্ষমতায় এলে হিন্দু জনগোষ্ঠী বা কোনো ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে কেউ জুলুম করতে পারবে না। আমরা আওয়ামী লীগের মতো কারও সম্পদ লুটপাট বা গোপনে নির্যাতন করব না। বিএনপি মানেই সকল ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর নিরাপদ আশ্রয়স্থল।”
তিনি এই বক্তব্য দেন শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় টঙ্গীর আউচপাড়া বেপারী বাড়িতে টঙ্গী থানা বিএনপি আয়োজিত এক সম্প্রীতি সমাবেশে। সেখানে টঙ্গীর বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে বিপুলসংখ্যক সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ অংশ নেন।
প্রফেসর বসির উদ্দিন বলেন, “আমাদের রাজনীতি মানুষের জন্য, ধর্মের জন্য নয়। বিএনপি সব সময় সনাতন ধর্মের ভাই-বোনদের পাশে ছিল, আছে, এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। টঙ্গী এমন একটি এলাকা যেখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য দীর্ঘদিন ধরে বজায় রয়েছে। এই ঐতিহ্য যেন কেউ নষ্ট করতে না পারে, সেজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে একটি মহল নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা চায় নির্বাচন যেন অনুষ্ঠিত না হয়। কিন্তু আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সেই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করব। বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশের সব ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়ের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে।”
সমাবেশে উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ, যেমন শ্রী প্রদীপ কুমার অধিকারী, বিদ্যুৎ কুমার, সুশীল মন্ডল, বিথী রানী, ঊষা রানী ও সুমিতা রানী প্রমুখও বক্তৃতা করেন। তারা বলেন, “আমরা চাই একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশ, যেখানে রাজনৈতিক দলের পরিচয়ে নয়—মানুষ হিসেবে সবাই নিরাপদে থাকতে পারবে।”
সমাবেশে প্রফেসর বসির উদ্দিন সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতাদের সকল যৌক্তিক দাবি-দাওয়া বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে কোনো ধর্মের মানুষকে ভয় নিয়ে বাঁচতে হবে না। বিএনপি জনগণের দল, জনগণের অধিকারই হবে আমাদের রাজনীতির মূল শক্তি।”
শেষে তিনি উপস্থিত সবাইকে আহ্বান জানান, “যারা শান্তি, সম্প্রীতি ও জনগণের অধিকার চান, তারা যেন আগামী নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দেন। বিএনপি ক্ষমতায় এলে জনগণের ভোটের অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা দুটোই ফিরে আসবে।”
এসময় উপস্থিত জনতা স্লোগানে স্লোগানে সভাস্থল মুখরিত করে তোলে—“ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার”, “সম্প্রীতির বাংলাদেশ চাই”, “বিএনপি মানেই ঐক্যের রাজনীতি।”
এই সম্প্রীতি সমাবেশটি প্রমাণ করেছে যে, রাজনীতির ময়দানে এখনো অনেকেই বিশ্বাস করেন—বাংলাদেশের শক্তি তার বহুত্ববাদে, বৈচিত্র্যে, আর পারস্পরিক সম্মানে।