জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শামীম ওসমানের ছেলে ইমতিনান ওসমান অয়নসহ আটজনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ১১ জানুয়ারির মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নারায়ণগঞ্জে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের ছেলে ইমতিনান ওসমান অয়নসহ আটজনের বিরুদ্ধে আগামী তিন মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে। ট্রাইব্যুনাল আগামী বছরের ১১ জানুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করেছে।
রোববার (১২ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বিচারিক বেঞ্চ এই আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান। তিনি মামলার অগ্রগতি তুলে ধরে ট্রাইব্যুনালের কাছে তদন্ত সম্পন্ন করার জন্য আরও তিন মাস সময় প্রার্থনা করেন। আদালত তার আবেদন মঞ্জুর করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা বাড়িয়ে আগামী ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় প্রদান করেন।
এ মামলায় বর্তমানে একজন আসামি গ্রেপ্তার অবস্থায় রয়েছেন। তাকে রবিবার সকালে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ। মামলার অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হলেও, তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জে জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত আন্দোলনের সময় ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ সময় অন্তত ৪০ জন ছাত্র ও সাধারণ মানুষ নির্মমভাবে নিহত হন। এসব হত্যাকাণ্ডে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের সঙ্গে যুক্ত সশস্ত্র ব্যক্তিরা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, ওই সময়কার ঘটনাগুলো ছিল সংগঠিত, পরিকল্পিত এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সংঘটিত। এজন্য ট্রাইব্যুনাল মামলাটিকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গ্রহণ করে তদন্ত শুরু করে।
সূত্র জানিয়েছে, তদন্তকারীরা ইতোমধ্যে ঘটনার বেশ কিছু প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীর জবানবন্দি নিয়েছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণও সংগ্রহ করেছেন। প্রসিকিউশন আশা করছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পুরো তদন্ত প্রতিবেদন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শামীম ওসমানের ছেলে ইমতিনান ওসমান অয়নের নাম উঠে আসার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই মামলার অগ্রগতি বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে।
ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ অনুযায়ী, তদন্ত সংস্থা এখন অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততা, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহে কাজ করছে। তদন্ত শেষ হলে প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন প্রক্রিয়া শুরু করবে।
যদি তদন্ত প্রতিবেদনে যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে মামলাটি বিচারপর্বে প্রবেশ করবে, যেখানে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রমাণ উপস্থাপন করা হবে।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই মামলাটি শুধু একটি হত্যাকাণ্ডের বিচার নয়; বরং এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে মানবতাবিরোধী অপরাধ মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।