যুবদলকর্মী হত্যাসহ ৫ মামলায় কারাগারে থাকা সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে কেন জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেছে। রুলের জবাব দিতে দুই সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে সরকারকে।
দীর্ঘ তিন মাস ধরে কারাগারে থাকা সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের জামিন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। জুলাই আন্দোলনে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলাসহ মোট ৫টি মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন আবেদন নাকচ হওয়ার পর তিনি উচ্চ আদালতে পৃথকভাবে এই আবেদনগুলো দাখিল করেন।
রোববার দুপুরে বিচারপতি এ এস এম আব্দুল মোবিন ও বিচারপতি সগীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। আদালত সরকারকে দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছে।
বিচারপতি খায়রুল হককে গত ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এই গ্রেপ্তারের পর থেকেই তার আইনি লড়াই চলছে। গত ২০ অক্টোবর তার জামিন আবেদনগুলো শুনানির জন্য উত্থাপন করা হয় এবং আজ ২৬ অক্টোবরের কার্যতালিকায় ৯৮২ থেকে ৯৮৬ নম্বর ক্রমিকে আবেদনগুলো ওঠে।
আইনজীবী মহলে বিচারপতি খায়রুল হকের পরিচিতি তার ঐতিহাসিক একটি রায়ের কারণে। তিনি ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে ছিলেন। তার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় দেন। এই রায়ের মাধ্যমেই বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিলুপ্তি ঘটেছিল।
তবে বর্তমানে তিনি যুবদলকর্মী হত্যাসহ একাধিক গুরুতর মামলায় অভিযুক্ত হয়ে কারাবন্দী আছেন। নিম্ন আদালতে জামিন না মেলায় তিনি হাইকোর্টে এসেছিলেন এবং তার আবেদনের প্রেক্ষিতেই হাইকোর্ট এই রুল জারি করল। এই রুলের পর বিচারপতি খায়রুল হকের জামিনের বিষয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলো।