আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি'র উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল আজ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করবে। নির্বাচনী আসন পুনর্বিন্যাসসহ নির্বাচনসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হবে।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবন ও রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা—উভয় স্থানেই চলছে রাজনৈতিক আলাপ-আলোচনার ব্যস্ততা। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) বেলা ১১টায় বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে দেখা করতে শেরেবাংলা নগরে নির্বাচন কমিশন ভবনে যাবেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলটি নির্বাচনী আসন পুনর্বিন্যাসসহ নির্বাচনসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলবেন বলে জানা গেছে। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গেও রাজনৈতিক দলগুলোর ধারাবাহিক সংলাপ চলছে। গতকাল বুধবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে বসে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতিনিধিদল। এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব মুশফিক উস সালেহীন তথ্যটি নিশ্চিত করে জানান, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সাক্ষাৎ করেছেন।
একই দিনে বুধবার সন্ধ্যায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহেরের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সন্ধ্যা ৬টায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় যাবেন।
এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। অর্থাৎ, গত কয়েক দিনে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপিসহ জামায়াত এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির মতো নবগঠিত দলের সঙ্গেও সংলাপে বসেছেন, যা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কালে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরির ইঙ্গিত বহন করে। সিইসি'র সঙ্গে বিএনপির বৈঠক এবং প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দলগুলোর এই ধারাবাহিক সংলাপ আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।