শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক বৃদ্ধের দুটি আঙুল কুপিয়ে বিচ্ছিন্ন করেছে প্রতিপক্ষ। ঘটনার পাঁচ দিন পরেও সখিপুর থানা পুলিশ মামলা না নেওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আইনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা যখন তলানিতে, ঠিক সেই মুহূর্তে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক নৃশংস হামলার ঘটনায় পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও মামলা নথিভুক্ত করেনি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ। গত ২০ অক্টোবর সোমবার সকালে উপজেলার সখিপুর থানার ডিএমখালি কাদির সরকার কান্দি এলাকায় সংঘটিত এই ঘটনায় এক বৃদ্ধের ডান হাতের দুটি আঙুল সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেন মাদবর (৬৫) বাদি হয়ে সুমন মাদবর (৪০), রুনা লায়লা (২৭) সহ মোট ৭ জনকে আসামি করে সখিপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর ধরে জমিজমা নিয়ে আনোয়ার হোসেন মাদবর ও অভিযুক্ত সুমন মাদবরের মধ্যে বিরোধ চলছিল, যা নিয়ে আদালতে মামলাও বিচারাধীন। ঘটনার দিন সকালে বিরোধপূর্ণ জমির ফসল নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সুমন মাদবর ধারালো অস্ত্র দিয়ে আনোয়ার মাদবরকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। এতে তার ডান হাতের দুটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয় এবং পিঠেও গভীর জখম হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে।
আনোয়ার মাদবরের স্ত্রী বেলাতুন নেসা বলেন, এর আগেও অভিযুক্ত সুমন মাদবর একাধিকবার তাদের মারধর করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার পরপরই তারা থানায় লিখিত অভিযোগ নিয়ে গেলেও পুলিশ মামলা না নিয়ে শুধু একটি অভিযোগ রেখে তাদের চলে যেতে বলে। পরদিন তদন্ত কর্মকর্তা এস আই রিপন নানান অজুহাতে তাদের বিদায় করে দেন এবং শুক্রবার রাত ১০টা পর্যন্ত থানায় বসিয়ে রেখেও মামলা নথিভুক্ত করেননি। ভুক্তভোগী পরিবার প্রতিনিয়ত আসামি পক্ষের হুমকির শিকার হলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
আনোয়ার মাদবরের ভাই আজহারুল মাদবর জানান, তার ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে কোপ দেওয়া হয়েছিল, যা ফেরাতে গিয়েই হাতের আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পাঁচ দিন ধরে মামলার জন্য ঘুরলেও পুলিশ টালবাহানা করছে।
এই বিষয়ে সখিপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই রিপন বলেন, অভিযোগের কপি তার কাছে আছে এবং তিনি বাদীপক্ষের সাথে আসামিদের মিমাংসার চেষ্টা করছেন। এই ধরনের গুরুতর ঘটনায় পুলিশের মিমাংসার উদ্যোগ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি কথা ঘুরিয়ে দেন এবং জানান, ঘটনাটি তদন্তাধীন, তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, সখিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফয়েজ আহমেদ ছুটির অজুহাত দেখিয়ে এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এই পরিস্থিতি পুলিশের চরম গাফিলতি ও আইনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট করছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
তবে সহকারী পুলিশ সুপার (ভেদরগঞ্জ) সার্কেল সৌম্য শেখর পাল এই বিষয়ে আশ্বাস দিয়ে বলেন, এই ধরনের ঘটনায় অবশ্যই মামলা হবে এবং তিনি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।